করোনা সংক্রমণকে বিশ্বজোড়া মহামারি ঘোষণা করল হু, আগামী দিনে সংক্রমণ ও মৃত্যু প্রচুর বাড়ার আশঙ্কা

'প্যানডেমিক' শব্দটিকে আর কোনওমতেই হাল্কাভাবে নেওয়া যাবে না।

১৮

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণকে প্যানডেমিক তথা বিশ্বজোড়া মহামারী ঘোষণা করল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)।

কোনও রোগ যখন সুবিশাল ভৌগোলিক এলাকার মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে অর্থাৎ একাধিক মহাদেশে যখন একসঙ্গে সেই সংক্রমণের প্রকোপ দেখা যায় তখন তাকে প্যানডেমিক বলা হয়। গ্রিক শব্দ প্যান (pan)-এর অর্থ সবাই এবং ডেমোস (demos) মানে মানুষ।

বুধবার ভারতীয় সময়ে রাত দশটা নাগাদ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তথা হু জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত নোবেল করোনাভাইরাসের প্রকোপে গোটা বিশ্বে মৃত্যু হয়েছে ৪৩০০ মানুষের। তাই চরিত্রগত ভাবে একে এখন প্যানডেমিক তথা বিশ্বজোড়া মহামারী বলা যেতে পারে।

হু-র চিফ টেড্রোস অ্যাডানম একটি সাংবাদিক বৈঠকে এদিন বলেন, “এই সংক্রমণের প্রথম মুহূর্ত থেকে প্রতিটি প্রহরে আমরা নজর রেখে চলেছি। যে তীব্রতায় এখন সংক্রমণ ছড়াচ্ছে এবং তার অভিঘাত খুবই উদ্বেগজনক। সেই কারণে সবদিক বিচার করে আমরা COVID19 নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণকে চরিত্রগত ভাবে প্যানডেমিক তথা বিশ্বজোড়া মহামারী বলে চিহ্নিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

প্রসঙ্গত, সবার প্রথমে চিনের উহান প্রদেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঘটেছিল। কিন্তু তা এখন এশিয়া, ইউরোপ সহ গোটা একাধিক মহাদেশে ছড়িয়েছে। হু-র হিসাব অনুযায়ী গোটা পৃথিবীতে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বর্তমানে ১,১৯,৭১১।

টেড্রোস আজ বলেন, গোটা পৃথিবীর ১১৪টি দেশে ছড়িয়ে গিয়েছে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ। তাঁর কথায়, “আগামী কয়েক দিন ও সপ্তাহে করোনা আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা এবং তার প্রকোপে মৃতের সংখ্যা লাফিয়ে বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আরও বেশি সংখ্যক দেশে এই সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কাও রয়েছে।”

হু-এর চিফ এদিন দীর্ঘ সময় ধরে সাংবাদিক বৈঠক করেন। নভেল করোনাভাইরাস কতটা বিপজ্জনক চেহারা নিয়েছে তা সবিস্তারে বোঝাতে চান সাংবাদিকদের। টেড্রোস বলেন, “প্যানডেমিক কথাটিকে কোনও ভাবেই যেন হাল্কা চালে না নেওয়া হয়। এটা এমন একটা শব্দ, যে এর ফলে অকারণে আতঙ্ক ছড়াতে পারে, আবার হাল্কা ভাবে নিলে তার ফল হতে পারে ভয়ঙ্কর।”

হু-র ডিরেক্টর মাইকেল রায়ান এদিন জানান, কোনও রোগকে প্যানডেমিক ঘোষণা করার পিছনে কোনও অঙ্ক নেই। পরিস্থিতি বিচার করেই তা করা হয়েছে। তাঁর কথায়, “করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হওয়ার পরেও দেখা গিয়েছে বহু দেশ যথাযথ সতর্কতামূলক পদক্ষেপ করেনি। আমরা বার বার তাদের সতর্ক করেছি, রোজ যোগাযোগ করেছি। এখনও সবাইকে বলছি এ ব্যাপারে সবাইকেই গুরুত্ব দিয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে। আর কোনও রকম সময় নষ্ট করার পরিস্থিতি নেই।”

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More