সাত বছর আগেই উহানের ল্যাবে করোনার মতো ভাইরাল স্ট্রেন নিয়ে কাজ হচ্ছিল, বিস্ফোরক দাবি ঘিরে ফের চাঞ্চল্য

সানডে টাইমসের এই সাম্প্রতিক রিপোর্ট সামনে আসার পরে ফের তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়েছে। করোনা রাসায়নিক মারণাস্ত্র কিনা সে প্রশ্নও উঠতে শুরু করেছে আন্তর্জাতিক মহলে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: উহানের বায়োসেফটি ল্যাবরেটরিতে সাত বছর আগেই করোনাভাইরাসের মতো ভাইরাল স্ট্রেন নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পরিত্যক্ত খনি থেকে বাদুড়ের শরীরের নমুনা পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল বায়োসেফটি ল্যাবে। সেই ভাইরাল স্ট্রেন নিয়ে গবেষণাও চলছিল। সানডে টাইমসের এই সাম্প্রতিক রিপোর্ট সামনে আসার পরে ফের তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়েছে। করোনা রাসায়নিক মারণাস্ত্র কিনা সে প্রশ্নও উঠতে শুরু করেছে আন্তর্জাতিক মহলে।

    করোনাভাইরাসের উৎস কী? এই প্রশ্নের সঠিক মীমাংসা এখনও হয়নি। আমেরিকা দাবি করেছিল উহান ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজির বায়োসেফটি লেভেল-৩ ল্যাবরেটরি থেকে ছড়িয়েছিল এই ভাইরাস। অভিযোগ উঠেছিল, রাসায়নিক মারণাস্ত্র তৈরির চেষ্টা হচ্ছিল বায়সেফটি ল্যাবে, সেখান থেকেই কোনওভাবে ছড়িয়ে পড়ে ভাইরাস। আবার ভিন্ন মতও রয়েছে। বিজ্ঞানীরা বলেছিলেন, করোনার উৎস আসলে প্রকৃতিই। এই ভাইরাস নতুন নয়। বিটা-করোনাভাইরাসের পরিবারেরই সদস্য সার্স-কভ-২ যা সংক্রামক হয়ে মহামারীর মতো ছড়িয়ে পড়েছে।

    ‘ব্যাট ওম্যান’ শি ঝেংলি

    করোনা বিপর্যয়ের এই পরিস্থিতিতে ভাইরাসের উৎসের প্রসঙ্গ কিছুটা আড়ালে চলে গেলেও ফের সানডে টাইমসের রিপোর্টে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। কী রিপোর্ট দিয়েছে সানডে টাইমস? তারা দাবি করেছে উহান ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজির সংক্রামক রোগ বিভাগের এক বিশেষজ্ঞের মতামত নিয়েই এই রিপোর্ট সামনে আনা হয়েছে। বলা হয়েছে, ২০১৩ সালে করোনাভাইরাসের মতোই সংক্রামক ভাইরাল স্ট্রেন নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা চলছিল বায়োসেফটি লেভেল-৩ ল্যাবরেটরিতে। দক্ষিণপশ্চিম চিনের একটি পরিত্যক্ত খনিতে বাদুড়ের মলমূত্র, মৃত বাদুড়ের ছড়িয়ে ছটিয়ে থাকা দেহ পরিষ্কার করতে গিয়ে ছ’জন খনি শ্রমিক অজানা সংক্রমণে আক্রান্ত হন। তাঁদেরও নিউমোনিয়ার মতো উপসর্গ দেখা গিয়েছিল। ওই ছ’জনের মধ্যে তিনজনের মৃত্যু হয় সংক্রমণে। ওই খনি থেকেই পরে নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে যাওয়া হয় উহান ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজিতে। সেখানে গবেষকরা করোনার মতোই ভাইরাল স্ট্রেনের খোঁজ পান ও সেই নিয়ে পরীক্ষা শুরু করেন।

    উহান ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজির গবেষক শি ঝেংলিও নাকি এই খবর অস্বীকার করেননি। শি বাদুড় ও সার্স-কভ-২ ভাইরাস নিয়েই গবেষণা করছেন। বিশেষত বাদুড় নিয়েই তাঁর কাজ। তাঁকে ‘ব্যাট ওম্যান’ বলেন বিজ্ঞানীরা। তিনি জানিয়েছেন, ইউনান প্রদেশেও একই রকম খনি থেকে বাদুড়ের দেহ, মলমূত্র বিশ্লেষণ করে নতুনরকম ভাইরাল স্ট্রেন পাওয়া গিয়েছিল। এর নাম RaTG13। শি বলেছেন, করোনার সঙ্গে এর ৯৬.২% মিল। এই ভাইরাল স্ট্রেনেরই জিনের গঠন বদলেছে কিনা বা বদলানো হয়েছে কিনা সেই নিয়েই এখন চর্চা শুরু হয়েছে। যদিও উহান ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজির ডিরেক্টর দাবি করেছেন, RaTG13 এর মতো কোনও ভাইরাল স্ট্রেনের কপিই নেই ল্যাবে। এই অভিযোগ ভিত্তিহীন।

    করোনার উৎস নিয়ে কী কী বিতর্ক হয়েছিল?

     

    ২০১৫ সালে রেডিও ফ্রি এশিয়ার একটি রিপোর্টে শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। তাদের দাবি ছিল উহান ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজিতে ভয়ঙ্কর, প্রাণঘাতী সব ভাইরাস নিয়ে কাজ করছেন গবেষকরা।

    পরবর্তীকালে ইজরায়েলি সেনা গোয়েন্দা দফতরের প্রাক্তন প্রধান লেফটেন্যান্ট ড্যানি শোহাম বলেছিলেন, বায়ো-ওয়ারফেয়ারের জন্য তৈরি হচ্ছে চিন। জিনের কারসাজিতে এমন ভাইরাস তৈরি করা হচ্ছে যার প্রভাব হবে সাঙ্ঘাতিক। প্রতিরোধের আগেই মহামারীর চেহারা নেবে এইসব ভাইরাসের সংক্রমণ। যে দেশের উপর আঘাত হানা হবে, সেখানে মৃত্যুমিছিল শুরু হয়ে যাবে। গত বছর ৩১ ডিসেম্বর থেকেই উহানে ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়েছে এই তথ্য মানতে রাজি ছিলেন না ইজরায়েলি মাইক্রোবায়োলজিস্টরা। তাঁদের দাবি ছিল, অনেক আগে থেকেই নোভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়েছিল। ডাক্তাররা বলেছিলেন উহান নিউমোনিয়া। রোগীদের আইসোলেশন ওয়ার্ডে রেখে চুপিচুপি চিকিৎসা চলছিল।

    ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয়েস কলেজের আইনের অধ্যাপক ড. ফ্রান্সিস বয়েল বলেছিলেন, উহানের ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজির বায়োসেফটি লেভেল ফোর ল্যাবোরেটরিতে অতি গোপনে রাসায়নিক  মারণাস্ত্র বানানোর প্রক্রিয়া চলছে। সেখান থেকেই ছড়িয়েছে এই ভাইরাসের সংক্রমণ। সি-ফুড মার্কেটের ব্যাপারটা নেহাতই চোখে ধুলো দেওয়ার চেষ্টা।

    মার্কিন সেনেটর টম কটন দাবি করেছিলেন, চিন জীবাণুযুদ্ধের জন্য বানাচ্ছিল ওই ভাইরাস। চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং কথাটা লুকোতে চাইছেন কারণ আন্তর্জাতিক আইনে জীবাণুযুদ্ধ নিষিদ্ধ।

    করোনাভাইরাস কীভাবে ছড়িয়েছে সেই নিয়ে আরও একটি বিস্ফোরক দাবি করেছিলেন অরিজিন অব দ্য ফোর্থ ওয়ার্ল্ড ওয়ার’-এর লেখক জে আর নিকিস্ট। তাঁর দাবি ছিল,  কানাডার পি৪ ন্যাশনাল মাইক্রোবায়োলজি ল্যাবোরেটরি থেকে করোনাভাইরাসের স্যাম্পেল চুরি করেছিলেন বায়োসেফটি ল্যাবের এক গবেষক। মাইক্রোবায়োলজি ল্যাবে নিত্য যাতায়াত ছিল ওই গবেষকের। সেখান থেকেই ভাইরাসের নমুনা চুরি করে উহানের ল্যাবোরেটরিতে নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। এনওসিভি ভাইরাসের জিনের বদল ঘটিয়েই তৈরি হয়েছিল ২০১৯-এনওসিভি। কানাডার ল্যাবের সেই গবেষক যাঁর সঙ্গে উহানের ল্যাবের যোগসূত্র ছিল সেই ফ্র্যাঙ্ক প্লামারের মৃত্যু হয়েছিল রহস্যজনকভাবে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More