ট্রায়াল শেষের আগেই হাজার হাজার মানুষকে করোনার টিকা দিচ্ছে চিন, বাড়ছে প্রাণের ঝুঁকি, রিপোর্টে দাবি

রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, তিন রকমের কোভিড ভ্যাকসিনের প্রয়োগ হচ্ছে চিনে। যে কোনও বয়সের মানুষের শরীরেই টিকা দেওয়া হচ্ছে। এদের মধ্যে সরকারি কর্মচারী, শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মী, ডাক্তার-স্বাস্থ্যকর্মী সহ জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত বেশিরভাগ মানুষজনকেই টিকার ইঞ্জেকশন দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: টিকার গুণমান যথার্থ কিনা প্রমাণিত হয়নি। টিকা সব বয়সের মানুষের শরীরে নিরাপদ ও সুরক্ষিত কিনা, সে তথ্যও সামনে আসেনি। তিন পর্যায়ের ট্রায়াল শেষের আগেই করোনার সম্ভাব্য টিকা গণহারে প্রয়োগ করে চলেছে চিন। হাজার হাজার মানুষকে টিকা দেওয়া হচ্ছে গোপনে। এমন খবরই সামনে এনেছে কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।

রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, তিন রকমের কোভিড ভ্যাকসিনের প্রয়োগ হচ্ছে চিনে। যে কোনও বয়সের মানুষের শরীরেই টিকা দেওয়া হচ্ছে। এদের মধ্যে সরকারি কর্মচারী, শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মী, ডাক্তার-স্বাস্থ্যকর্মী সহ জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত বেশিরভাগ মানুষজনকেই টিকার ইঞ্জেকশন দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি। চিনের প্রথম সারির ভ্যাকসিন নির্মাতা সংস্থা সিনোভ্যাক দাবি করেছে শুধুমাত্র বেজিংয়ের দশ হাজার মানুষকে টিকা দেওয়া হয়েছে। অন্যান্য প্রদেশে আরও কতজনকে চুপিচুপি টিকা দেওয়া হচ্ছে সে খবর সামনে আসেনি।

জানা গিয়েছে, টিকার ইঞ্জেকশন যাদের দেওয়া হচ্ছে তাদেরকে দিয়ে ‘ননডিসক্লোজার’ চুক্তিতে সই করিয়ে নেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা কোনও সংবাদমাধ্যম বা সোশ্যাল মিডিয়ায় মুখ না খুলতে পারে। আন্তর্জাতিক মহলের দাবি, তিন পর্যায়ের ট্রায়াল শেষ করে ভ্যাকসিন রেগুলেটরি কমিটির অনুমোদন নিয়ে টিকা আনতে বেশ কিছুটা সময় লাগবে। এই ঝক্কিটা আর নিতে চাইছে না চিন। সার্বিকভাবে টিকার ইঞ্জেকশন নিয়ে তার গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়েই রাখছে তারা। এরপরে অনুমোদন পাওয়া গেলে এক ঝটকায় টিকার বেশ কয়েকটি ইউনিট বাজারে এনে ফেলবে তারা। এই প্রক্রিয়ায় সহজেই বাজিমাত করা যাবে অন্যান্য দেশকে। বিশেষত, নভেম্বরে আমেরিকা টিকা আনার কথা ঘোষণা করেছে। তার আগেই টিকা নিয়ে চলে আসতে পারবে চিন। মনে করা হচ্ছে, হাজার হাজার মানুষের প্রাণের বাজি রেখে টিকার দৌড়ে এগিয়ে যেতে হুড়োহুড়ি করছে তারা।

যে কোনও টিকার প্রি-ক্লিনিকাল ট্রায়াল ও ল্যাবরেটরিতে সেফটি ট্রায়ালের পরেই মানুষের শরীরে প্রয়োগ করার অনুমতি মেলে। হিউম্যান ট্রায়াল তিন পর্যায়ে হয়। শুরুতে কিছু মানুষকে টিকা দিয়ে তার গুণমান যাচাই করে নেওয়া হয়। টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হচ্ছে কিনা বা হলেও তার প্রভাব কতটা সেটা খতিয়ে দেখেই সঠিক ডোজ ঠিক করা হয়। পরের দুই পর্যায়ে স্বেচ্ছাসেবকের সংখঅযা বাড়ানো হয় এবং প্রয়োজনে টিকার ডোজে বদল আনা হয়। দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়তে টিকার সুরক্ষা যাচাই করা হয়। বিভিন্ন বয়সের মানুষের শরীরে টিকা দিয়ে নিরাপত্তা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েই টিকা বাজারে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়। কিন্তু যদি টিকার যথার্থ গুণগত মান পরীক্ষা প্রমাণিত না হয় তাহলে তাকে ‘আনপ্রুভেন’ ভ্যাকসিন বলে। এই ভ্যাকসিন সার্বিকভাবে প্রয়োগ করলে তার ফল মারাত্মক হতে পারে।এমনকি মৃত্যুর ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

এর আগে জরুরি ভিত্তিতে টিকা নিয়ে আসার কথা বলেছিল চিন। তার জন্য রাস্তা তৈরি করতে গত ৫ সেপ্টেম্বর বেজিংয়ের বাণিজ্যমেলায় খোলাখুলি টিকার ভায়াল প্রদর্শন করা হয়েছিল। চিনের সরকারি সংবাদ মাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছিল, ক্যানসিনো বায়োফার্মাসিউটিক্যালকে টিকার স্বত্ত্ব দিয়েছে চিন সরকার।  চিনের ন্যাশনাল বায়োটেক গ্রুপ (সিএনবিজি) জানিয়েছিল, সিনোভ্যাক বায়োটেক লিমিটেড, সিনোফার্ম ও ক্যানসিনো বায়োটেকের টিকা চূড়ান্ত পর্যায়ের ট্রায়ালে রয়েছে। তাই প্রয়োজনে জরুরি ভিত্তিতে টিকা নিয়ে আসতে পারে তারা। জরুরি ভিত্তিতে টিকা আনার প্রক্রিয়া আছে, তবে এই টিকা কতটা কার্যকরী হয় সে নিয়ে সঠিক তথ্য দিতে পারেননি কোনও বিজ্ঞানীই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার শীর্ষ বিজ্ঞানী সৌম্য স্বামীনাথন বলেছিলেন, ট্রায়াল শেষের আগে জরুরি ভিত্তিতে টিকা আনলে তার ফল ভাল হয় না। প্রাণের ঝুঁকি থেকেই যায়। ভ্যাকসিন নির্মাতা সংস্থাগুলিরও এই প্রক্রিয়ায় সায় দেওয়া উচিত নয়।

চিন যে পদ্ধতিতে গোপনে গণহারে টিকা দিতে শুরু করেছে তার ফল মারাত্মক হতে পারে, বলেছেন অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নের মুরডোক চিলড্রেন রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ডাক্তার ডক্টর কিম মুলহোলান্ড। তাঁর বক্তব্য, জোর করেই সাধারণ মানুষকে টিকা দিচ্ছে চিন। এমনভাবে চুক্তি করানো হচ্ছে যাতে তারা মুখ খুলতে না পারে। সরকারি কর্মচারীরা প্রতিবাদ না করেই টিকা নিতে বাধ্য হচ্ছেন। কিম জানান, জরুরি ভিত্তিতে টিকা আনলে শুধুমাত্র হাই-রিস্ক গ্রুপের সদস্যদেরই দেওয়া হয় তাও আবার নির্দিষ্ট ডোজে। কিন্তু এমনভাবে গণহারে টিকা দেওয়ার কথা আগে শোনা যায়নি। এই প্রক্রিয়া বেআইনি শুধু নয় প্রাণঘাতীও।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More