বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২৫

দিদির বিরুদ্ধে মুখ খুলবেন কি, নিজেই বেজায় চাপে মোদী

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঘনঘন বঙ্গে আসছেন নরেন্দ্র মোদী। সেই চেনা স্বর ও সুরে দিদি’.. দিদি বলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সুর চড়াচ্ছেন তিনি। সেদিন দুর্গাপুরে ছিলেন যথেষ্টই আক্রমণাত্মক। শুক্রবার বিকেলে ময়নাগুড়ির জনসভা থেকেও চিটফান্ড নিয়ে কম আক্রমণ শানালেন না তিনি। 

কিন্তু এর মধ্যেই রাফাল বিতর্কে নিজেই প্রবল চাপে পড়ে গেলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রাফাল চুক্তিতে যে দুর্নীতি ও স্বজনপোষণ হয়েছে তা প্রমাণ করতে সর্বভারতীয় স্তরে অনেকে মরিয়া। সজাগ সংবাদমাধ্যমের একাংশও। শুক্রবার সকালে সেই তদন্তমূলক সাংবাদিকতার মাধ্যমেই ‘দ্য হিন্দু’ কাগজের একদা সম্পাদক এন রাম একটি প্রতিবেদনে উস্কে দিয়েছেন নতুন বিতর্ক। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের একটি নোট প্রকাশ করে দিয়ে রাম দেখিয়েছেন, রাফাল নিয়ে দাসো এভিয়েশনের সঙ্গে দরকষাকষিতে বিলক্ষণ জড়িত ছিল প্রধানমন্ত্রীর সচিবলায়। যা নিয়ে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের কর্তাদের তীব্র আপত্তি ছিল।

২০১৫ সালের ২৪ নভেম্বর প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের অফিসাররা তৎকালীন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মনোহর পারিক্করকে এই নোটটি পাঠিয়েছিলেন। তাতে কঠোর ভাষায় লেখা রয়েছে, সুতরাং এটা স্পষ্ট, যে সমান্তরাল দরকষাকষি (রাফায়েল নিয়েপ্রধানমন্ত্রীর সচিবালয় চালাচ্ছে, তাতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এবং মন্ত্রকের দরকষাকষি সংক্রান্ত টিমের অবস্থান দুর্বল হচ্ছে। তাই প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়কে আমরা অনুরোধ করতে পারি যে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের টিম ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ের কোনও অফিসার যেন ফরাসি সরকারের সঙ্গে কোনও সমান্তরাল আলোচনা না চালায়। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের উপর যদি প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ের আস্থা না থাকে, তা হলে নতুন করে দরকষাকষি শুরু করতেই পারে।

সন্দেহ নেই, উনিশের ভোটের আগে এই নোট ফাঁস হয়ে যাওয়া মানে জাতীয় রাজনীতিতে বিস্ফোরণ ঘটে যাওয়া। বৃহস্পতিবারও লোকসভায় দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী রাফায়েল প্রসঙ্গে কংগ্রেসকে খোঁচা দিয়ে বলেছিলেন, এ ব্যাপারে মিথ্যা প্রচার হচ্ছে। বরং এর আগে সততার সঙ্গে কোনও প্রতিরক্ষা চুক্তি সম্পাদন করা হয়নি। কখনও চাচা কখনও বা মামা এসে পড়েছে।

কিন্তু প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের এই ফাঁস হওয়া নোট মোদীর দাবিকে চুপসে দিয়েছে বলে অনেকে মনে করছেন। কারণ, এই নোট অনেক প্রশ্ন তুলছে। প্রথমত কীসের স্বার্থে রাফায়েলের দরকষাকষিতে নাক গলিয়েছিল প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়কাউকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্য ছিল কিতা ছাড়া রাফায়েল নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলার সময় সরকারের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছিল যে , প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয় এ ব্যাপারে কোনওরকম দরকষাকষির মধ্যে ছিল না। ফরাসি সরকারের সঙ্গে যা দরকষাকষি করার, তা প্রতিরক্ষা মন্ত্রকই করেছে। ফলে আদালতে মিথ্যা তথ্য দেওয়া হয়েছে বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে। যা সুপ্রিম কোর্টকে অবমাননা করার সামিল।

স্বাভাবিক ভাবেই এ দিন সাত সকালে ওই নোট হাতে নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেছেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। তার পর বলেছেন, তা হলে প্রমাণ হয়ে গেল যে চৌকিদারই চোর। মোদীজি তো আমার আপনার সুবিধার জন্য রাফায়েল নিয়ে দরকষাকষিতে নাক গলাননি। তা তিনি করেছিলেন, অনিল আম্বানিকে ৩০ হাজার কোটি টাকা ফায়দা পাইয়ে দিতে।

এই নোট ফাঁসের ঘটনায় ফের নাম উঠে এসেছে প্রাক্তন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মনোহর পারিক্করের। মাঝে একটি অডিও টেপ ফাঁস হয়েছিল তাঁকে নিয়ে। তাতে শোনা যাচ্ছিল, গোয়ার বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী পারিক্কর মন্ত্রিসভার বৈঠকে বলেছেন, রাফায়েল চুক্তি নিয়ে তাঁর বেডরুমে কাগজ রেখে দিয়েছেন তিনি।

প্রশ্ন উঠেছে তিনি কি এই নোটটির কথাই বলতে চেয়েছিলেনরাজনৈতিক ভাবে পারিক্কর সৎ ও নিষ্ঠাবান বলেই পরিচিত। তাঁর বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত দুর্নীতির কোনও অভিযোগ নেই। অনেকের মতে, হয়তো বা নিজের সততার প্রমাণ রাখতেই কিছু নথির প্রতিলিপি নিজের কাছে রেখেছিলেন পারিক্কর। কারণ, প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয় দরকষাকষি করার ফলে কোনও বিতর্ক তৈরি হলে তাঁর ঘাড়ে দায় পড়তে পারে। সম্প্রতি আবার অসুস্থ পারিক্করের সঙ্গে গোয়ায় তাঁর বাড়িতে গিয়ে দেখা করেছিলেন রাহুল। সব মিলিয়ে নোট ফাঁস নিয়ে ধোঁয়াশার চাদর যেন কেউ বিছিয়ে দিয়েছে নয়াদিল্লির ক্ষমতার করিডরের উপর।

এই অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী বা তাঁর সচিবালয় অবশ্য কোনও মন্তব্য করেনি। তবে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী নির্মলা সীতারমন বলেন, রাফায়েল নিয়ে সব প্রশ্নের জবাব স্বচ্ছতার সঙ্গে সংসদে দিয়েছে সরকার। এ ব্যাপারে খামোখা মিথ্যা প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে কংগ্রেস এবং স্বার্থাণ্বেষী কেউ কেউ। 

Shares

Comments are closed.