অ্যাস্ট্রজেনেকার ভ্যাকসিনের কারণে অসুস্থ হননি মহিলা, টিকাতে কোনও দোষ নেই, দাবি অক্সফোর্ডের

অ্যাস্ট্রজেনেকার তৃতীয় পর্যায়ের টিকার ট্রায়ালে এক মহিলা স্বেচ্ছাসেবকের অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনায় হইচই শুরু হয়ে যায় নানা মহলে। অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রজেনেকার টিকাতেই এতদিন বেশি ভরসা রেখেছিল বিশ্ববাসী। সেখানে টিকার ডোজের এমন গলদ সামনে আসায় স্বভাবতই চিন্তা বাড়ে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো:  অ্যাস্ট্রজেনেকার টিকার ডোজেই যে মহিলা স্বেচ্ছাসেবক অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন এমন প্রমাণ মেলেনি। টিকাতে কোনও গলদ নেই। মহিলার শরীরে যে রোগ দেখা গিয়েছিল তার অন্য কারণ থাকতে পারে, দাবি করল অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি।

অ্যাস্ট্রজেনেকার তৃতীয় পর্যায়ের টিকার ট্রায়ালে এক মহিলা স্বেচ্ছাসেবকের অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনায় হইচই শুরু হয়ে যায় নানা মহলে। অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রজেনেকার টিকাতেই এতদিন বেশি ভরসা রেখেছিল বিশ্ববাসী। সেখানে টিকার ডোজের এমন গলদ সামনে আসায় স্বভাবতই চিন্তা বাড়ে। তার উপর জানা যায় টিকার ইঞ্জেকশন নেওয়ার পরেই এক মহিলা স্বেচ্ছাসেবকের অজানা রোগ দেখা দিয়েছে। উদ্বেগ আরও বাড়ে। সুরক্ষার জন্য টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় অ্যাস্ট্রজেনেকা।

কী ধরনের রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন মহিলা সেটা প্রথমে জানায়নি ব্রিটিশ-সুইডিশ ফার্ম। পরে তারা বিবৃতি দিয়ে জানায়, স্নায়ুর রোগ ধরা পড়েছে মহিলার শরীরে। সম্ভবত ট্রান্সভার্স মায়েলিটিস রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি। শিরদাঁড়া ও পেশীতে অসহ্য যন্ত্রণা হচ্ছিল মহিলার।

অক্সফোর্ড ও জেন্নার ইউনিভার্সিটির ভাইরোলজিস্টরা বলছেন, ট্রান্সভার্স মায়েলিটিস রোগে শিরদাঁড়ার দু’পাশে যন্ত্রণা হয় রোগীর। স্পাইনাল কর্ডের স্নায়ুতে তীব্র প্রদাহ শুরু হয়। অনেক সময় এই রোগে স্নায়ুর আর বার্তা আদানপ্রদান করতে পারে না। মস্তিষ্কে সঙ্কেত পাঠাতেও পারে না। ফলে স্পর্শের অনুভূতি চলে যাওয়া, প্যারালাইসিস, পেশীর ব্যথা, পেশীর খিঁচুনি, ব্লাডার এবং বাওয়েল সিনড্রোমও দেখা দেয় রোগীর। এই ধরনের স্নায়বিক রোগ টিকার ডোজে হওয়া সম্ভব নয়। অক্সফোর্ডের দাবি, সম্ভবত মহিলার শরীরে আগে থেকেই কোনও ক্রনিক রোগ ছিল যার প্রতিক্রিয়ায় এমন হয়েছে অথবা অন্য কারণ রয়েছে যা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আসলে আমেরিকায় ঠিক এমনই একটি ঘটনা ঘটেছিল আগে। মার্কিন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথের ডিরেক্টর ফ্রান্সিস কোলিন বলেছিলেন, টিকার ডোজে একজনের শরীরের স্পাইনাল কর্ডে সমস্যা দেখা দিয়েছে। পরে অ্যাস্ট্রজেনেকার টিকার ট্রায়ালে ফের এমন ঘটনা ঘটায় স্বভাবতই টিকার সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

অ্যাস্ট্রজেনেকার সিইও পাস্কাল সরিয়ট বলেছেন,  ৩০ হাজার জনকে ইন্টারমাস্কুলার ইঞ্জেকশন দেওয়া হচ্ছে। একজনের শরীরেও কোনও অ্যাডভার্স সাইড এফেক্টস দেখা যায়নি। যদি টিকার ডোজেই এমনটা হত, তাহলে আরও কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়তেন বা তাঁদের শরীরেও জটিল স্নায়বিক রোগ দেখা যেত। তেমনটা যখন হয়নি তাহলে অনুমান করাই যায় টিকার কারণে ট্রান্সভার্স মায়েলিটিস হয়নি মহিলার। তবে এটাও দেখার, শরীরে কোনও রোগ থাকলে টিকার ডোজের প্রতিক্রিয়ায় ইনফ্ল্যামেশন বা প্রদাহ তৈরি হচ্ছে কিনা। স্নায়ু বা পেশীতে প্রদাহ তৈরি হলে নানা রোগ ধরতে পারে শরীরে। তাই সব দিক দিয়েই টিকার সুরক্ষা যাচাই করে নেওয়া হচ্ছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More