প্রিয়ঙ্কা এফেক্ট! উত্তরপ্রদেশে কংগ্রেসের সদস্য বাড়ল ২০ শতাংশ

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত জানুয়ারিতে প্রিয়ঙ্কা গান্ধীকে রাজনীতিতে এনে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী একটি নির্দিষ্ট বার্তা দিয়েছিলেন। তা হল, তিনি উত্তরপ্রদেশে কংগ্রেসকে ফের শক্তিশালী করে তুলতে চান। সেজন্য প্রিয়ঙ্কাকে ওই রাজ্যের পূর্বাঞ্চলে ভোট পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। মাস তিনেকের মধ্যেই বোঝা গেল, রাহুলের উদ্দেশ্য আপাতত সফল হচ্ছে। দু’মাসে কংগ্রেসের সদস্য বেড়েছে ২০ শতাংশের বেশি।

গত ২৩ জানুয়ারি প্রিয়ঙ্কা আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতিতে যোগ দেন। তাঁকে দলের সাধারণ সম্পাদক করা হয়। তার পর থেকেই কংগ্রসের শক্তি নেটওয়ার্কে সদস্যের সংখ্যা হু হু করে বাড়তে থাকে। ওই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কংগ্রেস নেতৃত্ব তৃণমূল স্তরের কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। দলের হিসাবমতো, প্রিয়ঙ্কা দায়িত্ব নেওয়ার আগে উত্তরপ্রদেশে শক্তি নেটওয়ার্কের সদস্য সংখ্যা ছিল ৫৪ লক্ষ। দু’মাসে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৬ লক্ষ। বৃদ্ধির হার ২২ শতাংশ। গতবছর জুন মাস থেকে শক্তি নেটওয়ার্ক চালু হয়েছে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, শক্তি নেটওয়ার্কে বিপুল সংখ্যায় যোগ দিয়েছেন মহিলারা। আগে ওই নেটওয়ার্কে মাত্র ২২ শতাংশ মহিলা কর্মী ছিলেন। এখন তাঁদের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০ শতাংশ। এর ফলে প্রমাণিত হয়, প্রিয়ঙ্কাকে নেতৃত্বে দেখে মহিলারা কংগ্রেসের স্বেচ্ছাসেবক হতে উৎসাহ পেয়েছেন। দেশের ৯০ কোটি ভোটারের মধ্যে ৫০ শতাংশ মহিলা।

বিহারের প্রাক্তন কংগ্রেস মন্ত্রী প্রবীণ আমানুল্লা বলেন, প্রিয়ঙ্কা গান্ধী নেত্রী হওয়ার পরে মহিলারা বেশি সংখ্যায় কংগ্রেসের প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন। এটা ভালো লক্ষণ। আরও বেশি মহিলার রাজনীতিতে আসা উচিত। এই নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। কিন্তু লোকসভা ভোটে প্রিয়ঙ্কা কত ভোট টানতে পারবেন, তা এখনও দেখা বাকি আছে। সেখানেই তাঁর আসল পরীক্ষা।

কংগ্রেসের ডেটা অ্যানালিসিস দফতরের প্রধান প্রবীণ চক্রবর্তী গতবছর শক্তি নেটওয়ার্ক তৈরি করেন। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল, লক্ষ লক্ষ কংগ্রেস কর্মীকে দলের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় শামিল করা। এখন দলের বেশিরভাগ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে শক্তি অ্যাপের মাধ্যমে ভোটাভুটি হয়।

প্রিয়ঙ্কা গান্ধীও নির্বাচনী প্রচারে শক্তি অ্যাপের সাহায্য নিয়েছেন। ফেব্রুয়ারিতে লখনউতে প্রথম রোড শো-র আগে তিনি ওই অ্যাপের মাধ্যমে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে বার্তা পাঠিয়েছিলেন। খুব সংক্ষিপ্ত সেই মেসেজে বলা হয়েছিল, আই অ্যাম প্রিয়ঙ্কা গান্ধী। আমি একটা নতুন ধরণের রাজনীতি চালু করতে চাই। আশা করি, আপনারা তাতে অংশগ্রহণ করবেন।

মোদী তো বিরিয়ানি খেতে পাকিস্তানে গিয়েছিলেন, অযোধ্যায় বললেন প্রিয়ঙ্কা

দ্য ওয়াল ব্যুরো : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছিলেন, কংগ্রেস জিতলে উৎসব হবে পাকিস্তানে। তার জবাব দিয়ে শনিবার কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বললেন, মোদী নিজে তো বিরিয়ানি খেতে পাকিস্তানে গিয়েছিলেন।

প্রিয়ঙ্কাকে প্রশ্ন করা হয়, মোদী তো বলছেন আপনারা জিতলে পাকিস্তানে উৎসব হবে। আপনি কী বলবেন? তিনি প্রথমে এড়িয়ে যেতে চান। বলেন, সে তাঁদের মতামত। পরে ফের প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, মোদী নিজে তো ২০১৫ সালে বিরিয়ানি খেতে পাকিস্তানে গিয়েছিলেন। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে মোদী আচমকাই পাকিস্তানে গিয়ে সেদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের সঙ্গে দেখা করেন। প্রিয়ঙ্কা সেকথাই উল্লেখ করেছেন। এদিন তিনি অযোধ্যায় গিয়ে সান বিম পাবলিক স্কুলের ছাত্রদের সঙ্গে কথা বলেন। তবে জানিয়ে দেন, রামমন্দিরে পুজো দেবেন না। কারণ ওই বিষয়টি আদালতের বিচারাধীন।

উত্তরপ্রদেশে টানা তিন দিন ধরে ভোটের প্রচার করছেন প্রিয়ঙ্কা। এদিন অযোধ্যায় তিনি ১৫ কিলোমিটার জুড়ে মেগা রোড শো করেন। পথের চারপাশে পোস্টার দেখা যায়, ইন্দিরা গান্ধী ফিরে এসেছেন। সান বিম পাবলিক স্কুলের সামনে থেকে রোড শো শুরু হয়। হনুমানগড়ি মন্দিরের সামনে শেষ হয়। প্রিয়ঙ্কা মন্দিরে পুজো দেন।

প্রিয়ঙ্কার সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে এদিন এক কংগ্রেস কর্মী আহত হন। তাঁকে এসপিজি ঠেলে দিয়েছিল। তাঁর হাতে আঘাত লাগে। তাঁর নাম বিশাল সোনকর। তিনি বলেন, আমি প্রিয়ঙ্কা দিদিকে ইন্দিরা গান্ধীর একটি ফোটো উপহার দিতে গিয়েছিলাম। আমি যখন তাঁর কাছে পৌঁছে গিয়েছি, এসপিজি ঠেলে দেয়। আমার হাতে ছবির ফ্রেম ছিল। ধাক্কা লেগে ছবির ফ্রেম ভেঙে যায়। কাচ ভেঙে আমার হাতে ঢুকে যায়। প্রিয়ঙ্কা দিদি ব্যাপারটা লক্ষ করে আমাকে ডাকেন। আমার হাতে ফার্স্ট এইড দেন।

এদিন মোদীর সমালোচনা করে প্রিয়ঙ্কা বলেন, তিনি কেবল ধনী ও প্রভাবশালী লোকজনের সঙ্গে দেখা করেন। দরিদ্র গ্রামবাসীর সঙ্গে দেখা করার সময় পান না।

এদিন ফৈজাবাদ জেলার আটকা গ্রামে নোউয়া খান এলাকায় প্রিয়ঙ্কা স্থানীয় মহিলাদের সঙ্গে দেখা করেন। ঝাঁ ঝাঁ রোদের মধ্যে তাঁরা কংগ্রেস নেত্রীর সঙ্গে দেখা করার জন্য দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়েছিলেন। পরে প্রিয়ঙ্কা বলেন, আমি মহিলাদের জিজ্ঞাসা করলাম, আপনাদের গ্রামে উন্নয়ন হয়েছে কি? তাঁরা বললেন, ১৫ কিলোমিটার রাস্তা তৈরি হয়েছে। আমি প্রশ্ন করলাম, ওই রাস্তা তৈরির প্রকল্প কখন অনুমোদিত হয়েছিল। তাঁরা বললেন, কংগ্রেসের আমলে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More