পাকিস্তানে মার খেয়েই পাঁজরে চোট পেয়েছেন অভিনন্দন

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৬০ ঘণ্টা পাক রেঞ্জার্সের হাতে বন্দি থাকার পর দেশে ফিরেছিলেন ভারতীয় বায়ুসেনার উইং কম্যান্ডার অভিনন্দন বর্তমান। তারপরেই হয়েছিল তাঁর মেডিক্যাল চেকআপ। সেই চেকআপের রিপোর্টেই জানা গিয়েছে, পাঁজরে বেশ ভালোই চোট পেয়েছেন অভিনন্দন। এ ছাড়াও মেরুদণ্ডের নীচের অংশেও চোট রয়েছে পাইলটের। পাকিস্তানের তরফে কোনও চিপ অভিনন্দনের শরীরে বসিয়ে দেওয়া হয়েছিল কিনা তা জানতেও করা হয়েছে পরীক্ষা। তবে সেরকম কিছু পাওয়া যায়নি বলেই জানিয়েছে বায়ুসেনা।

সংবাদসংস্থা এএনআই সূত্রে খবর, মেডিক্যাল রিপোর্টে পাইলটের পাঁজরে যে চোট পাওয়ার কথা বলা হয়েছে তা গ্রামবাসীদের মারধরের ফলেই হয়েছে বলে অনুমান। সূত্রের খবর, আগামী দশ দিন ধরে আরও নানারকম শারীরিক পরীক্ষা হবে অভিনন্দনের। কম্যান্ডারের শরীরের আর কোথাও কোনও গুরুতর চোট রয়েছে কিনা তা জানতেই এই পরীক্ষা হবে বলে জানিয়েছে ভারতীয় বায়ুসেনা। বুধবার দেশে ফেরার পরেই দিল্লির সেনা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। সেখানেই অভিনন্দনের সঙ্গে দেখা করতে আসেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী নির্মলা সীতারমন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে ভারতের সীমানায় প্রবেশ করে পাক যুদ্ধবিমান এফ-১৬। পালটা জবাব দেয় ভারতীয় বায়ুসেনা। পাক যুদ্ধবিমানকে তাড়া করে মিগ-২১ বাইসন জেট নিয়ে নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ঢুকে পড়েন উইং কম্যান্ডার অভিনন্দন। ভারতের বিমান দেখেই গুলি চালায় পাক সেনা। বাধ্য হয়েই এমার্জেন্সি এক্সিট করে প্যারাশ্যুটের সাহায্যে ল্যান্ড করেন কম্যান্ডার। দুর্ভাগ্যবশত পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ল্যান্ড করেন তিনি। আর মাটিতে পড়ার পরেই স্থানীয় গ্রামবাসীরা তাঁর উপর চড়াও হয়। শুরু হয় বেধড়ক মারধর। পাইলটের রক্তাক্ত মুখের ছবি ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। এই মারধরের ফলেই অভিনন্দন চোট পেয়েছেন বলে অনুমান বায়ুসেনার।

বৃহস্পতিবার বিকেলের পাক সংসদে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ঘোষণা করেন শুক্রবার ভারতের হাতে তুলে দেওয়া হবে উইং কম্যান্ডার অভিনন্দন বর্তমানকে। শুক্রবার রাত ৯টা ২১মিনিটে ওয়াঘা সীমান্ত পেরিয়ে দেশের মাটিতে পা রাখেন অভিনন্দন। পাইলট দেশের ফেরার পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে একটি ভিডিও। যেখানে অভিনন্দনকে বলতে শোনা গিয়েছে, পাকিস্তান সেনার ব্যবহারে তিনি মুগ্ধ। যথেষ্ট পেশাদারিত্বের সঙ্গে তারা পাইলটের সঙ্গে ব্যবহার করে করেছেন বলেও ওই ভিডিওতে জানান অভিনন্দন। এমনকী তিনি বলেন, “ভারতীয় মিডিয়া অনেকসময়েই কিছু জিনিস রঙ চড়িয়ে দেখায়।”

তবে এই ভিডিও প্রকাশের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই উইং কম্যান্ডার সাফ জানিয়ে দেন শারীরিক অত্যাচার হয়নি ঠিকই, কিন্তু চরম মানসিক অত্যাচার সহ্য করতে হয়েছে তাঁকে। তাহলে শেষ প্রকাশ পাওয়া ভিডিও-র রহস্য কী? সরকারি সূত্রকে উদ্ধৃত করে সংবাদসংস্থা এএনআই জানিয়েছে, অভিনন্দন বলেছেন, ওই ভিডিওতে তাঁকে জোর করে কথা বলানো হয়েছে। এমনকী ‘এডিট’ করে সাজানো হয়েছে ওই ভিডিও। যেখানে তাঁকে দিয়ে পাকিস্তান সেনা সম্পর্কে ভাল ভাল কথা বলিয়ে নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ, টেলিভিশন-রেডিও-খবরের কাগজ সব থেকে বিচ্ছিন্ন করে অভিনন্দনকে একটি আলাদা সেলে বন্দি করে রেখেছিল পাক সেনা। এমনকী তিনি যে দেশে ফিরবেন সেটাও নাকি জানানো হয়নি তাঁকে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More