শনিবার, মে ২৫

জঙ্গিহানা, ধর্ষণ ও মাওবাদী হামলা থেকে সাবধান! ভারতে মার্কিন পর্যটকদের সতর্ক করল ওয়াশিংটন

দ্য ওয়াল ব্যুরো:  সন্ত্রাসবাদ ও অপরাধ –এই দুইয়ের জোড়া ফলায় ভারতে ভ্রমণ আগের চেয়ে বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে বলে ট্রাভেল অ্যাডভাইসরি জারি করেছে মার্কিন বিদেশ দফতর। অপরাধের মধ্যে বিশেষ করে ধর্ষণ ও যৌন হেনস্থার বিষয়ে মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক করা হয়েছে। এ ছাড়া, জঙ্গি হানার ভয় ও আইনশৃঙ্খলাগত গোলমাল ও অস্থিরতার আশঙ্কার জন্য জম্মু ও কাশ্মীরে যেতে নিষেধ করেছে ওই অ্যাডভাইসরি। তবে লাদাখ ও লে-তে গেলে কোনও অসুবিধে নেই বলেও মন্তব্য করা হয়েছে।

ভারত-পাকিস্তানের সীমান্তের ১০ কিমির মধ্যেও মার্কিন নাগরিকদের যেতে নিষেধ করেছে ওই সরকারি অ্যাডভাইসরি। মাওবাদী হামলার কারণে পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিমাঞ্চলে ঘুরতে যাওয়ার ব্যাপারেও সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

মার্কিন বিদেশ দফতরের জারি করা ওই বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম অংশে, মহারাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলে ও উত্তর তেলঙ্গানায় যাওয়ার বিষয়ে সতর্ক করে বলা হয়েছে ওই সব গ্রামাঞ্চলে মার্কিন নাগরিকদের উপর হামলা হলে কোনও মার্কিন সরকারি অফিসার সেখানে গিয়ে সাহায্য করতে পারবেন না, কারণ ওই সব জায়গায় যেতে হলে বিশেষ অনুমতির প্রয়োজন হয়।

মহিলা পর্যটকদের একলা কোথাও ঘুরতে বারণ করা হয়েছে। ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও আশপাশের পরিবেশ ও পরিস্থিতির উপর নজর রেখে ভ্রমণের পরিকল্পনা করতে বলেছে মার্কিন অ্যাডভাইসরি।

জম্মু ও কাশ্মীরের শ্রীনগর, গুলমার্গ, পহলগাঁও ও নিয়ন্ত্রণরেখার আশপাশে যাতে মার্কিন নাগরিকেরা না যান সেই বিষয়ে সতর্ক করে বলা হয়েছে, ওই সব এলাকায় যে কোনও সময় কোনও রকম আগাম আভাস ছাড়াই জঙ্গি হামলা, গোলাগুলি বিনিময় হতে পারে। তবে লে বা লাদাখে যেতে কোনও বাধা নেই।

বস্তুত সামগ্রিক ভাবে সারা ভারতেই নানা রকম অস্থিরতা, জঙ্গি হানা, উত্তরোত্তর বেড়ে যাওয়া ধর্ষণের ঘটনার একাধিক উদাহরণ দিয়ে বার বার সতর্ক করা হয়েছে মার্কিন পর্যটকদের। উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিতে নানা বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনের কার্যকলাপ ও হামলার আশঙ্কার পাশাপাশি নকশাল ও মাওবাদী অস্থিরতার বিষয়ে বিশেষ করে সাবধান করা হয়েছে মার্কিন নাগরিকদের। মহারাষ্ট্র, অন্ধ্রপ্রদেশ, ছত্তীসগড়, পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, ওড়িশা, ঝাড়খণ্ডের কিছু কিছু অংশে মাওবাদীদের সক্রিয়তা ও পুলিশ, আধা সামরিক বাহিনীর উপর তাদের হামলার কথা বলে সম্ভাব্য বিপদের জন্য আগাম সতর্ক করা হয়েছে।

Shares

Comments are closed.