প্রযুক্তিতে ঘাটতি! কর্মী অসন্তোষ, ৭৩৭ ম্যাক্স বানানো বন্ধ করল বোয়িং

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: একটার পর একটা দুর্ঘটনা। সংস্থার অন্দরেই তীব্র কর্মী অসন্তোষ। বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্সের পরিষেবা নিয়ে নানা টিপ্পনী, গুজব যা সামনে আসায় রীতিমতো অস্বস্তিতে বোয়িং কর্তৃপক্ষ। তার উপর রয়েছে লোকসানের বোঝা। সব মিলিয়ে বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্সের উৎপাদন বন্ধ রাখারই সিদ্ধান্ত নিল বোয়িং।

    মঙ্গলবার ৭৩৭ ম্যাক্স বিমানের উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হবে বলে ঘোষণা করা হয়েছে সংস্থার তরফে। রেনটন, ওয়াশিংটনেও বসে যাচ্ছে বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স। ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তরফে বিবৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, ‘‘বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স তার যোগ্যতার মাপকাঠিতে উৎরাতে পারেনি। যাত্রী সুরক্ষা ও নিরাপত্তার বিষয়টা মাথায় রেখেই আপাতত এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’’

    তেহরান বিমানবন্দরের কাছে বোয়িং ৭৫২ ভেঙে পড়ার পর থেকেই  নিজেদের মধ্যে টিপ্পনি কাটতে শুরু করেছিলেন সংস্থার কর্মীরা। সেই সব কথোপকথন সামনে এনেছিল বোয়িং। বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্সের প্রযুক্তি থেকে চালকের প্রশিক্ষণ, সবকিছু নিয়েই খোঁচা দিতে শুরু করেছিলেন কর্মীরা। এমনকি এও বলতে শোনা গিয়েছিল যে, বোয়িংয়ের নকশা বানিয়েছে জোকাররা, আর তদারকির দায়িত্বে থাকে হনুমানরা। একের পর এক বড় দুর্ঘটনার পরে বোয়িংয়ের গ্রহণযোগ্যতা যে প্রায় তলানিতে এসে ঠেকেছে সেটা মেনে নেওয়া হয়েছিল সংস্থার তরফেও।

    আরও পড়ুন: বোয়িংয়ের ভারতীয় সুপারভাইজাররা বোকা, ডিজিসিএ মূর্খ, খোঁচা সংস্থার কর্মীদের

    বোয়িং এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল,  ৭৩৭ ম্যাক্সের উড়ান সবচেয়ে নিরাপদ। কিন্তু একটার পর একটা দুর্ঘটনার মুখোমুখি হয়ে বিশেষত ইন্দোনেশিয়ায় টেক অফের কয়েক মিনিটের মধ্যেই ৭৩৭ ম্যাক্স ভেঙে পড়ার ঘটনা বোয়িং বিমানে যাত্রী সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। এই দুর্ঘটনাগুলির কারণ হিসেবে বোয়িংয়ের প্রযুক্তিগত ত্রুটিকেই দায়ী করা হয়েছিল। তার আগে ২০১৬ সালের মার্চে দুবাই থেকে রাশিয়ার রোস্তভ অন ডন বিমান বন্দরে নামার সময় ভেঙে পড়ে ফ্লাইদুবাই ৭৩৭-৮০০। ওই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ৬২ জন। দুবাই থেকেই এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের আরও একটি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ সিরিজের বিমান দুর্ঘটনার মুখে পড়ে ২০১০ সালে। ম্যাঙ্গালোরে অবতরণের সময় ভেঙে পড়ে বিমানটি। যাত্রী ও বিমানকর্মী মিলিয়ে মৃত্যু হয় ১৫০ জনের।

    বস্তুত, গত বছর মার্চ থেকেই বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স সিরিজের সমস্ত বিমান বসিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ডিরেক্টর জেনারেল অব সিভিল অ্যাভিয়েশন (ডিজিসিএ)। এমনকি বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স-৮ সিরিজের যেকোনও বিমান  ভারতের আকাশে চলাচলের উপরেও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল ডিজিসিএ। বোয়িংয়ের ভারতীয় সুপারভাইজার ও অসামরিক বিমান পরিবহণের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসিএ-কেও সম্প্রতি বোয়িংয়ের কর্মীরা বোকা, মূর্খ ইত্যাদি বলে খোঁচা দিয়েছেন, যা নিয়ে রীতিমতো অস্বস্তিতে বোয়িং।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More