মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৭

প্লিজ বসুন, আদালতে চিদম্বরমকে চেয়ারে বসতে অনুরোধ করেন বিচারকও, কিন্তু বসেননি পি সি

দ্য ওয়াল ব্যুরো: এ কথা ঠিক তাঁকে ‘কিংপিন অ্যান্ড কি কনস্পিরেটর’ বলেছে আদালত। এ কথা ঠিক যে তিনি প্রায় ২৭ ঘণ্টা সিবিআইয়ের ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন। এ কথাও ঠিক যে  সিবিআই পাঁচিল টপকে বাড়ির ভিতরে ঢুকে নাটকীয় ভাবে বুধবার রাতে তাঁকে গ্রেফতার করেছে। অসম্মানের বাকি কিছুই নেই। তবুও এটাও ঠিক যে তিনি দেশের প্রাক্তন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী ও প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। হার্ভার্ড বিজ়নেস স্কুলে শিক্ষিত।

বৃহস্পতিবার যখন পি চিদম্বরমকে সিবিআই আদালতে তোলা হয়, তাঁর জন্য একটি চেয়ারের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। বিচারক তাঁকে বসতে বলেন। কিন্তু চিদম্বরম বসেননি, তিনি দাঁড়িয়েই থাকবেন বলে জানান বিচারককে। শুধু দাঁড়িয়েই নয়, হাসি মুখেই ছিলেন শুনানির বেশির ভাগ সময়।

সিবিআই আদালতের বিচারক, সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতা ও সিবিআই-এর পক্ষ থেকে চিদম্বরমকে একাধিকবার অনুরোধ করে বলা হয়, প্লিজ় বসুন। কিন্তু তার জবাবে চিদম্বরম বলেন, না না, ঠিক আছে, আমি দাঁড়াবো।

অভিযুক্তের দাঁড়ানোর জায়গা কাঠগড়ার কাছেই আনা হয়েছিল একটি চেয়ার। কিন্তু আগাগোড়া দাঁড়িয়েই থাকলেন পি সি। হাসি হাসি মুখেই।

তার আগে যখন চিদম্বরমকে সিবিআই আদালতে ঢুকছিলেন, তাঁকে দেখা যায় সেখানে উপস্থিত আইনজীবীদের নমস্কার করতে। তার পরে তাঁর নিজের আইনজীবী কপিল সিব্বল, অভিষেক মনু সিংভি ও দয়ান কৃষ্ণণের সঙ্গে চিদম্বরমকে গম্ভীর ভাবে কথাবার্তা বলতে দেখা যায়।

সলিসিটার জেনারেল মেহতা পাঁচ দিনের হেফাজত চেয়ে বলেন, চিদম্বরম তাঁদের সঙ্গে সহযোগিতা করছেন না। প্রশ্নের জবাবে প্রাসঙ্গিক বিষয় এড়িয়ে যাচ্ছেন। এই কারণেই তাঁকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি।

অভিযুক্ত প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী নিজে এদিন আদালতে সওয়াল করার অনুমতি চান। বিচারক অনুমতি দিলে চিদম্বরম বলেন, “আমাকে যা প্রশ্ন করা হয়েছিল, আর আমি যা জবাব দিয়েছি, সব দেখুন। এমন কোনও প্রশ্ন নেই, আমি যার উত্তর দিইনি। আমাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, বিদেশে কি আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট আছে? আমি বলেছি, না নেই। আমার কাছে জানতে চাওয়া হয়, বিদেশে আপনার ছেলের কি ব্যাঙ্ক অ্যা কাউন্ট আছে। আমি বলেছি, হ্যাঁ, আছে।”

চিদম্বরমের হয়ে সওয়াল করেন কংগ্রেস নেতা কপিল সিব্বল। তিনি বলেন, বুধবার রাতে সিবিআই বলেছিল, প্রাক্তন অর্থমন্ত্রীকে জেরা করতে চায়। বৃহস্পতিবার বেলা ১২টা পর্যন্ত তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরুই করেনি। পরে তাঁকে মাত্র ১২টি প্রশ্ন করা হয়েছে। সিবিআইয়ের জানা উচিত, চিদম্বরমকে কী প্রশ্ন করতে হবে। তারা এমন কয়েকটি প্রশ্ন করেছে, যার সঙ্গে প্রাক্তন অর্থমন্ত্রীর কোনও সম্পর্কই নেই।

চিদম্বরমের হয়ে এদিন সওয়াল করেন কংগ্রেসের অপর আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি। তিনি বলেন, ২০১৮ সালের জুন মাসে প্রথমবার চিদম্বরমকে ডাকা হয়। তার কয়েকমাস আগে রাজসাক্ষী ইন্দ্রাণী মুখার্জির বয়ান রেকর্ড করা হয়েছিল। প্রাক্তন অর্থমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে কেবল কেস ডায়েরি ও এক ব্যক্তির জবানবন্দির ওপর ভিত্তি করে।

Comments are closed.