মঙ্গলবার, অক্টোবর ২২

একুশ বছরে এই প্রথম গাড়ি বিক্রি এত কম, দু সপ্তাহের বেশি উৎপাদন বন্ধ রাখবে অশোক লেল্যান্ড

দ্য ওয়াল ব্যুরো: গাড়ি শিল্পের উপর যে মন্দার মেঘ ঘনাচ্ছে তা গত দু’মাস ধরেই টের পাওয়া যাচ্ছিল। এখন দেখা যাচ্ছে, ভয়ঙ্কর মন্দা গ্রাস করে ফেলেছে এই শিল্পকে। দেশের গড় জাতীয় উৎপাদনের সাত শতাংশই আসে যে শিল্প থেকে।

হিসাব বলছে, অগস্ট মাসে ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য চার চাকার গাড়ি বিক্রি ৪১ শতাংশ কমে গিয়েছে। একই ভাবে কমে গিয়েছে ট্রাকের বিক্রিও। তার ফলে সোমবার বিকেলে দেশের অন্যতম বৃহৎ ট্রাক উৎপাদক সংস্থা অশোক লেল্যান্ড জানিয়ে দিল, গোটা দেশে তাদের বিভিন্ন কারখানায় দীর্ঘ সময় উৎপাদন বন্ধ থাকবে। উত্তরাখণ্ডের পন্থনগরের কারখানা বন্ধ থাকবে ১৮ দিন। চেন্নাইয়ের কারখানায় ১৬ দিন উৎপাদন বন্ধ থাকবে।

অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, গাড়ি শিল্পে এই মন্দা অশনিসংকেত। কারণ এই শিল্পটা ছাতার মতো। এর সঙ্গে অনুসারী অনেক শিল্প জড়িয়ে। একটা গাড়ি তৈরি করতে ৩০ হাজার বডি পার্টস প্রয়োজন হয়। এর মধ্যে অনেক কিছুই অনুসারী শিল্প সংস্থায় তৈরি হয়। ফলে গাড়ি শিল্পে মন্দা গ্রাস হলে তা শিল্পক্ষেত্রে বড় প্রভাব ফেলতে বাধ্য। এর ফলে প্রচুর কর্মী ছাঁটাইয়ের আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ইন্ডিয়ান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের রিপোর্টে বলা হয়েছে, অগস্ট মাসে গাড়ি বিক্রি অনেকটাই পড়ে গিয়েছে। টু হুইলার গাড়ি তথা স্কুটার, মোটর সাইকেল বিক্রি আগের বছরের তুলনায় ৩১.৫৭ শতাংশ কমে গিয়েছে। ২০১৮ সালের অগস্ট মাসে ২ লক্ষ ৮৭ হাজার টু হুইলার বিক্রি হয়েছিল গোটা দেশে। সেই তুলনায় গত মাসে ১ লক্ষ ৯৭ হাজার টু হুইলার বিক্রি হয়েছে। তবে সব থেকে বেশি ধাক্কা লেগেছে যাত্রিবাহী গাড়ির বিক্রিতে। মূলত ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ব্যবহার করা গাড়ির বিক্রি ধপ করে পড়ে গিয়েছে।

প্রশ্ন হল এর কারণ কী?

সহজ উত্তর হল, বাজারে চাহিদা নেই তাই। কিন্তু কেন তা নেই? মানুষের যে গাড়ির প্রয়োজন নেই তা তো নয়! তা হলে? অনেকের মতে, বাজারে আস্থার ঘাটতি তৈরি হয়েছে। কেউ কাউকে বিশ্বাস করছে না। সরকারের উপরেও আস্থার ঘাটতি হচ্ছে। সমাজের মধ্যবিত্ত অংশ তথা চাকুরিজীবীরা গাড়ি কেনা কমিয়ে দিয়েছে। কারণ, মন্দার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে তাদের উপর। কেউ কেউ চাকরি হারাচ্ছেন, কারও বা শঙ্কা রয়েছে ভবিষ্যৎ নিয়ে। ফলে টাকা বের করতে চাইছেন না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মন্দার তুলনায় এই প্যানিকটা আরও খারাপ। এতে বাজারের আরও ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Comments are closed.