মুম্বই পুলিশ এতদিন যা তদন্ত করছে তা কেবলই ‘আইওয়াশ’, অভিযোগ সুশান্তের বাবার

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর ঘটনায় ক্রমশই বাড়ছে রহস্য। মুম্বই পুলিশের পাশাপাশি সুশান্তের মৃত্যুর তদন্ত শুরু করেছিল বিহার পুলিশও। তবে সুশান্তের মৃত্যুর তদন্ত যাতে বিহার থেকে মুম্বইতে স্থানান্তর করা হয় সে ব্যাপারে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেছিলেন প্রয়াত অভিনেতার বান্ধবী রিয়া চক্রবর্তী। গত ৫ অগস্ট এই মামলার শুনানি ছিল। সেদিন সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল এই মামলা প্রসঙ্গে মুম্বই ও বিহার পুলিশ এবং সুশান্তের বাবার যা বলার তা যেন তিনদিনের মধ্যে লিখিত রিপোর্টে জমা দেওয়া হয়। সেই প্রসঙ্গে শনিবার সুপ্রিম কোর্টে একটি হলফনামা জমা দিয়েছে মুম্বই পুলিশ। সুশান্তের মৃত্যুর তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে স্থানান্তর প্রসঙ্গে এ দিন মুম্বই পুলিশ বলেছে যা হয়েছে তা অশোভনীয়।

প্রসঙ্গত, বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের কাছে ছেলের মৃত্যুর সিবিআই তদন্তের আর্জি জানিয়েছিলেন সুশান্তের বাবা কে কে সিং। এরপর বিহার সরকার কেন্দ্রের কাছে আর্জি জানিয়েছিল যাতে সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে দেওয়া হয়। সেই আবেদন মেনে নেয় কেন্দ্র। তারপরই সুশান্তের মৃত্যুর তদন্তের দায়িত্ব নিয়েছে সিবিআই। রিয়া চক্রবর্তী এবং তাঁর ভাই-বসব-মা সহ মোট সাতজনের বিরুদ্ধে এফআইআরও দায়ের করেছে সিবিআই। এই প্রসঙ্গে গতকাল মুম্বই পুলিশ জানিয়েছে, সিবিআইয়ের উচিত ছিল সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত সিন্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করে। পাশাপাশি তারা এও বলেছে যে যেহেতু মুম্বই পুলিশ এই ঘটনার তদন্ত করছিল তাই সিবিআইয়ের উচিত ছিল তাদের চূড়ান্ত রিপোর্ট পেশ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা।

অন্যদিকে রিয়ার আপিলের পাল্টা হলফনামায় সুশান্তের বাবা দাবি করেছেন, মুম্বই পুলিশ এতদিন যে তদন্ত করেছে তা কেবলই ‘আইওয়াশ’। সুশান্তের বাবার আরও অভিযোগ, যে রিয়া চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে তাঁদের পরিবারের এত সন্দেহ তাঁকেই গোটা তদন্তে আড়াল করার এবং বাঁচানোর চেষ্টা করেছে মুম্বই পুলিশ।

গতকাল মহারাষ্ট্র সরকারের তরফেও একটি হলফনামা জমা দেওয়া হয়েছে। বান্দ্রা থানার সাব-ইন্সপেক্টর ভূষণ মহাদেব বেলনেকর সেই হলফনামায় জানিয়েছেন, সিবিআইয়ের উচিত ছিল আগেভাগেই কেস ফাইল না করে এবং তদন্তের জন্য স্পেশ্যাল টিম গঠন না করে বরং যে তদন্ত এতদিন ধরে চলছে তার চূড়ান্ত রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করা। সাব-ইন্সপেক্টর ভূষণ আরও জানিয়েছেন যে এ যাবৎ সুশান্তের মৃত্যুর তদন্তে মুম্বই পুলিশ ৫৬ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তাদের বয়ান রেকর্ড করেছে। তিনি বলেছেন, মুম্বই পুলিশ যথেষ্ট স্বচ্ছভাবে, কোনও পক্ষ না নিয়ে এবং পেশাদারিত্বের সঙ্গেই এই তদন্ত করেছে। সুশান্তের মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখতে গিয়ে সমস্ত সম্ভাবনাই খুঁটিয়ে দেখা হয়েছে।

মুম্বই পুলিশের তরফে আরও বলা হয়েছে যে তারা তদন্ত করছে জেনেও সুশান্তের বাবা প্রাথমিক ভাবে কোনও এফআইআর দায়ের করার কথা বলেননি। মুম্বই পুলিশের দাবি, অভিনেতার আকস্মিক মৃত্যুর পরেই তাঁর পরিবার, বন্ধু ও ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু সেই সময় এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে কারও বিরুদ্ধেই অভিযোগ আনা হয়নি।

যদিও মুম্বই পুলিশের হলফনামার পাল্টা নিজের হলফনামায় সুশান্তের বাবা বলেছেন, এ বছর ফেব্রুয়ারি মাসে ১৯ ও ২৫ তারিখেই মুম্বই পুলিশকে জানানো হয়েছিল যে অভিনেতার প্রাণ সংশয়ের সম্ভাবনা আছে। তবে কোনও ব্যবস্থা নেয়নি মুম্বই পুলিশ। প্রয়াত অভিনেতার বাবা আরও বলেছেন, তদন্তের ৫৪ দিনের মাথায় এসেও যদি রিয়ার বিরুদ্ধে মুম্বই পুলিশ কোনও প্রমাণ না পায় তাহলে এটাই স্পষ্ট হয় যে রিয়াকে বাঁচানোর এবং আড়াল করার চেষ্টা চলছে। কী কারণে এমন করা হচ্ছে সেটা যাঁরা করছেন তাঁরাই ভাল জানেন। সুশান্তের বাবা আরও বলেছেন যে প্রমাণ লোপাটের সন্দেহেই সিবিআইয়ের হাতে তদন্তভার স্থানান্তরের আর্জি জানানো হয়েছিল।

নিজের হলফনামায় সুশান্তের বাবা আরও বলেছেন যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছিলেন রিয়া। অথচ এখন মনে হচ্ছে যে তিনি নিজেই এসব থেকে সম্পূর্ণ অন্যদিকে ঘুরে যেতে চাইছেন। এর পাশাপাশি আক্ষেপের সঙ্গে কে কে সিং বলেছেন যে মুম্বই পুলিশ এবং মহারাষ্ট্র সরকার এমন একজন বাবার কথায় পাত্তা দেয়নি যাঁর কাছে নির্দিষ্ট একজনের বিরুদ্ধে যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে এবং এক বছর ধরে চলতে থাকা সেই নির্দিষ্ট ব্যক্তির রহস্যজনক কার্যকলাপই এই বাবার একমাত্র ছেলের মৃত্যু কারণ। এর পাশাপাশি কে কে সিং বলেছেন যে সুপ্রিম কোর্টে শুনানির প্রথম দিনেই এই তদন্তে রাজনৈতিক রঙ লাগানো হয়েছিল, যা সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More