১১ বছরের ছেলেকে উল্টো করে বেঁধে বেধড়ক মার বাবার, গায়ে গরম জল ঢালার অভিযোগ

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মিষ্টি কেনার জন্য বাড়ি থেকে সামান্য গম চুরি করেছিল কিশোর। আর তার জেরে চরম মাশুল দিতে হল ১১ বছরের ওই কিশোরকে। ছেলে মিষ্টি কেনার জন্য গম চুরি করেছে জানতে পেরে তাকে বেধড়ক মারধর করেছে বাবা। নাবালককে এমন অমানবিক ভাবে মারধরের জন্য অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। জানা গিয়েছে, এই ঘটনা ঘটেছে উত্তরপ্রদেশে। পরশু অর্থাৎ শুক্রবার সন্ধ্যায় উত্তরপ্রদেশের মেওয়ালি গ্রামে ঘটেছে এমন মর্মান্তিক ঘটনা।

শুক্রবার সন্ধ্যায় নেট দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে একটি ভিডিও। দেখা যায় এক কিশোরকে নৃশংস ভাবে মারধর করছে এক ব্যক্তি। জানা যায়, সম্পর্কে তারা বাবা-ছেলে। নিজের সন্তানকে কেউ এমন ভাবে মারতে পারে দেখে শিউরে ওঠেন পুলিশকর্মীরাও। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওর সূত্র ধরেই কিশোরের বাবাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সূত্রের খবর ধৃতের নাম গুড্ডু খান। বয়স ৪৫ বছর। তার ছেলে গ্রামের দোকান থেকে মিষ্টি কিনবে বিলে বাড়ি থেকে সামান্য গম চুরি করেছিল। ১১ বছরের ছেলের হাতে টাকাপয়সা থাকার কথা নয়। আর বাবার কাছে আবদার করেও লাভ হবে না ভেবেই বোধহয় গমের বদলে মিষ্টি কেনার বুদ্ধি আসে কিশোরের মাথায়। কিন্তু তার বদলে যে এমন বেধড়ক মার জুটবে তা বোধহয় দুঃস্বপ্নেও কল্পনা করেনি ওই কিশোর। তার নিজের বাবা তাকে মারতে মারতে প্রায় আধমড়া করে ফেলেছিল।

প্রতিবেশীদের অভিযোগ ছেলেকে উল্টো করে বেঁধে রেখে বেধড়ক মারধর করছিল গুড্ডু। কয়েকজন গ্রামবাসী তাকে থামাতে গিয়েও পারেনি। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, মারধরের পর কিশোরের গায়ে গরম জল ঢেলে দিয়েছিল গুড্ডু। সুস্থ স্বাভাবিক অবস্থায় একজন বাবা কী ভাবে তার ছেলের সঙ্গে এমন আচরণ করতে পারে তা দেখে শিউরে উঠেছিল গ্রামবাসীরা। গুড্ডুকে কোনও ভাবেই থামাতে না পেরে গ্রামবাসীদের কয়েকজন গোটা ঘটনার ভিডিও করে সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করে দেন। খানিকক্ষণের মধ্যেই তা নজরে আসে পুলিশের। ভিডিওর সূত্র ধরে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে তারা।

এদিকে জেরায় পুলিশকে গুড্ডু জানিয়েছে ঘটনার সময় সে মদ্যপ ছিল না। সে আরও জানিয়েছে, কয়েকদিন আগে তার স্ত্রী তার সঙ্গে ঝগড়া করে বোনের বাড়ি চলে গিয়েছে। ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে যায়নি। তার মধ্যে ছেলের গম চুরি করার খবর পায় সে। সবমিলিয়ে রাগের বশেই নাকি এমন কাণ্ড ঘটিয়েছে সে। ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় ইতিমধ্যেই ধৃতের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছে পুলিশ। কিশোরকে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। সে সুস্থ হলে তার বয়ান নিয়েই পরবর্তী তদন্ত হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More