করোনা সারানোর পরেও ফিরে আসছে শ্বাসকষ্ট! মানসিক অবসাদে আক্রান্ত হচ্ছে রোগী, নতুন গবেষণায় দাবি

‘জার্নাল অব আমেরিকান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন’ (JAMA) সায়েন্স জার্নালে এই গবেষণার রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। গবেষকরা বলছেন, কোভিড সংক্রমণ সারিয়ে উঠেছেন এমন রোগী যাঁদের করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে, তাঁদের পর্যবেক্ষণে রেখে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা সারলেও সংক্রমণ ফের ফিরে আসার সম্ভাবনা আছে কিনা এ ব্যাপারে বিজ্ঞানীরা এখনও নিশ্চিত তথ্য দিতে পারেননি। তবে সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, কোভিড সংক্রমণ সারিয়ে ওঠার পরেও কিছু উপসর্গ থেকেই যাচ্ছে রোগীদের শরীরে। বিশেষত শ্বাসকষ্ট এবং মানসিক অবসাদ। শ্বাসের সমস্যা কমলেও পুরোপুরি নির্মুল হচ্ছে না, আবার মানসিক অবসাদ, ভুলে যাওয়া ইত্যাদি উপসর্গও থেকে যাচ্ছে। সংক্রমণ সারিয়ে ওঠা এমন ১৭৯ জন রোগীকে পর্যবেক্ষণে রেখে এই রিপোর্ট সামনে এনেছেন ইতালির গবেষকরা।

    ‘জার্নাল অব আমেরিকান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন’ (JAMA) সায়েন্স জার্নালে এই গবেষণার রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। গবেষকরা বলছেন, কোভিড সংক্রমণ সারিয়ে উঠেছেন এমন রোগী যাঁদের করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে, তাঁদের পর্যবেক্ষণে রেখে এই তথ্য পাওয়া গেছে। দেখা গেছে, কারও ক্ষেত্রে সংক্রমণ সারিয়ে ওঠার সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যে নতুন কোনও উপসর্গ দেখা দেয়নি। কিন্তু তারপর থেকেই ফের একটু একটু করে শ্বাসের সমস্যা শুরু হয়েছে। মানসিক অবসাদেও ভুগতে শুরু করেছেন অনেক রোগী। গবেষকরা এমনও বলছেন, জ্বর, শুকনো কাশি এমনকি পেশীর ব্যথাও ফিরে আসতে দেখা গেছে।

     

    কোভিড সারিয়ে ওঠা রোগীদের পর্যবেক্ষণে রেখে কী দেখেছেন বিজ্ঞানীরা

    ইতালির গবেষকরা বলছেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)-র গাইডলাইন মেনে কোভিড সারিয়ে ওঠা রোগীদের ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে রাখার পরে ফের তাঁদের শারীরিক পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয়। এমন ১৭৯ জন কোভিড রোগীকে বেছে নেওয়া হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে ১৪৩ জন রোগীকে টানা দু’ মাস পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। দেখা যায় তাঁদের মধ্যে ১৮ জন (১২.৬%)সম্পূর্ণভাবে সংক্রমণ সারিয়েছেন অর্থাৎ তাঁদের শরীরে আরও কোনও উপসর্গ নেই। ৩২% রোগীর শরীরে ২-৩ রকম উপসর্গ ফের দেখা গেছে। ৫৫% রোগীর আরও বেশি উপসর্গ দেখা গেছে যার মধ্যে শ্বাসকষ্ট, পেশীর ব্যথা, বুকে ব্যথা, খাদ্যনালীর সংক্রমণ ইত্যাদিও রয়েছে।

    ডক্টর কে শ্রীনাথ রেড্ডি

    আচমকাই গন্ধ নিতে না পারা এবং মুখের স্বাদ চলে যাওয়ার সমস্যাও ফিরে এসেছে অনেকের ক্ষেত্রেই। এই গন্ধ না পাওয়াকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বলে অ্যানোসমিয়া (Anosmia) । স্বাদ চলে যাওয়া বা স্বাদকোরকের কার্যক্ষমতা চলে যাওয়াকে বলে  অ্যাগিউসিয়া (Ageusia)  করোনাভাইরাস মানুষের শ্বাসযন্ত্রকে পুরোপুরি বিকল করে দেওয়ার চেষ্টা করে যার কারণেই তীব্র শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। গবেষকরা বলছেন,  কোনও কোনও রোগী হাইপোসমিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। যার ফল গন্ধ পাওয়ার ক্ষমতা পুরোপুরি চলে যাওয়া। রোগী আর খারাপ-ভাল গন্ধের মধ্যে ফারাক করতে পারবে না। বিজ্ঞানীরা বলছেন এই ভাইরাস আপার রেসপিরেটারি ট্র্যাক্ট সিস্টেমে সংক্রমণ ঘটায়। যার কারণেই অ্যানোসমিয়া দেখা দেয়। সংক্রমণ সারিয়ে ওঠার পরেও এই উপসর্গ ফিরে আসতে দেখা গেছে।

    পাবলিক হেলথ ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একজিকিউটিভ গ্রুপের সদস্য ডক্টর কে শ্রীনাথ রেড্ডি বলেছেন, অনেক কোভিড রোগীই হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরে সম্পূর্ণভাবে সেরে উঠেছেন।  আবার দেখা গেছে, অনেকে ক্রনিক রোগেও আক্রান্ত হয়েছেন।  আরও বেশি সংখ্যক রোগীকে পর্যবেক্ষণে রেখে পরীক্ষা করে এই বিষয়ে বিশদে তথ্য দেওয়া সম্ভব হবে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More