দিল্লিতে মিলল গোয়েন্দা অফিসারের পোড়া দেহ! হিংসায় মৃত্যু বেড়ে ২১, অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি

উত্তর-পূর্ব দিল্লির চাঁদবাগে গণ-আক্রমণে নিহত হয়েছেন তিনি।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির হিংসার বলি এবার এক আইবি অফিসার! পুলিশ জানিয়েছে, উত্তর-পূর্ব দিল্লির চাঁদবাগে গণআক্রমণে নিহত হয়েছেন তিনি। মৃত আধিকারিকের নাম অঙ্কিত শর্মা। নর্দমা থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, মঙ্গলবার বিকেলে কাজ থেকে ফেরার পথে বিক্ষোভকারীদের ছোড়া পাথরের মুখে পড়ে যান তিনি। তার পরে পিটিয়ে মারা হয় তাঁকে।

    অঙ্কিত শর্মার বাবা রবীন্দ্র শর্মা নিজেও একজন আইবি অফিসার। তাঁর অভিযোগ, আম আদমি পার্টির সমর্থকদের আক্রমণেই মারা গেছে তাঁর ছেলে। পাথর ছুড়ে ও পিটিয়ে মারার পরে গুলিও চালানো হয়েছে তাঁর উপরে। মঙ্গলবার রাত থেকেই তাঁর পরিবার তাঁর কোনও সন্ধান না পেয়ে খোঁজ করতে শুরু করে। অবশেষে এক দিন পরে মিলল দেহ। ময়না-তদন্তে পাঠিয়েছে পুলিশ।

    গত তিনদিন ধরে উত্তপ্ত উত্তর-পূর্ব দিল্লি। সিএএ বিরোধী এবং সমর্থকদের সংঘর্ষে আগুন জ্বলছে রাজধানী শহরের বিস্তীর্ণ এলাকায়। সীলমপুর, জাফফরাবাদ, মৌজপুর, ভজনপুরা, চাঁদবাগ, করওয়াল নগর, গোকুলপুরী ও আরও অসংখ্য এলাকায় দোকানপাট জ্বালিয়ে দিয়েছে তাণ্ডবকারীরা। বাদ যায়নি পেট্রল পাম্প এবং রাস্তার পাশে থাকা গাড়িও। গুলি চালানোর পাশাপাশি এলোপাথাড়ি পাথর এবং ইটবৃষ্টিও করেছে তাণ্ডবকারীরা। ন্ধ দোকানপাট। রাস্তায় নেমেছে র‍্যাফ। সরকারি স্কুল-কলেজ বন্ধের পাশাপাশি পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে সিবিএসই বোর্ডের পরীক্ষাও। উত্তর-পূর্ব দিল্লির চার জায়গায় জারি রয়েছে কার্ফু।

    এসবের মধ্যেই সংঘর্ষের জেরে আজকের এই ঘটনা নিয়ে দু’জন পুলিশ অফিসারেরও মৃত্যু হল। আজ অর্থাৎ বুধবার এই নিয়ে আট জনের মৃত্যু হয়েছে দিল্লিতে। সংঘর্ষে আহত হয়েছেন কমপক্ষে ২০০ জন। তীব্রভাবে অশান্তি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে দিল্লির সাধারণ মানুষ। বেশ কিছু এলাকায় পুলিশের উপস্থিতিতেই অশান্তি ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে।

    দিল্লির এ হেন পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন কেন্দ্রও। রাজধানী শহরে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিরাপত্তা বিষয়ক বৈঠকও হয়েছে। সেই বৈঠকেই অজিত ডোভাল জানিয়েছেন, “সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় কাজ করছে। আমাদের সেই ভয় দূর করতে হবে।” পাশাপাশি ডোভাল আরও বলেছেন, “সমস্ত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রকাশ্য রাস্তায় কেউ বন্দুক হাতে ঘুরে বেড়াতে পারবে না।” অন্যদিকে দিল্লির পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ চেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল।

    এর মধ্যে দিল্লির হাসপাতালগুলিতে সোমবার থেকেই তিল ধারণের জায়গা নেই। রক্তাক্ত মানুষজনকে রাস্তা থেকে তুলে আনা হচ্ছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More