সিবিআই প্যাঁচে মোদী, গ্যালারিতে মজা দেখছে তৃণমূল

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরোকদিন আগে পর্যন্ত মাঠে, ময়দানে মাইক হাতে নিয়ে রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলছিলেন, পুজো শেষ হলেই ধরপাকড় শুরু করবে সিবিআই। অর্ধেক তৃণমূলই জেলে ঢুকে যাবে!

    অথচ এখনও পর্যন্ত যা পরিস্থিতি তাতে সিবিআই নিয়ে উল্টে ল্যাজেগোবরে অবস্থা খোদ মোদী সরকারের। বস্তুত পুজোর আগে থেকেই এক প্রকার গ্যাং ওয়ার শুরু হয়ে গিয়েছিল কেন্দ্রীয় এই তদন্ত এজেন্সিতে! তা সামাল দিতে গিয়ে এখন একেবারেই ঘেঁটে ফেলেছে মোদী সরকার। এতোটাই, যে সোমবার সুপ্রিম কোর্টে পিটিশন দাখিল করে মোদী মন্ত্রিসভার এক সদস্যের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ জানিয়েছেন সিবিআইয়ের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল মণীশ কুমার সিনহা। সেই সঙ্গে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের বিরুদ্ধে। তাঁর অভিযোগ, সিবিআইয়ের স্পেশাল ডিরেক্টর রাকেশ আস্থানার বিরুদ্ধে তদন্ত করার সময় তথ্য ও প্রমাণ পাওয়ার রাস্তায় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন অজিত ডোভাল। প্রসঙ্গত, রাকেশ আস্থানা এবং অজিত ডোভাল দুজনেই মোদী-শাহের আস্থাভাজন বলে পরিচিত।

    আরও পড়ুন- মোদীর কোন মন্ত্রী এবং আমলার বিরুদ্ধে বহু কোটি টাকা ঘুষের অভিযোগ আনলেন সিবিআই কর্তা

    এ ঘটনার তীব্রতা কতদূর তা বেশ বুঝতে পারছেন বিজেপি নেতারা। সিবিআইয়ের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল মামুলি কেউ নন। সুপ্রিম কোর্টে তিনি সাক্ষ্য, প্রমাণ সমেত পিটিশন দাখিল করেছেন। স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে, রাহুল গান্ধী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়রা এই সুযোগ ছাড়বেন?বিরোধী আসনে মোদী থাকলে তিনি কী করতেন!

    এখানেই শেষ নয়, কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন সরকার বিরোধীদের শায়েস্তা করতে যে সিবিআই, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরের মতো তদন্ত এজেন্সিগুলিকে ব্যবহার করছে সেই অভিযোগ অনেক দিন থেকেই করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়রা। কদিন আগে পর্যন্ত কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন জোট এনডিএ-র শরিক ছিলেন তেলুগু দেশম নেতা তথা অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নায়ডু। এনডিএ ছেড়ে বেরিয়ে এসে এখন তাঁরও অভিযোগ তাই।

    তাৎপর্যপূর্ণ হল, কেন্দ্রীয় এই এজেন্সিকে রাজনৈতিক ভাবে অপব্যবহারের তত্ত্ব এখন মেনে নিয়েছেন খোদ সিবিআই ডিরেক্টর অলোক ভার্মা। তাঁর সঙ্গে সিবিআইয়ের স্পেশাল ডিরেক্টর তথা গুজরাত ক্যাডারের আইপিএস অফিসার রাকেশ আস্থানার কয়েক মাস ধরে সংঘাত চলছিল। দুর্নীতির অভিযোগে আস্থানার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছিলেন সিবিআই ডিরেক্টর। আবার অলোক ভার্মার বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় ভিজিলেন্স কমিশনের কাছে দুর্নীতির অভিযোগ করেছিলেন আস্থানা। এঁদের দুজনেরই সমস্ত ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে মোদী এখন তাঁদের বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠিয়েছেন। কিন্তু কেন্দ্রীয় ভিজিলেন্স কমিশনের কাছে জবানবন্দিতে সিবিআই ডিরেক্টর জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় এই তদন্ত এজেন্সি এখন কার্যত রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রেও সামিল। রাকেশ আস্থানা, প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ের এক কর্তা এবং বিহারের বিজেপি নেতা তথা উপ মুখ্যমন্ত্রী সুশীল মোদী মিলে আলোচনা করে আইআরসিটি মামলায় লালু প্রসাদের বিরুদ্ধে মামলা সাজিয়েছেন।

    সিবিআই ডিরেক্টরের এই জবানবন্দিও এখন বিরোধীদের হাতিয়ার। তৃণমূলের মুখপাত্র এ দিন বলেন, পাপ ছাড়ে না বাপকেও। তৃণমূল গোড়া থেকেই বলছে, মোদী সরকার আদ্যন্ত দুর্নীতিপরায়ণ। এবং কেন্দ্রীয় তদন্ত এজেন্সিগুলিকে তারা রাজনৈতিক ভাবে ব্যবহার করছে। এখন সিবিআই ডিরেক্টরই মেনে নিচ্ছেন সে কথা। তিনি জানান, সংসদের অধিবেশন শুরু হলেই এ বিষয়টি আলোচনার জন্য উত্থাপন করবে তৃণমূল। ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে মন্ত্রিসভা থেকে কয়লা ও খনি প্রতিমন্ত্রী হরিভাই চৌধুরীর ইস্তফা দাবি করবেন তাঁরা। সেই সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার পদ থেকে অজিত ডোভালের ইস্তফাও দাবি করা হবে। 

    The Wall-ফেসবুক পেজ লাইক করতে ক্লিক করুন  

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More