উনিশে সফল সাত, কেউ করবে দেশ শাসন, কেউ নেবে প্রাণ বাঁচানোর অঙ্গীকার

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: সাফল্যের সিঁড়ি বেয়ে উঠতে হলে পরিশ্রম, একাগ্রতা আর অধ্যবসায়ের ধাপ পার হতে হয়। নাম, ঠিকানা, বংশপরিচয় সেখানে অনেকটাই পিছিয়ে। অভাবের মাপকাঠিতে মেধার বিচার হয় না, হার না মানা জেদ যে কোনও বাধার পাহাড় ডিঙিয়ে যেতে পারে অবলীলায়। আমাদের চেনা চোখ আর প্রথাগত ভাবনার আগল ঠেলে যখন এই ব্যতিক্রমী প্রতিভারা তাদের সেরার আসন ছিনিয়ে নেয়, তখনই সেটা খবর হয়ে সামনে উঠে আসে। তেমনই কিছু প্রতিভা ছড়িয়ে রয়েছে গোটা দেশে যারা দারিদ্র্য বা জাতপাত-ধর্মের অনেক উপরে ওঠে অনুপ্রেরণার নজির গড়েছে। কেউ সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় টপার, কারোর জয়েন্ট এন্ট্রাসে তুখোড় র‍্যাঙ্ক, কেউ অল ইন্ডিয়া মেডিক্যাল এন্ট্রান্স পাশ করে ডাক্তার হওয়ার পথে। সামনে এগিয়ে এসে তারা নিজেরাই শুনিয়েছে তাদের লড়াইয়ের গল্প।

     

    কেরলের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মেয়ে শ্রীধন্যা এখন আইএএস অফিসার

    ওয়ানাড়ের পঝুতানার ছোট্ট বাড়িটাতে আজ শুধুই স্বপ্নপূরণের কথা। পিছিয়ে পড়া জনজাতি বলে কোনও আফশোস নেই, দারিদ্রের যন্ত্রণা নেই, অভাবের অভিযোগও নেই। কুরিচ্যা জনজাতির একটা মেয়ে গর্বের ইতিহাস লিখেছে। শ্রীধন্যা সুরেশ। কালিকট বিশ্ববিদ্যালয়ের এই মেধাবী ছাত্রী বন্ধুদের থেকে টাকা ধার করেই পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। শ্রীধন্যার কথায়, “কুরিচ্যা জনজাতির সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া জেলার বাসিন্দা আমরা। এখানকার মেয়েরা ঠিকমতো শিক্ষাই পায় না। সেখান থেকেই আইএএস অফিসার হওয়ার স্বপ্ন দেখি। আমাদের জনগোষ্ঠী থেকে আমিই প্রথম সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি।”

    দিনমজুরিতে যা আয় হয়, তাতে চারজনের পেট চলে না। শ্রীধন্যার বাবা সুরেশ জানিয়েছেন, দুই মেয়ের পড়াশোনা চালাতে হিমশিম খেতে হয়েছে। মালয়ালম মাধ্যমের সরকারি স্কুলে পড়েছেন শ্রীধন্যা। কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় কোঝিকোড়ে। আধা-সরকারি একটি সংস্থায় চাকরি করেছেন পড়াশোনার মাঝেই। পরে সিভিল সার্ভিসের জন্য প্রস্তুতি শুরু করেন। অভাব স্বপ্নের পথে বাধা হয়নি জানিয়েছেন শ্রীধন্যা। পরিশ্রম আর অধ্যবসায়ই তাঁর সাফল্যের চাবিকাঠি। মোট ৭৫৯ জনের তালিকায় তাঁর র‌্যাঙ্ক ৪১০।

    സാമൂഹ്യ പിന്നോക്കാവസ്ഥയോട് പൊരുതി സിവിൽ സർവീസ് പരീക്ഷയിൽ തിളക്കമാർന്ന വിജയം കരസ്ഥമാക്കിയ വയനാട്ടിലെ ശ്രീധന്യ സുരേഷിനെ…

    Pinarayi Vijayan এতে পোস্ট করেছেন শুক্রবার, 5 এপ্রিল, 2019

    শ্রীধন্যার সাফলক্যকে কুর্নিশ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন। ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, “সামাজিক অনগ্রসরতার বিরুদ্ধে তাঁর লড়াইকে স্বাগত। বাধা পেরিয়ে স্বপ্নের উড়ানে সফল হয়েছেন শ্রীধন্যা। তাঁর লড়াই অনুপ্রেরণা দেবে বাকিদের।”

    টুইট করে শ্রীধন্যার প্রশংসা করেছেন রাহুল গান্ধীও। তিনি বলেছেন, ‘‘শ্রীধন্যার কঠোর পরিশ্রম এবং অধ্যবসায় তাঁর স্বপ্নকে বাস্তব করতে সাহায্য করেছে। তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে অভিনন্দন। শ্রীধন্যা যাতে তাঁর বেছে নেওয়া কেরিয়ারে সাফল্য পান, তার জন্য শুভেচ্ছা থাকল।’’

     

    ডাক্তার হয়ে গ্রামে আনন্দ কুমারের মতো ‘সুপার ৩০’ চালু করতে চায় জোধারাম

    সালটা ২০১২। রাজস্থানের প্রত্যন্ত গ্রামে খড়ের চালের ছোট্ট দুটো ঘরে তখন অভাবের ছায়া তীব্র। আধপেটা খাবার, বিদ্যুতের বালাই নেই, জলেরও বড়ই সঙ্কট। পড়াশোনার চেয়ে গায়ে গতরে খেটে কাজ করলে দু’পয়সা ঘরে আসবে, এমনটাই ভেবেছিলেন জোধারামের বাবা। মুম্বই গিয়ে জনমজুর খাটতেও বলা হয়েছিল তাকে। কিন্তু বইখাতার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে মন চায়নি গ্রামের মেধাবী ছেলে জোধারাম পটেলের। উৎসাহ দেন স্কুলের শিক্ষকরাও। ছেলের জেদের কাছে হার মানতে বাধ্য হন বাবা।

    ন্যাশনাল এলজিবিলিটি এন্ট্রান্স টেস্ট (এনইইটি)-এ জোধারামের র‍্যাঙ্ক ৩,৮৮৬। অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্স (এইমস)-এ র‍্যাঙ্ক ৫,৩৯১। ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে জোধারামের। শুরুটা কিন্তু এতটা মসৃণ ছিল না। তরুণের কথায়, “ঘরে জল নেই, বিদ্যুৎ নেই। তার উপর অভাব। পুরনো বইখাতা জোগাড় করেই পড়েছি। গ্রামের স্কুলে শুরুতে ভাল ফল করতাম না। ফেলও করেছি। কিন্তু হার মানিনি।” ডাক্তার হওয়ার লক্ষ্য ছিল সামনে, চেষ্টা ছিল শিরায়-উপশিরায়। সাফল্য তাতেই মিলেছে বলে জানিয়েছে জোধারাম।

    জোধপুরের সম্পূর্ণনন্দ মেডিক্যাল কলেজে অ্যাডমিশন হয়ে যাবে কিছুদিনের মধ্যেই। ডাক্তারির শপথ নেওয়ার পাশাপাশি, আরও একটা অঙ্গীকার করবে জোধারাম। আনন্দ কুমারের মতো দুঃস্থ, মেধাবী ছাত্রদের নিয়ে সেও তৈরি করবে ‘সুপার ৩০।’অভাব যেন কখনওই লক্ষ্যচ্যুত না করে, সেই শিক্ষাই ছাত্রছাত্রীদের দিতে চায় জোধারাম।


    দিনে কলেজ গেটে পাহারা, বেলা গড়ালে ক্লাস—জেএনইউতে পড়ছেন সেখানকারই নিরাপত্তাকর্মী

    নিরাপত্তারক্ষীর পোশাকে দিনের বেলা কলেজ গেটে তাঁকে সবসময় দেখা যায়। ক্লাসের সময় চলে এলে শিফট অন্যের হাতে ছেড়ে বইখাতা নিয়ে তিনিই তখন ছাত্র। রামজল মীনা। দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের এই নিরাপত্তারক্ষীকে এখন চেনে গোটা দেশ। জটিল পরীক্ষায় দারুণ নম্বর পেয়ে এখন জেএনইউতেই রুশ ভাষা শিখছেন তিনি। লক্ষ্য সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা দিয়ে আইএএস অফিসার হবেন।

    রাজস্থানের প্রত্যন্ত গ্রামের বাসিন্দা রামজল, তিন মেয়ের বাবা। বড় মেয়ে পড়ে ক্লাস নাইনে। রামজলের বাবা দিনমজুরি করে যা রোজগার করেন তাতে বড় সংসার চলে না। রাজস্থান ইউনিভার্সিটির বিএসসির মেধাবী ছাত্র রামজলকে তাই পড়াশোনায় ইতি টেনে নিরাপত্তারক্ষীর চাকরি জোটাতে হয়। বলেছেন, “কলেজ ছাড়লেও নানা ম্যাগাজিন, প্রবেশিকা পরীক্ষার বই উল্টে দেখতাম। এভাবেই পরীক্ষা দিয়ে জেএনইউতে নিরাপত্তাকর্মীর চাকরি পাই। ২০১৪ সাল থেকে এখানে রয়েছি। কলেজ গেটে দাঁড়িয়েই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম এই কলেজ থেকেই ফের লক্ষ্যের ঠিকানা খুঁজে পাব।” রাজস্থান ইউনিভার্সিটি থেকেই ফের বিএ-র পড়াশোনা শুরু করেছেন রামজল। জেএনইউতে রুশ ভাষা শেখার পাশাপাশি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতিও নিচ্ছেন জোরকদমে।

    পেশা এবং স্বপ্ন সমান্তরালে চলছে। কাজে ফাঁকি নেই একটুও। রামজল বলেছেন, ১৫ মিনিট সময় হাতে পেলেই বই খুলে বসেন। সফল তাঁকে হতেই হবে, সে বাধা যতই আসুক না কেন!


    স্কুল টপার, জয়েন্ট এন্ট্রান্সে দারুণ র‍্যাঙ্ক, দুঃস্থ ছেলেমেয়েদের পড়াতে চায় লেখরাজ

    রাজস্থানের ঝালাওয়াড়ের আদিবাসী গ্রাম। শিক্ষার আলো তো দূর, কুসংস্কার ছড়িয়ে আছে ঘরে ঘরে। গ্রামের পুরুষরা জনমজুর খাটেন, স্কুল-কলেজ সেখানে বিলাসিতা। সংস্কারের বেড়া ভেঙেই গ্রামের বাইরে স্কুলে পড়তে যেতেন লেখরাজ ভীল। অঙ্কে তুখোড়, বিজ্ঞানে নম্বর সবসময়েই ৯০%। এই ছেলে অনেক দূর যাবে বুঝেছিলেন শিক্ষকরা। লেখরাজের কথায়, “সকালে মায়ের হাতে পান্তা খেয়ে স্কুলে যেতাম। বাড়িতে বিদ্যুৎ নেই। মোমবাতির আলোয় পড়েছি। আধপেটা খেলেও বাবা পড়া ছাড়তে বারণ করেছিলেন।” বোর্ড পরীক্ষায় প্রথম হয়ে বিজ্ঞান পড়তে কোটায় চলে যায় লেখরাজ।

    কোটার একটি কোচিং সেন্টারে ট্রেনিং নিয়ে জয়েন্ট এন্ট্রান্স মেন পরীক্ষায় ১০ হাজার র‍্যাঙ্ক করেছে লেখরাজ। শহরের নামী কলেজে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি হবে সে। বলেছেন, “এই সাফল্যের কৃতিত্ব শিক্ষক ও কোচিং সেন্টারের ডিরেক্টর জসরাজ সিং গুজ্জরের। তিনি অনুপ্রেরণা দিয়েছিলেন। ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে দুঃস্থ, মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের পাশে দাঁড়াব। বিনামূল্যে তাদের প্রবেশিকা পরীক্ষার জন্য প্রশিক্ষণ দেব। এটাই আমার লক্ষ্য।”


    ডাক্তার হতে চলেছে দিনমজুরের মেয়ে শশী

    দিল্লির ঘিঞ্জি গলিতে একটাই ঘর। বাবা-মা ঘুমিয়ে পড়লে তবেই পড়াশোনা শুরু করত শশী। টিমটিমে আলোয় সারা রাত চলত পরীক্ষার প্রস্তুতি। সকাল হলেই কলেজ। ১৯ বছরের শশী এনইইট পরীক্ষায় তুখোড় ফল করে এখন ডাক্তার হওয়ার পথে।

    বাবা অখিলেশ দিনমজুরি করেন। আয় ৩০০ টাকা। তাতে খাবার খরচা বাঁচিয়ে পড়ার খরচ ওঠে না। অখিলেশ বলেছেন, “দিল্লি সরকারের ‘জয় ভীম মুখ্যমন্ত্রী প্রতিভা যোজনা স্কিম’-এর সাহায্য নিয়েই প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রশিক্ষণ নেয় শশী। এই প্রকল্পের সুবিধাতেই আমার আর এক মেয়ে এনইইট-র প্রশিক্ষণ নিচ্ছে, ছেলেকে আইআইটিতে ভর্তি করব।” ডাক্তার হয়ে সমাজের সব স্তরের মানুষের পাশে দাঁড়াতে চায় শশী। “বিনামূল্যে দুঃস্থ শিশুদের চিকিৎসা করব। অভাবের যন্ত্রণা দেখেছি, তাই অভাবীদের পাশে থেকে শুরু হবে আমার পথ চলা,” শশীর চোখে এখন এক আকাশ স্বপ্ন।


    আশারাম এমবিবিএস

    সাফল্যের মাপকাঠিতে পরিশ্রম আর অধ্যবসায়ই অনেকটাই এগিয়ে থাকে, পরিচয় সেখানে অনেক ফিকে। কিন্তু কাগজ-কুড়ানির ছেলে যখন এইমসের এমবিবিএস প্রবেশিকা পরীক্ষায় দুরন্ত ফল করে, তখন চমকে গিয়েছিলেন পাড়া-প্রতিবেশীরা। খবর ছড়িয়েছিল হুহু করে। মেডিক্যাল এন্ট্রান্সে মধ্যপ্রদেশের মান্ডি গ্রামের আশারাম চৌধুরী অল-ইন্ডিয়া র‍্যাঙ্ক ৭০৭, আর তফসিলি জাতি-উপজাতি কোটায় র‍্যাঙ্ক ১৪১।

    স্কুলের মেধাবী ছাত্র আশারামের প্রিয় বিষয় ছিল বিজ্ঞান। দশম শ্রেণিতে সিলভার জোন ফাউন্ডেশন তাকে ‘ইয়ং সায়েন্টিস্ট অ্যাওয়ার্ড’ দেয়। “আমার স্বপ্ন ছিল ডাক্তার হব। জোধপুর এইমসে সুযোগ পেয়েছি। আর ফিরে তাকাতে চাই না। দেশের জন্য কাজ করব,” স্বপ্নের উড়ান শুরু করে দিয়েছে আশারাম।


    হরিয়ানা বোর্ডের টপার ইশা দেবী প্রধানমন্ত্রী হতে চায়

    বোর্ড পরীক্ষায় ৫০০-র মধ্যে ইশা দেবীর র‍্যাঙ্ক ৪৯৭। ইংরাজি, অঙ্ক ও সংস্কৃতে পুরো নম্বর। ইশার নাম এখন জানে গোটা হরিয়ানা।  “আমার বাবা দিনমজুরি করেন। কীভাবে কষ্ট করে সংসার চালাতে হয় আমি দেখেছি। আমার পড়াশোনাতে কোনওদিন বাধা আসেনি। উচ্চশিক্ষার জন্য পরিবার আমার পাশে আছে,” ইশা দেবীর লক্ষ্য অনেক বড়। প্রধানমন্ত্রী হতে চায় ইশা।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More