মঙ্গলবার, মার্চ ১৯

পরনে ন’লাখের জ্যাকেট, মুখে হাসি, লন্ডনের রাস্তায় ঘুরছেন নীরব মোদী, ভাইরাল হল ভিডিও

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পরনে গোলাপি শার্ট। তার উপর চাপানো কালো অস্ট্রিচ হাইড জ্যাকেট। এ হেন জ্যাকেটের দাম ভারতীয় টাকায় ৯ লক্ষের কাছাকাছি। কায়দা করে ছাঁটা গোঁফ, একমুখ দাড়ি, মুখে প্রসন্নতার হাসি। লন্ডনের ওয়েস্ট এন্ড এলাকায় বেশ জাঁকজমকে হেঁটে বেড়াচ্ছেন এই ভারতীয়কে দেখে চোখ কপালে উঠেছিল সাংবাদিকদের। নিমেষের মধ্যে সেই ব্যক্তির ভিডিও ও ছোটখাটো একটা সাক্ষাৎকার নিয়ে ফেললেন ইউকে ডেইলি টেলিগ্রাফের সাংবাদিকরা। সেই ভিডিও এখন ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়ায়। ৯ লক্ষ টাকার জ্যাকেট গায়ে চাপিয়ে মুখে হাসি নিয়ে লন্ডনে যিনি ঘুরে বেড়াচ্ছেন, তিনি আর কেউ না, নীরব মোদী।

কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে দেশছাড়া নীরব মোদীকে খুঁজতে কালঘাম ছুটেছে ভারতীয় গোয়েন্দাদের। পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক কেলেঙ্কারির অন্যতম অভিযুক্ত এই ব্যক্তি যে ব্রিটেনে রয়েছেন সে কথা সম্প্রতি সিবিআইকে জানিয়েছিল ব্রিটিশ সরকার। ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকেও নয়াদিল্লিকে এই তথ্য দেওয়া হয়েছিল। তার পরেই সে দেশের ‘ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ম্যাঞ্চেস্টার’-এর কাছে নীরবকে প্রত্যর্পণের জন্য চিঠি পাঠায় সিবিআই এবং ইডি।

ব্রিটিশ টেলিগ্রাফ সূত্রে খবর, সাংবাদিকদের খুব একটা আমল দিতে চাননি নীরব। যে কোনও প্রশ্নেরই ‘নো কমেন্টস’ ছাড়া আর কোনও উত্তর মেলেনি তাঁর থেকে।  দু’এক কথার পরই তিনি ক্যাব ধরে উধাও হয়ে যান। পিছু নেন সাংবাদিকরাও। সূত্রের খবর, দেশছাড়া হওয়ার পর নীরবের চেহারায় আলাদাই জেল্লা এসেছে। সেটা পুলিশ, গোয়েন্দাদের নাগালের বাইরে যাওয়ার জন্য নাকি লন্ডনের জল হাওয়ায় সেটা স্পষ্ট নয়, তবে বেশ খোশমেজাজেই ঘুরে বেড়াতে দেখা গেছে তাঁকে। ৪৮ বছরের হিরে ব্যবসায়ীর ওজন কিছুটা বেড়েছে, handlebar গোঁফ রেখেছেন তিনি। আর সবচেয়ে বড় কথা, ওয়েস্ট এন্ডের সোহো-তে নতুন করে হিরের ব্যবসাও শুরু করেছেন নীরব।

১৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ রয়েছে নীরব মোদীর বিরুদ্ধে। গোয়েন্দাদের টনক নড়ার আগেই দেশ ছেড়ে পালান তিনি।  বিদেশে বসেই তদন্তে সব রকম সাহায্য করবেন বলে জানিয়েছিলেন নীরব। কিন্তু কিছুতেই তাঁকে দেশে ফেরানো সম্ভব হয়নি। আইনজীবী মারফৎ ইডি-কে চিঠি নিয়ে নীরব জানিয়েছিলেন, দেশে নাকি তাঁকে মেরে ফেলার ষড়যন্ত্র হয়েছে। এমনকি এখনও পর্যন্ত যাঁরা গ্রেফতার হয়েছেন তাঁদের পরিবার, ঋণদাতা এবং যে সকল গ্রাহকের গয়নাগাটি বাজেয়াপ্ত করেছে ইডি, তাঁদের তরফেও হুমকি পেয়েছেন তিনি।

পিএনবি জালিয়াতি মামলায় নীরবের পাশাপাশি অভিযুক্ত তাঁর মামা মেহুল চোক্সীও। তিনিও দেশ ছেড়ে গা ঢাকা দিয়েছেন। নীরবের মার্কিন নাগরিক স্ত্রী অ্যামি মোদী, বেলজিয়ামের নাগরিক নীরবের ভাই নিসাল মোদী এবং নীরবের মামা মেহুলের বিরুদ্ধে এফআইআর করেছে সিবিআই।

গত বছরের অগস্টে ব্রিটেন সরকারের কাছে নীরবের গ্রেফতারির ব্যাপারে দু’বার অনুরোধ করা হয়েছিল। একবার সিবিআইয়ের তরফে, পরের বার ইডি-র তরফে আবেদন করা হয়। ব্রিটেন সরকারের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়, এই তদন্তে তারা যথাসম্ভব সাহায্য করবে। নীরবের বিরুদ্ধে রেড কর্নার নোটিসও জারি করে ইন্টারপোল, এবং পৃথিবীর ১৯২টি দেশকে তা জানিয়ে দেওয়া হয়। ওই নোটিসের ভিত্তিতে ওই দেশগুলির সরকার নীরব মোদীকে দেখামাত্র গ্রেফতার করতে পারে।

Shares

Comments are closed.