গোটা বিশ্বের জন্য ভ্যাকসিন তৈরির ক্ষমতা রাখে ভারত, ওরাই পারবে: বিল গেটস

করোনা মোকাবিলায় ফের একবার ভারতের প্রশংসা শোনা গেল মাইক্রোসফট কর্তা বিল গেটসের মুখে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভ্যাকসিন তৈরিতে ভারতের ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলি অনেক এগিয়ে। সারা বিশ্বে কোটি কোটি মানুষের জন্য ভ্যাকসিনের ডোজ তৈরি করার ক্ষমতা রয়েছে ভারতের। করোনা মোকাবিলায় ফের একবার ভারতের প্রশংসা শোনা গেল মাইক্রোসফট কর্তা বিল গেটসের মুখে।

    গত মে মাসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে বিল গেটস বলেছিলেন, করোনা সঙ্কটের মোকাবিলায় ভারতের ভূমিকা প্রশংসনীয়। লকডাউনের বিধিনিষেধ মেনে চলা হোক বা ভ্যাকসিনের গবেষণা, সব ক্ষেত্রেই ভাল কাজ করছে ভারত। কোভিড মোকাবিলায় ভারতের ভূমিকা নিয়ে তৈরি ‘কোভিড-১৯: ইন্ডিয়া’স ওয়ার এগেনস্ট দ্য ভাইরাস’ ডকুমেন্টারিতে বিল গেটস বলেছেন, “অতিমহামারীর মোকাবিলা করা ভারতের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। এত বড় দেশ, তার এত বিপুল জনসংখ্যার মাঝে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া আটকানো সহজ ব্যাপার নয়। সেই কাজ দক্ষতার সঙ্গেই করেছে এবং করার চেষ্টা করছে ভারত।”

    বিল গেটসের কথায়, ভ্যাকসিন তৈরিতে খুব ভাল কাজ করছে ভারতের ফার্মাসিউটিক্যাল ও বায়োটেকনোলজি কোম্পানিগুলো। ড্রাগ ও ভ্যাকসিন তৈরিতে ভারতের সুনাম আছে বিশ্বের বাজারে। ভারতে যে পরিমাণ ভ্যাকসিন ও ওষুধ তৈরি হয়, বিশ্বের কোনও দেশে তেমনটা হয় না। করোনার টিকা তৈরির কাজে ভারতের ফার্মাসিউটিক্যালগুলির সেই প্রচেষ্টাই দেখা যাচ্ছে। ভারত ই, ভারত বায়োটেক, সেরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া, জাইদাস ক্যাডিলা খুব ভাল কাজ করছে। কোটি কোটি ভ্যাকসিনের ডোজ তৈরি করার পরিকাঠামো রয়েছে তাদের।

    ভ্যাকসিন তৈরি ও বিশ্বের বাজারে তা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থা এপিডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস ইনোভেশন (সিইপিআই)-এর সঙ্গে ভারতের যৌথ প্রয়াসের প্রশংসা করেছেন মাইক্রোসফট কর্তা। তাঁর কথায়, “আমি অভিভূত যে ভারত শুধু নিজের কথাই ভাবছে না। সারা বিশ্বে ভ্যাকসিন পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের। এইভাবে সংহতির পথে চললেই অতিমহামারী ঠেকানো সম্ভব হবে।”

    কোভিড ভ্যাকসিন তৈরি করতে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন সংস্থাকে আর্থিক সাহায্য করছে বিল ও মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন। পেনসালিভানিয়ার বায়োটেক ফার্ম ইনোভিও ফার্মাসিউটিক্যালসের ভ্যাকসিন গবেষণায় সামিল বিল গেটসও। জানা গিয়েছে, এই ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন গবেষণার কাছে যাবতীয় আর্থিক অনুদান দিয়েছে বিল এবং মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন এবং কোয়ালিশন ফর এপিডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস ইনোভেশনস। গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিন অ্যান্ড ইমিউনাইজেশন (গাভি)-র সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে বিশ্বের নানা দেশে ভ্যাকসিনের ডোজ পৌঁছে দেওয়ার জন্য আগাম পরিকল্পনাও করে রেখেছেন তিনি। বিল গেটস বলেছেন, কোটি কোটি ভ্যাকসিনের ডোজ চাই। বিশ্বের পিছিয়ে পড়া, উন্নয়নশীল দেশগুলিতে ভ্যাকসিন পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন তিনি। ভ্যাকসিনের বিপণনেও যাতে ন্যয় ও সংহতির পথে চলে বিশ্বের উন্নত দেশগুলি, সেই বার্তা দিয়েছেন তিনি। বিল গেটস বলেছেন, যে বেশি দাম দেবে শুধু তাকেই করোনার ড্রাগ বা ভ্যাকসিন বিক্রি করলে লাভের লাভ কিছুই হবে না। বরং এমনভাবে বিশ্বের সব দেশে ভ্যাকসিন পৌঁছে দিতে হবে যাতে গরিব ও প্রত্যন্ত এলাকায় থাকা মানুষগুলো আগে সুবিধা পায়। অধিকারের পাল্লাটা একদিকেই হেলে থাকলে এ মহামারী আরও ভয়ঙ্কর পর্যায়ে পৌঁছে যাবে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More