বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ১৭

চৈনিক ইসলাম: মৌলবাদ রুখতে আইন করল শি জিনপিংয়ের চিন

দ্য ওয়াল ব্যুরো: এমনটা হয়তো চিনেই সম্ভব!

চিনের জিংজিয়াং প্রদেশে যখন ক্রমশই মুসলিম মৌলবাদ ও উগ্রপন্থী কার্যকলাপ মাথা তুলছে, তখন ইসলামকেও নিজের মতো করে বদলে নিতে চাইল শি জিন পিং প্রশাসন। আইন পাশ করিয়ে ইসলামের চৈনিক সংস্করণ প্রবর্তনের সিদ্ধান্ত নিল বেজিং। যাকে বলা হচ্ছে, সিনিজাইশেন অব ইসলাম। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হবে। শুধু ইসলাম নয়, আরও চারটি ধর্মের চৈনিকীকরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বেজিং।

বেজিংয়ের সরকারি সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, শনিবার চিনের আটটি ইসলামিক সংগঠনের সঙ্গে বৈঠকের পর এই আইন পাশ করেছে শি জিনপিং প্রশাসন। যার মূল লক্ষ্য হলো, সমাজতন্ত্রের পরিবেশের সঙ্গে ইসলামকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তোলা। তবে আসল উদ্দেশ্য হল, মৌলবাদকে ঠেকানো। কারণ, তা দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ক্রমশ বিপদ ডেকে আনছে বলে বেজিংয়ের মত।

জিংজিয়াং প্রদেশে বেশ কিছুদিন আগে থেকেই প্রবল কড়াকড়ি শুরু করে দিয়েছিল সর্বশক্তিমান শি জিনপিং প্রশাসন। সেখানে ইসলামই উইগর সম্প্রদায়ের ধর্ম। বেজিংয়ের সন্দেহ, এরাই উগ্রপন্থা ও মৌলবাদকে আস্কারা দিচ্ছে। তাই প্রায় দশ লক্ষ মুসলিম উইগরকে ইনডকট্রিনেশন ক্যাম্পে রেখে দেওয়ার জন্য তীব্র সমালোচনাও হয়েছে আন্তর্জাতিক মহল থেকে।

কিন্তু ‘অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা’ সংক্রান্ত বিষয়ে দুনিয়ার সমালোচনাকে চিন অতীতেও পাত্তা দেয়নি, এখনও দিচ্ছে না। বরং সাম্প্রতিক কালে বার বার দেখা গিয়েছে মুসলিম ধর্মগ্রন্থ কোরানের বণ্টন রুখে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। কখনও বা মুসলিমদের দাড়ি রাখার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এমনকী সরকারি ভাবে এই ফরমানও জারি হয়েছে যে ছেলেমেয়েদের এমন নাম রাখা যাবে না যা শুনতে একটু বেশিই ইসলামিক।

প্রসঙ্গত, চিনের সরকারের শীর্ষ স্তর থেকে সাম্প্রতিক কালে একাধিক ঘটনায় বারবার বলা হয়েছে যে ধর্মভীরুতা হল এক ধরনের মানসিক রোগ। তা বর্জন করাই ভাল। দেশে সরকারি ভাবে পাঁচটি ধর্ম স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। সেগুলি, বৌদ্ধ, ক্যাথলিক ও প্রোটেস্ট্যান্ট খ্রীষ্টান, ইসলাম ও তাওবাদ। এর মধ্যে ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের সংখ্যা খুব একটা কম নয়। বর্তমানে চিনে আনুমানিক ২ কোটি মুসলিম বসবাস করেন।

নতুন আইন প্রণয়নের পর জিনপিং প্রশাসনের তরফে বলা হয়েছে, ধর্মীয় কার্যকলাপের উপর নজর রাখা পৃথিবীর সব আধুনিক রাষ্ট্রের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ। বিশ্বায়নের যুগে সব আধুনিক দেশেরই উচিত বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্য বজায় রাখা। কারণ, মৌলবাদ থেকেই আরও বেশি করে ধর্মীয় হিংসা জন্ম নিচ্ছে। ধর্মীয় জাতীয়তাবাদ দেশের বৈধ সরকারের সামনে সংকট তৈরি করছে। এবং সন্দেহ নেই সমাজে অস্থিরতাও বাড়াচ্ছে এক ধরনের ধর্মীয় কার্যকলাপ।

আরও পড়ুন: চিনা ড্রাগনের থাবা থেকে অরুণাচল ছিনিয়ে নিয়েছিলেন এক ভারতীয় সিংহ, শহিদ যশবন্ত সিং

চিনা ড্রাগনের থাবা থেকে অরুণাচল ছিনিয়ে নিয়েছিলেন এক ভারতীয় সিংহ, শহিদ যশবন্ত সিং

 

Shares

Comments are closed.