চিনের মোকাবিলায় লাদাখে ভারতের ‘ঘাতক’ বাহিনী, মার্শাল আর্ট জানা কমান্ডো দল তৈরি

আপাতত শান্ত পূর্ব লাদাখ সীমান্ত। এলএসি-তে উত্তেজনা কমানোর পথ খুঁজে‌তে ভারত ও চিন প্রতি সপ্তাহে একবার করে আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছে। তবে সেই বৈঠকের উপরে ভরসা করে বসে নেই সেনা। উভয় পক্ষেরই প্রস্তুতি রয়েছে সংঘর্ষ মোকাবিলার।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: পূর্ব লাদাখ সীমান্তে ভারত ও চিনের সংঘাত ঘিরে উত্তেজনার মধ্যেই নয়া সিদ্ধান্ত নেয়ে সে দেশের সেনাবাহিনী পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ)। জওয়ানদের মার্শাল আর্টে প্রশিক্ষণ দিতে তিব্বতে পাঠিয়েছে ২০ জন মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষককে। এমনটাই দাবি চিনা সংবাদমাধ্যমের। সেই সূত্রেই জানা যায় ১৫ জুন পূর্ব লাদাখের গালওয়ান হামলার আগেই চিন সেনা ডিভিশনে তিব্বতের স্থানীয় ক্লাবগুলি থেকে মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষকদের নিয়োগ করে।

    রবিবারই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী লাদাখ ইস্যুর কথা উল্লেখ না করেই বুঝিয়ে দিয়েছেন ভারত চিনকে জবাব দিতে প্রস্তুত। তিনি বলেন, “ভারত যেমন বন্ধুত্ব করতে জানে তেমনই প্রয়োজনে চোখে চোখ রেখে জবাব দিতে পারে।” সেটাই প্রমাণিত লাদাখ সীমান্তের ভারতের প্রস্তুতিতে। চিন যখন স্থানীয় মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষকদের উপরে নির্ভর করছে বলে জানা গিয়েছে তখন ভারতও মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষিত ঘাতক কমান্ডোদের মোতায়েন করেছে।

    আরও পড়ুন

    ভারতের প্রথম প্লাজমা ব্যাঙ্ক চালু হতে চলেছে রাজধানীতে, কোভিড মোকাবিলায় বড় পদক্ষেপ দিল্লি সরকারের

    কেমন এই ঘাতক বাহিনী? এক সেনা আধিকারিক এই প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, একজন ঘাতক কমান্ডোকে কর্ণাটকের বেলগামে ৪৩ দিনের বিশেষ কমান্ডো ট্রেনিং কোর্স করতে হয়। অত্যন্ত কঠিন এই ট্রেনিং। ৩৫ কেজি ওজনের বস্তুা নিয়ে একটানা ৪০ কিলোমিটার দৌড়তে হয়। যা কমান্ডোদের শারীরিক ভাবে শক্তিশালী করে তোলে। অস্ত্র প্রশিক্ষণ ছাড়াও হাতাহাতি লড়ার প্রশিক্ষণও দেওয়া হয় এই কমান্ডোদের। তাঁরা মার্শাল আর্টেও বিশেষজ্ঞ। প্রশিক্ষণে কোনও ছুটি থাকে না। যখন তাঁরা কোনও ইউনিটে মোতায়েন থাকেন তখন সেখানেও চলে ট্রেনিং। উঁচু ও মরু এলাকার জন্য ভিন্ন ভিন্ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় এই কমান্ডোদের।

    ১৯৯৬ সালে ভারত ও চিনের চুক্তি অনুযায়ী, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখার দুই কিলোমিটার ব্যাসের মধ্যে কোনও দেশই গোলাগুলি চালাতে পারবে না। এমনকী কোনও ধরনের বিপজ্জনক রাসায়নিক অস্ত্র, বন্দুক বা বিস্ফোরক ব্যবহার না করারও চুক্তি রয়েছে দুই দেশের মধ্যে। এক সেনা আধিকারিক জানিয়েছেন, এক একটি ঘাতক কমান্ডো ইউনিটে একজন অফিসার, একজন জেসিও-সহ থাকেন ২২ জওয়ান। তবে প্রায় সব ক্ষেত্রেই ব্যাক আপ হিসেবে থাকে পুরো একটি দল। সেই সূত্রে, একটি ইউনিটে সব সময়ে মোটামুটি ৪০-৪৫ জন কমান্ডো থাকেন।

    সবাই এই বিভাগে সুযোগও পান না। বাছাইদের নেওয়া হয়। ভারতীয় সেনার প্রত্যেক পদাতিক অফিসারকেই নানা রকম প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে যেতে হয় এবং বাছাই করা সৈনিকদেরই মার্শাল আর্টের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়ে থাকে। তাঁদের নিয়েই তৈরি হয় ঘাতক বাহিনী। জানা গিয়েছে, ফি বছর প্রতিটি ইউনিটে ৩০-৪০ জন নতুন জওয়ান নিযুক্ত হন এবং তাঁদের কয়েকজনকে কমান্ডো টিমে রাখা হয়। এই ভাবে ঘাতক কমান্ডো দল ছাড়াও ইউনিটে ৫০ শতাংশ এমন সেনা থাকেন, যাঁরা এতে দক্ষ।

    আপাতত শান্ত পূর্ব লাদাখ সীমান্ত। এলএসি-তে উত্তেজনা কমানোর পথ খুঁজে‌তে ভারত ও চিন প্রতি সপ্তাহে একবার করে আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছে। তবে সেই বৈঠকের উপরে ভরসা করে বসে নেই সেনা। উভয় পক্ষেরই প্রস্তুতি রয়েছে সংঘর্ষ মোকাবিলার।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More