অ্যাস্ট্রজেনেকার টিকার ডোজে মৃত্যু হয়নি, প্ল্যাসেবো দেওয়া হয়েছিল স্বেচ্ছাসবককে, দাবি ব্রাজিলের

অ্যাস্ট্রজেনেকার টিকার ট্রায়ালে ফের দুর্ঘটনা ঘটায় স্বভাবতই হইচই শুরু হয়েছিল বিজ্ঞানীমহলে। এবার ব্রিটেন নয়, দুর্ঘটনা ঘটেছে ব্রাজিলের সাও পাওলোতে। সেখানেই অক্সফোর্ডের টিকার তৃতীয় পর্বের ট্রায়াল করছিল ব্রিটিশ-সুইডিশ ফার্ম অ্যাস্ট্রজেনেকা। সেই ট্রায়াল চলাকালীনই এক স্বেচ্ছাসেবকের মৃত্যু হয় বলে খবর সামনে আসে।

৭৫৫

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: অ্যাস্ট্রজেনেকার টিকার ডোজের কারণে স্বেচ্ছাসেবকের মৃত্যু হয়নি। কারণটা অন্য। প্ল্যাসেবো দেওয়ার পরেই অসুস্থ হয়ে পড়ের ওই স্বেচ্ছাসেবক, যে কারণেই মৃত্যু। এমনটাই দাবি ব্রাজিলের স্বাস্থ্য দফতরের এক প্রতিনিধির।

অ্যাস্ট্রজেনেকার টিকার ট্রায়ালে ফের দুর্ঘটনা ঘটায় স্বভাবতই হইচই শুরু হয়েছিল বিজ্ঞানীমহলে। এবার ব্রিটেন নয়, দুর্ঘটনা ঘটেছে ব্রাজিলের সাও পাওলোতে। সেখানেই অক্সফোর্ডের টিকার তৃতীয় পর্বের ট্রায়াল করছিল ব্রিটিশ-সুইডিশ ফার্ম অ্যাস্ট্রজেনেকা। সেই ট্রায়াল চলাকালীনই এক স্বেচ্ছাসেবকের মৃত্যু হয় বলে খবর সামনে আসে। যদিও ওই স্বেচ্ছাসেবক কী রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন বা তাঁর শরীরে কী কী উপসর্গ দেখা গিয়েছিল, সে বিষয়ে মুখ খোলেনি অ্যাস্ট্রজেনেকা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্রাজিলের স্বাস্থ্য দফতরের ওই আধিকারিকের দাবি, তিনি ট্রায়ালের প্রতি পর্বেই উপস্থিত ছিলেন। তাই কাছ থেকেই বিষয়টা দেখেছেন। তাঁর বক্তব্য, টিকার ডোজ নয় বরং প্ল্যাসেবো ইনজেক্ট করা হয়েছিল ওই স্বেচ্ছাসেবককে। তার পরেই মৃত্যু হয় তাঁর। টিকার ডোজে কোনও গলদ নেই বলেই দাবি করেছেন ওই আধিকারিক।

স্বেচ্ছাসেবকের মৃত্যুর কারণ খতিয়ে না দেখা অবধি টিকার ট্রায়াল বন্ধ হবে না বলেই জানিয়ে দিয়েছিল ব্রাজিলের স্বাস্থ্য দফতর। বলা হয়েছিল, টিকার সেফটি ট্রায়ালের রিপোর্ট খতিয়ে দেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে স্বেচ্ছাসেবকের মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধান করেই জানানো হয়েছে, টিকার ট্রায়াল সম্পূর্ণ সুরক্ষিত। কারণ টিকার ডোজে কোনও অ্যাডভার্স সাইড এফেক্ট দেখা যায়নি।

টিকার কন্ট্রোলড ট্রায়াল করার সময় সকলকেই প্রতিষেধক দেওয়া হয় না। স্বেচ্ছাসেবকদের দুটি দলে ভাগ করে একদলকে টিকার ডোজ দেওয়া হয়, অন্যদলকে দেওয়া হয় সাধারণ তরল যার কোনও ঔষধি গুণ নেই। একেই বলে প্ল্যাসেবো। এইভাবে তুলনামূলক পর্যবেক্ষণ করে টিকার কার্যকারিতা খতিয়ে দেখা হয়। খুব সাধারণ প্ল্যাসেবো হল সুগার পিল। তাছাড়া স্যালাইন ওয়াটারও দেওয়া হয় প্ল্যাসেবো হিসেবে। কী ধরনের টিকার ট্রায়াল হচ্ছে তার উপর ভিত্তি করেই প্ল্যাসেবো ঠিক করেন বিশেষজ্ঞরা। এর সাধারণত কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। তবে দাবি করা হয়েছে, এই প্ল্যাসেবোর ইঞ্জেকশন দেওয়ার পরেই নাকি অসুস্থ হয়ে পড়েন ওই স্বেচ্ছাসেবক। তাঁর শরীরে কোনও রোগ ছিল কিনা সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে খবর।

সেপ্টেম্বরেই অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রজেনেকার টিকায় এক স্বেচ্ছাসেবকের অসুস্থ হয়ে পড়ার খবর সামনে আসায় হূলস্থূল শুরু হয়ে গিয়েছিল। অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রজেনেকার টিকাতেই এতদিন বেশি ভরসা রেখেছিল বিশ্ববাসী। সেখানে টিকার ডোজের এমন গলদ সামনে আসায় স্বভাবতই চিন্তা বাড়ে। তার উপর জানা যায় টিকার ইঞ্জেকশন নেওয়ার পরেই এক মহিলা স্বেচ্ছাসেবক নাকি ট্রান্সভার্স মায়েলিটিস নামে স্নায়ুর রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। টিকার সুরক্ষার কথা ভেবে সাময়িকভাবে ট্রায়াল বন্ধ করে দেয় অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রজেনেকা।

তবে পরে অক্সফোর্ডের তরফে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়, টিকার ডোজে স্নায়ুর রোগ দেখা যায়নি মহিলা স্বেচ্ছাসেবকের। দাবি করা হয়, মহিলার শরীরে আগে থেকেই কোনও ক্রনিক রোগ ছিল যার প্রতিক্রিয়ায় এমন হয়েছে অথবা অন্য কারণ রয়েছে যা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অক্সফোর্ডের রিপোর্ট পেশের পরেই টিকার ট্রায়ালে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় ব্রিটেনের ভ্যাকসিন রেগুলেটরি কমিটি।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More