শুক্রবার, এপ্রিল ২৬

জয়পুরে মৃত ক্রিপটোকারেন্সি সংস্থার মালিক, উধাও পাসওয়ার্ড, ডিজিটাল ফাঁসে বন্দি গ্রাহকদের ১০০০ কোটি টাকা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ক্রিপটোকারেন্সি সংস্থার যাবতীয় লেনদেন হতো তাঁরই অঙ্গুলিহেলনে। সংস্থার পাসওয়ার্ড থেকে ডিজিটাল লেনদেনের খুঁটিনাটি ছিল তাঁর ‘সিক্রেট’ কম্পিউটারে বন্দি। কানাডার জনপ্রিয় ক্রিপটোকারেন্সি সংস্থা কোয়াড্রিগা সিএক্স-এর প্রতিষ্ঠাতা ও কর্ণধার জেরাল্ড কটনের আকস্মিক মৃত্যুতে তাই মাথায় হাত পড়ে গেছে সংস্থার সহস্রাধিক গ্রাহকের। বিপুল অঙ্কের টাকার হদিশ হারিয়ে আইনি জটিলতা বাঁচাতে শেষে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন জেরাল্ডের স্ত্রী।

জয়পুরের একটি অনাথ আশ্রমে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করার জন্য গত বছর ডিসেম্বরে ভারতে আসেন বছর ত্রিশের জেরাল্ড। সেখানেই মৃত্যু হয় তাঁর। এর পরেই কার্যত বিপাকে পড়েছে তাঁর সংস্থা কোয়াড্রিগা সিএক্স। এই মুহূর্তে ওই সংস্থার গ্রাহক সংখ্যা লক্ষাধিক। নগদ ছাড়াও অধিকাংশ গ্রাহকই সংস্থার অ্যাকাউন্টে টাকা রেখেছিলেন প্রযুক্তি দুনিয়ার আধুনিকতম ডিজিটাল মুদ্রা বা ভার্চুয়াল টাকা ক্রিপটোকারেন্সির মাধ্যমে। আর নিরাপত্তার স্বার্থে তাঁদের সমস্ত সম্পত্তির জিয়নকাঠি বা পাসওয়ার্ড জানা ছিল একমাত্র জেরাল্ডেরই। আর সেই পাসওয়ার্ড অনলাইনে নয়, রাখা ছিল কানাডায় তাঁর ব্যক্তিগত কম্পিউটারে।

জেরাল্ডের স্ত্রী জেনিফার রবার্টসন জানিয়েছেন, বাড়িতে বসেই নিজের ব্যক্তিগত কম্পিউটার থেকে সংস্থার যাবতীয় কাজকর্মের তদারকি করতেন জেরাল্ড।  ডিজিটাল লেনদেনের এই বিষয়টা তাঁরও ঠিক জানা নেই।  নোভা স্কটিয়া সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি মাইকেল উড আগামী ৩০ দিন পর্যন্ত আইনি প্রক্রিয়া বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।  তার মধ্যে ওই সিক্রেট পাসওয়ার্ড খুঁজে বার করতে হবে সংস্থাকে।  জেনিফার জানিয়েছেন, তাঁদের সংস্থায় নথিভুক্ত গ্রাহকের সংখ্যা ৩,৬৩,০০০ জন। এঁদের মধ্যে ‘ক্রিপটোকারেন্সি’তে টাকা রেখেছিলেন প্রায় ১,১৫,০০০ জন। জেরাল্ডের অ্যাকাউন্টে এখন বন্দি তাঁদের ১০০০ কোটি টাকা।

সাইবার হানার পর থেকে বিটকয়েন নামটা মানুষের কাছে যথেষ্ট পরিচিত। বাস্তবে বিটকয়েনের কোনও অস্তিত্ব না থাকলেও ভার্চুয়াল দুনিয়ায় তার উপস্থিতি এই মুহূর্তে যথেষ্ট চর্চিত বিষয়।শুধুমাত্র বিটকয়েনই নয়। ইথেরিয়াম, লিটকয়েন, ডগকয়েন, মনেরোর মতো যে কোনও ডিজিটাল মুদ্রায় লেনদেন করা সম্ভব। যে কোনও দুই সংস্থা বা ব্যক্তির ক্রিপটোকারেন্সি অ্যাকাউন্ট থাকলে তাঁরা কোনও নগদ ছাড়াই নিজেদের মধ্যে ক্রিপটোকারেন্সি লেনদেন করতে পারেন।  কোয়াড্রিগাতে বিটকয়েন, লাইটকয়েন আর এথেরিয়াম নামের এই তিন ধরনের ‘ডিজিটাল মুদ্রা’ লেনদেনের ব্যবস্থা ছিল। পাসওয়ার্ড ছাড়া যার হদিশ পাওয়া কোনও মতেই সম্ভব নয়।

 

Shares

Comments are closed.