করোনা কেড়ে নিল সেই ডাক্তারকে, যিনি মানুষের প্রাণ বাঁচাতে নিজের বিয়েও পিছিয়েছেন

শতাধিক মানুষের প্রাণ বাঁচিয়ে করোনার সংক্রমণে মৃত্য়ু হল উহানের আরও এক হিরো ডাক্তার পেং জিনহুয়ার। ক্ষোভ উহানে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রেমের চেয়েও বড় হয়েছিল মানুষের প্রাণ বাঁচানো। বিয়েও পিছিয়ে দিয়েছিলেন শুধুমাত্র চিকিৎসা করে ভাইরাস সংক্রামিতদের সুস্থ করবেন বলে। দিনরাত হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে রোগী দেখতে দেখতেই কাটত সময়। করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসা করতে গিয়ে শেষে নিজেই আক্রান্ত হলেন ভাইরাসের সংক্রমণে। ২৯ বছরেই থেমে গেল জীবনের লড়াই। উহানের ডাক্তার পেং জিনহুয়ার মৃত্যু হল সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটারি সিন্ড্রোমে।

    উহানের ‘হিরো’ ডাক্তার অপথ্যালমোলজিস্ট লি ওয়েনলিয়াঙের মৃত্যুর পরে ফের ভাইরাসের সংক্রমণে মৃত্যু হল এক ডাক্তারের। নিউমোনিয়ার সংক্রমণ নিয়ে উহানের জিয়াংশিয়া হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ডাক্তার পেং। এই হাসপাতালেই প্রথম করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসা শুরু করেন তিনি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ২৫ জানুয়ারি সংক্রমণ ধরা পড়ে পেঙের।  ভাইরাসের সংক্রমণ এতটাই গভীরভাবে ছড়িয়ে গিয়েছিল তাঁর শরীরে যে শেষে চিকিৎসায় সাড়া দেওয়াও বন্ধ করে দিয়েছিলেন। ৩০ জানুয়ারি তাঁকে স্থানান্তরিত করা হয় উহানের জিনাইনটান হাসপাতালে। সেখানেই এতদিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছিলেন তিনি।

    জানুয়ারিতেই প্রেমিকার সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধার কথা ছিল পেং জিনহুয়ার। চিনে তখন মহামারী নোভেল করোনাভাইরাস। মৃত্যু হচ্ছে শয়ে শয়ে। রোগীদের পরীক্ষা করতেও ভয় পাচ্ছেন ডাক্তাররা। আইসোলেশন ইউনিটও ততটা সুরক্ষিত নয়। সেই সময়ই জিয়াংশিয়া হাসপাতালের হাল ধরেন ডাক্তার পেং। বিয়ের দিন পিছিয়ে দেন। নিজেই এগিয়ে যান রোগীদের কাছে। দিবারাত্র আইসোলেশন ওয়ার্ডে রোগীদের দেখভাল করতে করতেই সময় কাটত তাঁর। হাসপাতালের বাকি ডাক্তাররা মনে করছেন, এত নিঃস্বার্থভাবে কাজ করতে আগে কাউকে দেখা যায়নি। তবে এর ফলও হল মারাত্মক। ভাইরাস গভীরভাবে ছড়িয়ে যায় তাঁর শরীরে।

    ডাক্তার পেঙের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ উহান। অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে ব্যর্থ চিনের সরকার, এমন অভিযোগও তুলেছেন উহানের বাসিন্দারা।

    আরও পড়ুন: মারণ ভাইরাস নিয়ে প্রথম সতর্ক করেন ইনিই, চিনের সেই ‘হিরো’ ডাক্তারের মৃত্যু করোনার সংক্রমণেই

    প্রাণঘাতী নোভেল করোনাভাইরাস নিয়ে প্রথম সতর্ক করেছিলেন যে ডাক্তার, সেই লি ওয়েনলিয়াঙেরও মৃত্যু হয়েছে ভাইরাসেরই সংক্রমণে। লি ওয়েনলিয়াঙ প্রথম বলেছিলেন মারণ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে দেশে। সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি ছড়াবে উহানে। সেটা ছিল ৩০ ডিসেম্বর। পরদিন অর্থাৎ ৩১ ডিসেম্বরই উহানের সি-ফুড মার্কেট থেকে ভাইরাসের সংক্রমণের কথা প্রথম সামনে আসে। আক্রান্ত হন এক ব্যক্তি। তারপরেই মহামারীর মতো ছড়িয়ে পড়তে থাকে ভাইরাসের সংক্রমণ।

    নোভেল করোনাভাইরাস উৎস নিয়ে ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক মহলে নানা তর্ক-বিতর্ক চলছে। ইজরায়েলি মাইক্রোবায়োলজিস্টরা আগেই জানিয়েছিলেন ডিসেম্বরে নয় বরং ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়েছিল তারও অনেক আগে থেকে। সেই সংক্রমণের কথা চেপে গিয়েছিল কমিউনিস্ট পার্টি। এমন খবরও সামনে আসে যে এই ভাইরাসের জন্মদাতা উহানের জৈব রাসায়নিক মারণাস্ত্র তৈরির কারখানা বায়ো-সেফটি লেভেল ৪ (BSL-4) ল্যাবোরেটরি।  ইজরায়েলি এক সেনা কর্তা দাবি করেছিলেন, গবেষণাগার থেকেই ছড়িয়েছে ভাইরাসের সংক্রমণ। ঠিক যেভাবে একটা সময় সার্স এবং ইবোলা প্রাণঘাতী হয়ে উঠলে আঙুল উঠেছিল এই ল্যাবোরেটরির দিকেই। ওয়াশিংটন পোস্ট তাদের রিপোর্টে সামনে এনেছিল চাঞ্চল্যকর তথ্য। তাদের দাবি, সিঙ্গল-স্ট্র্যান্ডেড এই আরএনএ ভাইরাসকে তৈরি করা হয়েছে মারণাস্ত্র হিসেবেই। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের ছোবলে শত শত প্রাণনাশ করা সম্ভব। উহান ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজির বিএসএল-৪ ল্যাবোরটরিতে অতি গোপনে এই জৈব রাসায়নিক মারণাস্ত্র তৈরির কাজ চলছিল দীর্ঘ সময় ধরেই। হয় সেখান থেকেই ভাইরাস কোনওভাবে বাইরে চলে গেছে, অথবা ইচ্ছাকৃতভাবেই সংক্রমণ ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More