শুক্রবার, এপ্রিল ২৬

অবাক কাণ্ড! বাটির মধ্যে হাত-পা ছুড়ে ব্রেক ডান্স করছে স্কুইড, তাই চেটেপুটে খাচ্ছে জাপানিরা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সব্জি, বেল পেপার দিয়ে সাজানো বাটি। সব্জির আস্তরণ সরালে চোখে পড়বে বাটির তলানিতে রয়েছে ভিনিগার মাখানো ভাত। আর সব্জির উপরে দিব্যি নাচ করে যাচ্ছে একটা জ্যান্ত স্কুইড। আসলে সে এমনি নাচ করছে না। উপর থেকে সয় সস তার মাথায়, শুঁড়ে ঢাললেই সে নানা ভঙ্গিমায় হাত পা ছুড়ে যাচ্ছে। তবে স্কুইডের নাচকে তেমন ভাবে পাত্তা না দিয়ে, চপ স্টিক দিয়ে সেই স্কুইডের আপাতমস্তক সস ও সব্জি মাখিয়ে খেয়ে চলেছেন জাপানিরা। ২০১০ সালে এমন একটা ভিডিও ভাইরাল হতেই সাড়া পড়ে গেছিল নেটিজেনদের মধ্যে।

সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে হরেক প্রশ্নের ভিড়। কি এই খাবার? জ্যান্ত মাছ চেটেপুটে খাওয়ার চল রয়েছে জাপানিদের মধ্যে, ‘সুসি’ তো জাপানের গণ্ডি পেরিয়ে এখন অনেক দেশেই বেশ উপাদেয়। তাই বলে স্কুইড? তাও এমন নৃত্যরত স্কুইড?

নামী রেস্তোরাঁ থেকে স্ট্রিট ফুড, জাপানে এখন রমরম করে চলছে ভাত-সব্জি-ডান্সিং স্কুইডের ডিস। নামও বেশ সরেস ‘ডান্সিং জম্বি স্কুইড।’ স্থানীয়দের ভাষায় ‘ওদোরিগুই’ মানে ‘ডান্সিং ইটিং’। তবে মজার কথা হল এই স্কুইড কিন্তু মোটেই জীবন্ত নয়, শুধু তার হাত-পা থুড়ি Tentacles  গুলোই সজীব। ডান্সিং স্কুইডের রেসিপি এখন ইউ টিউবে ভাইরাল। সেখানে দেখা গেছে স্কুইডের মাথাটা কেটে, চামড়া ছাড়িয়ে পরিষ্কার করে শুধু শুঁড়ের জায়গাটা আলাদা করে বাটিতে সাজানো হয়। অন্যান্য অংশগুলো সব্জির সঙ্গে রান্না হয়ে যায়।

তাহলে এটা কী করে সম্ভব?  ইউনিভার্সিটি অব ভার্জিনিয়ার রসায়নের অধ্যাপক চার্লস গ্রিসম্যান বলেছেন, মাথা কেটে ফেললেও স্কুইডের শুঁড়গুলো জীবন্ত থাকে। কারণ তার মধ্যেকার অ্যাডেনোসিন ট্রাইফসফেট (Adenosine triphosphate/ATP) যা মূলত পেশির মধ্যে শক্তি সরবরাহ করে, সেটা মৃত্যুর পরেও অ্যাকটিভ থেকে যায়। সয় সসের মধ্যেকার সোডিয়াম ক্লোরাইডের সংস্পর্শে এলে পেশির মধ্যে স্নায়বিক কোষগুলো উজ্জিবীত হয়। নতুন করে শক্তি সরবরাহ করে এটিপি, তাই মনে হয় স্কুইড নাচ করছে।

শিরাসু মাছের ডিস পছন্দ করে জাপানিরা

স্কুইড ছাড়া শিরাসু নামে একরকমের ছোট মাছও খুব পছন্দ করে জাপানিরা। এই মাছও জ্যান্ত প্লেটে সাজিয়ে দেওয়া হয়। মধ্য হনশু শিজুওকায় জনপ্রিয় এই ডিস।

“টেবিলের উপর সাজিয়ে দেওয়া হয় একটা বড় বাটি, তাতে ভেসে চলেছে ছোট ছোট ইল মাছের মতো শিরাসু। কখনও আবার পোচের সঙ্গে সাজিয়ে দেওয়া হয় এই ছোট মাছ, সবই জ্যান্ত। উপর থেকে ছড়িয়ে দেওযা হয় ভিনিগার। এর স্বাদ অনবদ্য,” জানিয়েছেন ভোজনরসিক ডেভিড লওরি।

‘ওদোরিগুই’ বা ডান্সিং স্কুইড কিন্তু জাপানেরই নানা প্রান্তে নানা নামে পরিচিত। ডেভিড জানিয়েছেন, ১৯৮৫-১৯৯০ সাল পর্যন্ত জাপানে জীবন্ত স্কুইডের ডিস খুবই উপাদেয় ছিল। এর নাম ছিল ‘ইকিজুকুরি’। গোটা স্কুইড পরিষ্কার করে ভাতের সঙ্গে জ্যান্ত সার্ভ করা হত। এখনও জাপানের অনেক রেস্তোরাঁতেই এই ডিস পাওয়া যায়। জাপানের কিয়োটো সুসি রেস্তোরাঁয় এখনও একটা খাবার খুব জনপ্রিয়। ডান্সিং স্কুইডের মতোই ‘কাটসু ইকা ওদোরি’। স্কুইডের মাথা কেটে ফেলে শুধু এর শুঁড়গুলো দিয়ে টপিং করা হয় নুডলস বা ভাতের উপর। তাই তৃপ্তির সঙ্গে খান জাপানিরা।

Shares

Comments are closed.