কুড়ির শেষেই চলে আসবে করোনার টিকা, আশা দিলেন অ্যান্থনি ফৌজি

“ভ্যাকসিনের ট্রায়ালে হুড়োহুড়ি করছে রাশিয়া ও চিন। আমি আশা করব তারা প্রিক্লিনিকাল ট্রায়াল ও সেফটি ট্রায়ালে নিশ্চিত হয়েই মানুষের শরীরে টিকা দিচ্ছে। বিশ্বের বাজারে ভ্যাকসিন আনার আগে তা মানুষের জন্য কতটা নিরাপদ ও সুরক্ষিত হবে সেটা আগে যাচাই করা দরকার,” বলেছেন ফৌজি।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: কুড়ির শেষেই চলে আসবে কোভিড ভ্যাকসিন। দেরি হলেও একুশের শুরু। আশ্বস্ত করলেন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশিয়াস ডিজিজের ডিরেক্টর ও হোয়াইট হাউসের মুখ্য স্বাস্থ্য উপদেষ্টা এপিডেমোলজিস্ট অ্যান্থনি ফৌজি।

    ফৌজি কিছুদিন আগেই অবশ্য বলেছিলেন ভ্যাকসিন আসতে এখনও ঢের দেরি। মানুষের শরীরে পরীক্ষা শেষ করে সময়ান্তরে পর্যবেক্ষণের পালা চুকিয়ে বিশ্বের বাজারে ভ্যাকসিন আসতে কম করেও এক বছর সময় লাগবে। তবে ফৌজি শুধু নন, আরও বেশ কিছু সায়েন্স রিসার্চ ফার্ম, বায়োটেকনোলজি কোম্পানি ও ফার্মাসিউটিক্যাল ইউনিটের বক্তব্য এমনটাই ছিল। সেই মতই বদলে ফৌজি ফের বলেছেন, যেভাবে কোভিড ভ্যাকসিনের ট্রায়াল দ্রুত গতিতে চলছে, তাতে আশা করাই যায় বছর শেষেই করোনার টিকা চলে আসবে হাতে।

    ব্রিটেনের অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রজেনেকার সঙ্গে ভ্যাকসিন দৌড়ে সমান তালে পাল্লা দিচ্ছে আমেরিকার দুই ফার্মা জায়ান্ট মোডার্না বায়োটেক ও ফাইজার। মোডার্নার তৃতীয় স্তরের ভ্যাকসিন ট্রায়াল চলছে। আমেরিকার বিভিন্ন জায়গায় অন্তত ৩০ হাজার জনকে টিকা দেওয়ার বৃহত্তর কর্মসূচী নেওয়া হয়েছে। মোডার্নার এমআরএনএ (মেসেঞ্জার আরএনএ) ভ্যাকসিন তথা এমআরএনএ-১২৭৩ ভ্যাকসিন ক্যানডিডেটর গবেষণা ও ট্রায়ালের দায়িত্বে শুরু থেকেই রয়েছে ফৌজির ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ। ফৌজির বক্তব্য, মোডার্না ভ্যাকসিনের প্রথম পর্যায়ের ট্রায়ালের পরে দেখা গেছে মানুষের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। তৃতীয় স্তরে ট্রায়ালের রিপোর্ট দেখেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অন্যদিকে, জার্মান সংস্থা বায়োএনটেকের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে জার্মানি. অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল সহ বিশ্বের কয়েকটি দেশের ১২০টি রাজ্যে টিকার ট্রায়াল শুরু করেছে মার্কিন ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি ফাইজার। মোডার্নার মতোই আরএনএ (রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড) ভ্যাকসিন তৈরি করছে ফাইজার। এই সংস্থার তৈরি ভ্যাকসিন নিয়েও আশাবাদী অ্যান্থনি ফৌজি।

    “ভ্যাকসিনের ট্রায়ালে হুড়োহুড়ি করছে রাশিয়া ও চিন। আমি আশা করব তারা প্রিক্লিনিকাল ট্রায়াল ও সেফটি ট্রায়ালে নিশ্চিত হয়েই মানুষের শরীরে টিকা দিচ্ছে। বিশ্বের বাজারে ভ্যাকসিন আনার আগে তা মানুষের জন্য কতটা নিরাপদ ও সুরক্ষিত হবে সেটা আগে যাচাই করা দরকার,” বলেছেন ফৌজি। তাঁর বক্তব্য, মস্কোর গ্যামালেয়া ইনস্টিটিউটের ভ্যাকসিনে সম্মতি মিলতে পারে ১০ অগস্ট। দ্বিতীয় পর্যায়ের ট্রায়ালের পরেই রাশিয়ার সরকার ভ্যাকসিনের প্রয়োগে অনুমতি দিচ্ছে। ফৌজির বক্তব্য, যে কোনও ভ্যাকসিনের প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের ট্রায়ালে শুধু দেখা হয় মানুষের শরীরে তার প্রভাব কতটা। রোগ প্রতিরোধ শক্তি কতটা তৈরি হচ্ছে। সেই হিসেবেই তৃতীয় পর্যায়ে বহু সংখ্যক মানুষকে ভ্যাকসিন দিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই তিন পর্যায়ের পর্যবেক্ষণ ঠিক করে না করলে পরবর্তীকালে মানুষের শরীরে ভ্যাকসিনের প্রভাব ইতিবাচক নাও হতে পারে।

    প্রথম ভ্যাকসিনেই যে ভাইরাল নির্মূল হবে এমন আশার কথা শোনাননি কোনও বিজ্ঞানীই। ফৌজি বলেছিলেন, সার্স-কভ-২ ভাইরাস এমনভাবে তার জিনের গঠন বিন্যাস বদলে ফেলছে যে তার প্রতিটি নতুন ভাইরাল স্ট্রেনকে কব্জা করার মতো প্রতিষেধক তৈরি হয়নি। তবে প্রথম ভ্যাকসিন এলে করোনা সংক্রমণের কারণে মানুষের শরীরে যে জটিল রোগ তৈরি হচ্ছে তাকে রোখা যাবে বলেই আশাবাদী তিনি। শিকাগো ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরাও বলেছেন, করোনাভাইরাসকে নির্মূল করা না গেলেও, ভ্যাকসিন মৃত্যুহার কমাবে। সারা জীবনের মতো সুরক্ষা দিতে না পারলেও, একটা পর্যায় অবধি সংক্রমণজনিত জটিল রোগের ঝুঁকি কমাবে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More