বৃহস্পতিবার, মে ২৩

অভিনন্দনের ডিব্রিফিং শেষ, গেলেন মেডিক্যাল লিভে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রায় দু সপ্তাহ হতে চলল পাকিস্তান থেকে ফিরেছেন উইং কমান্ডার অভিনন্দন বর্তমান। এই দু সপ্তাহ ধরে তাঁর নানারকম মেডিক্যাল পরীক্ষানিরীক্ষার পাশাপাশি চলেছে ডিব্রিফিং-ও। সেই ডিব্রিফিং-এর পর্ব শেষ। এখন তিনি কয়েক সপ্তাহের জন্য সিক লিভ-এ যাবেন। সিক লিভ থেকে ফিরে ফের পাইলট হিসাবে কাজ করবেন, না তাঁকে অন্য কোনও ডিউটি দেওয়া হবে, তা পরে ঠিক করবে বায়ুসেনা। সংবাদসংস্থা এএনআই এই খবর দিয়েছে।

গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ৩৫ বছরের অভিনন্দন বায়ুসেনার যে মিগ-২১ বাইসন উড়িয়ে পাকিস্তানের এয়ার ফোর্সের বিমান তাড়া করেছিলেন, সেটিকে গুলি করে নামায় পাক সেনা। যে দুদিন সে দেশের সেনাবাহিনীর অধীনে উইং কমান্ডার অভিনন্দন ছিলেন, সেই দুদিন সেখানে ঠিক কী কী হয়েছিল, সেটাই অভিনন্দনের কাছ থেকে জানতে চেয়েছে বায়ুসেনা ও অন্যান্য এজেন্সি। তাঁর উপর অত্যাচার হয়েছিল কোনও, মানসিক নিপীড়ন কতটা হয়েছিল, তাঁকে কী কী বলতে বাধ্য করা হয়েছিল, জোর করে কোনও স্বীকারোক্তি লিখিয়ে নেওয়া হয়েছিল কি না ইত্যাদি সবই ডিব্রিফিং-এর অঙ্গ। তিনি কতটা মিডিয়ার কাছে বা প্রকাশ্যে বলতে পারবেন, কী কী একেবারেই বলা যাবে না, সে সবও ঠিক করে দেওয়া হয় ডিব্রিফিং-এ। পাকিস্তানের মাটিতে তাঁর অবতরণের মুহূর্ত থেকে ওয়াঘা সীমান্ত হয়ে তাঁর ভারতে ফেরার প্রতিটি মুহূর্তের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ নিয়েছে ভারতীয় সেনা ও ভারতের অন্য গুপ্তচর ও গোয়েন্দা সংস্থা কর্তৃপক্ষ।

পুলওয়ামায় সিআরপিএফের কনভয়ের উপর জইশ-ই মহম্মদের হামলায় শহিদ হন ৪০ জন সেনা। এই ঘটনায় চরমে ওঠে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা। শুরু হয় দফায় দফায় গুলি বিনিময় ও সংঘর্ষ বিরতি। নিয়ন্ত্রণরেখায় তুমুল উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি হয়, যা এখনও অপরিবর্তিত রয়েছে। সেই সময়েই গত ২৭ ফেব্রুয়ারি জম্মু ও কাশ্মীরে পাক সেনা জেটকে ধাওয়া করতে করতে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে প্রবেশ করেন অভিনন্দন। এক দিন পরে ভারত ও আন্তর্জাতিক মহলের চাপে পড়ে অভিনন্দনকে ভারতে ফেরত দেওয়ার কথা ঘোষণা করে ইসলামাবাদ।

গত ১ মার্চ তিনি যখন ভারতে ফেরত আসেন, তখন দেশজুড়ে আনন্দের বাতাবরণ। পাকিস্তানে তাঁর সঙ্গে কেমন ব্যবহার করা হয়েছে তা জানতে ভারতবাসীর কৌতূহলের সীমা ছিল না। কিন্তু সেনাবাহিনীর নিয়ম অনুযায়ী প্রকাশ্যে সে ভাবে কিছুই বলেননি ওই বীর অফিসার। তাঁর উপর তেমন একটা শারীরিক নির্যাতন না করলেও মানসিক অত্যাচার যে করা হয়েছে সে কথা অবশ্য বলেছিলেন অভিনন্দন।

 

Shares

Comments are closed.