মঙ্গলবার, অক্টোবর ১৫

পোষা কুকুরকে কিডন্যাপ করেছেন জোম্যাটো-র ডেলিভারি বয়! টুইটারে অভিযোগ দম্পতির

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পোষ্য কুকুরকে নিয়ে পালিয়ে গিয়েছেন জোম্যাটোর ডেলিভারি বয়! সম্প্রতি টুইটারে এমনই অভিযোগ জানিয়েছেন পুনের বাসিন্দা বন্দনা শাহ।
পুনের কারভে রোডের বাসিন্দা বন্দনা। স্বামীর সঙ্গে থাকেন তিনি। বাড়ির অন্যতম সদস্য আদরের পোষ্য ‘ডোত্তু’। কিন্তু এই ‘বিগল’ কুকুরটিই খোয়া গিয়েছে গত সোমবার। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে হারিয়ে যাওয়ার আগে পর্যন্ত বাড়ির ভিতরেই ছিল সে। এখানে ওখানে খেলে বেরাচ্ছিল। প্রথমে বন্দনা বা স্বামী কেউ বুঝতে পারেননি যে ডোত্তু হারিয়ে গিয়েছে। পরে ব্যাপারটা নজরে আসতেই আশেপাশের প্রতিবেশীর বাড়িতে পোষ্যকে খুঁজতে যান বন্দনা স্বামী। কিন্তু কোথাওই হদিশ মেলেনি তার। এরপর থানাতেও মিসিং ডায়েরি করান ওই দম্পতি। পোষ্য কুকুরকে খুঁজে দেওয়ার আশ্বাস দেয় পুলিশ।
তাহলে কী এমন হল যে সটান জোম্যাটো-র ডেলিভারি বয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনলেন দম্পতি?
বন্দনার স্বামী জানিয়েছেন, আশেপাশেও নিজের হারিয়ে যাওয়া পোষ্যের খোঁজ করছিলেন তিনি। সেই সময়ে স্থানীয় একটি খাবারের দোকানের সামনে দাঁড়িয়েছিলেন বেশ কয়েকজন জোম্যাট-র ডেলিভারি বয়। তাঁদেরই মধ্যে একজন চিনতে পারেন কুকুরটিকে। তিনিই জানান, তাঁদেরই এক সহকর্মী নিয়ে গিয়েছে কুকুরটিকে। জানা যায়, ওই ডেলিভারি বয়ের নাম তুষার। এমনকি নিজেদের পোষ্যের সঙ্গে তুষারের একটি ছবিও পান বন্দনা এবং তাঁর স্বামী।
বন্দনা জানিয়েছেন, তুষারের নম্বর জোগাড় করে তাঁকে ফোন করা হয়। কুকুরটির ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে তুষার স্বীকার করেন যে ডোত্তুকে তিনিই সঙ্গে করে নিয়ে এসেছেন। বন্দনা এবং তাঁর স্বামীর অভিযোগ, এরপর পোষ্যকে ফিরিয়ে দিতে বলার পর থেকেই নানান বাহানা দিতে শুরু করেন তুষার। তিনি জানান যে কুকুরটিকে নিজের গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছেন। দম্পতি জানিয়েছেন, “আমরা ওঁকে টাকাও দিতে চেয়েছিলাম। বলেছিলাম শুধু আমাদের পষ্যকে ফিরিয়ে দিতে। কিন্তু উনি রাজি হননি। উল্টে ফোন অফ করে দিয়েছেন। আমরা আর যোগাযোগও করতে পারছি না।”

একপ্রকার বাধ্য হয়েই জোম্যাট কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হয়েছেন পুনের শাহ দম্পতি। সাড়া দিয়েছে ফুড ডেলিভারি সংস্থাও। কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, “এমন ঘটনা কখনই কাম্য নয়। ৭ অক্টোবর যে খাবারের অর্ডার আপনারা দিয়েছিলেন তার ডিটেলস আমাদের জানান। দ্রুত আমাদের প্রতিনিধি আপনাদের বাড়িতে পৌঁছে যাবে।” তবে কেবল ডেলিভারি বয় তুষার নয়, পুলিশের আচরণেও ক্ষুব্ধ এই দম্পতি। তাঁদের অভিযোগ, পোষ্য কুকুরকে খুঁজে এনে দেবে এমন আশ্বাস দেওয়ার পরেও কোনও লিখিত অভিযোগ নেয়নি থানা।

Comments are closed.