উনিশে মমতা-চন্দ্রবাবু বৈঠক, দিল্লি যাবেন কি দিদি

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেসনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করতে ১৯ তারিখ কলকাতায় আসছেন অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী তথা তেলগু দেশম পার্টি সভাপতি চন্দ্রবাবু নায়ডু।

তবে দুই মুখ্যমন্ত্রীর এই সম্ভাব্য বৈঠক কোনও প্রশাসনিক বিষয়ে হবে না। সূত্রের মতে, আগামী ২২ নভেম্বর দিল্লিতে বিজেপি বিরোধী সমস্ত ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলির বৈঠক ডেকেছেন চন্দ্রবাবু। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যাতে তাতে সামিল হন, সে জন্য প্রস্তাব দিতে নবান্নে আসছেন তিনি।

প্রসঙ্গত, দুদিন আগে অন্ধ্রপ্রদেশের রাজধানী অমরাবতীতে সর্বভারতীয় কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অশোক গহলৌতের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন বাবু। ওই বৈঠকেই স্থির হয়, পাঁচ রাজ্যের চলতি বিধানসভা ভোটের মাঝেই মোদী বিরোধী জোরালো বার্তা দিতে বিরোধী দলগুলির বৈঠক হবে দিল্লিতে। পেট্রল,ডিজেল, রান্নার গ্যাসের দাম বাড়া, টাকার অবমূল্যায়ন, রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সঙ্গে সংঘাত, সিবিআইয়ে গৃহযুদ্ধ, বিদেশ নীতিতে ব্যর্থতার মতো বিষয়ে সমষ্টিগত ভাবে ওই বৈঠক থেকে বিরোধীরা এমন ভাবে সরব হবেন যাতে তার প্রভাব পড়ে সর্বভারতীয় রাজনীতিতে।

তবে বড় প্রশ্ন হল, দিদি কি দিল্লি যাবেন ওই বৈঠকে যোগ দিতে? তৃণমূলের একটি সূত্রের বক্তব্য, বৈঠকে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে মমতার। তিনিও চান মোদী বিরোধী প্রচার মজবুত হোক। তবে তাঁর ঘনিষ্ঠ আরেকটি সূত্রের মতে, দিদির দিল্লি যাওয়া ষোল আনা নিশ্চিত নয়। তা অনেকটাই ১৯ তারিখের বৈঠকের উপর নির্ভর করবে।

দলের ওই সূত্রের মতে, এমনিতে চন্দ্রবাবুর সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বন্ধুত্বের সম্পর্ক রয়েছে। বাজপেয়ী জমানায় দুজনেই এনডিএ-র শরিক ছিলেন। কিন্তু চন্দ্রবাবুর ইদানীং কিছু কাজে তৃণমূল খুশি নয়। লোকসভা ভোটের সঙ্গে অন্ধ্রপ্রদেশে বিধানসভা ভোট হবে। সেখানে চন্দ্রবাবু এ বার খুব স্বস্তিজনক অবস্থায় নেই। বরং প্রধান বিরোধী দল জগনমোহন রেড্ডির ওয়াইএসআর কংগ্রেসের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। তা ছাড়া বিজেপি-র সঙ্গে বাবুর জোট ভেঙে যাওয়ার পর এখন জগনের সঙ্গে জোট গড়তে সক্রিয় অমিত শাহরা। তা যদি হয়, তা হলে চন্দ্রবাবুর বিপর্যয় হওয়ার আশঙ্কা প্রবল। এই পরিস্থিতিতে একদা ঘোর কংগ্রেস বিরোধী বাবু এখন রাহুল গান্ধীর হাত আঁকড়ে ধরেছেন। ইতিমধ্যে তেলঙ্গনায় কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করেছে টিডিপি। চন্দ্রবাবু চাইছেন অন্ধ্রেও জোট হোক। সেই জোটে সামিল হোক সিপিআই ও সিপিএম। তাই খানিকটা নিজের স্বার্থেই রাহুল গান্ধীকে বিরোধী জোটের নেতা মেনে নিয়েছেন চন্দ্রবাবু। রাজনৈতিক সূত্রের মতে, কংগ্রেসই চন্দ্রবাবুকে দিয়ে ২২ তারিখ দিল্লিতে বৈঠক ডাকিয়েছে। কারণ, কংগ্রেস নেতারা মনে করছেন পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা ভোটের মাঝে দিল্লিতে বিরোধী দলের নেতারা মিলে মোদী সরকারের মুণ্ডপাত করলে সেটাও মধ্যপ্রদেশ-রাজস্থানে প্রভাব ফেলবে।

এখানেই আবার অস্বস্তিতে তৃণমূল। তাঁরা এখনই রাহুলের নেতৃত্ব মানতে নারাজ। বরং তৃণমূল নেতৃত্বের মতে, ভোটের পর নেতা বাছা যাবে। আগে সবাই মিলে মোদীকে পরাস্ত করার ব্যবস্থা করা হোক। সেটা যে চন্দ্রবাবুরা বুঝতে পারছেন না তা নয়। কংগ্রেস সূত্র বলছে, ২২ তারিখের বৈঠকে কাউকেই নেতা বলে ঘোষণা করা হবে না। রাহুলও মনে করেন, ভোটের পরই নেতা বাছলে ভাল হবে। আগে মোদীকে হারানো দরকার। তাই তৃণমূলের উচিত হবে বৈঠকে সামিল হওয়া।

The Wall-এর ফেসবুক পেজ লাইক করতে ক্লিক করুন 

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More