শুক্রবার, নভেম্বর ১৫

চিন-পাকিস্তান বন্ধুত্ব পাথরের মতোই দৃঢ় ও মজবুত, কাশ্মীরে নজর রাখলেও ইমরানের পাশেই থাকব: শি জিনপিং

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মঙ্গলবারই বলেছিলেন কাশ্মীর ইস্যুতে ভারতের পাশে আছি। বুধবার পুরো ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে সেই পাকিস্তানকেই সমর্থন করলেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ভারত সফরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় কাশ্মীর ‘মূল বিষয়’ হবে এটা স্পষ্ট করেছেন প্রেসিডেন্ট জিনপিং। পাশাপাশি, এও জানিয়ে দিয়েছেন কাশ্মীর ইস্যুতে ইসলামাবাদের পাশেই থাকবে বেজিং।

বর্তমানে বেজিং সফরে রয়েছেন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। বুধবার ছিল প্রেসিডেন্ট জিনফিং-এর সঙ্গে তাঁর বৈঠক। চিনের সংবাদ মাধ্যম জিনহুয়া নিউজ সূত্রে খবর, ওই বৈঠকেই জিনফিং বলেছেন, ‘‘কোনটা ঠিক আর কোনটা ভুল, সেটা স্পষ্ট।’’ কাশ্মীর পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা হয়েছে। তবে এই ব্যাপারে দীর্ঘদিনের বন্ধু পাকিস্তানের পাশেই থাকবে চিন।

আন্তর্জাতিক মহলে পাকিস্তানের মিত্র এবং ভারত বিরোধী বলেই পরিচিত চিন। গতকালের বৈঠকে সেই বার্তা আরও স্পষ্ট করে জিনপিং বলেন, ‘‘আন্তর্জাতিক মহলের চাপ আসুক বা আঞ্চলিক পরিস্থিতিতে যত বড় বদলই হোক, যে কোনও সঙ্কটময় অবস্থায় চিন-পাকিস্তানের বন্ধুত্ব কখনওই ভাঙেনি, আর ভাঙবেও না। এই সম্পর্ক পাথরের মতোই দৃঢ় ও মজবুত। বেজিং-ইসলামাবাদ পারস্পরিক সহযোগিতার দরজা কোনও দিনই বন্ধ হবে না।”

কাশ্মীর প্রসঙ্গে চিনের অবস্থান স্পষ্ট হওয়ার পরে বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রবীশ কুমার বলেন, “ইমরান-জিংপিং বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে সেটা আমরা শুনলাম। ভারত কিন্তু কাশ্মীর প্রসঙ্গে নিজের অবস্থান বদলাবে না। কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ এবং এই ব্যাপারে ভারতের ভাবনা কী, সেটা চিনের প্রেসিডেন্ট খুব ভালো করেই জানেন। কাজেই বাইরের কেউ এই ব্যাপারে নাক গলাক সেটা আমরা চাই না।”

আগামীকাল থেকে দু’দিনের ভারত সফরে আসছেন প্রেসিডেন্ট জিনপিং। ১১ ও ১২ অক্টোবর শুক্র ও শনিবার তামিলনাড়ুর চেন্নাইয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বেসরকারি বৈঠক (ইনফরমাল সামিট) হবে বলে জানিয়েছে ভারতের বিদেশমন্ত্রক। বেসরকারি সফর হবে বলে প্রেসিডেন্ট জিনপিং-এর সঙ্গে থাকবেন সেখানকার কমিউনিস্ট পার্টির পলিটব্যুরো সদস্যরাও। কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মোদী-শি বৈঠকে অবধারিত ভাবেই কাশ্মীর প্রসঙ্গ আসবে। যদিও আলোচনার ফল নিয়ে অতিরিক্ত আশাবাদী নন কেন্দ্রীয় কর্তারা। বরং সীমান্ত-জট কাটানো, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে ভারতের ঘাটতির মতো নানা বিষয় নিয়ে আলোচনাই সেখানে প্রাধান্য পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Comments are closed.