বৃহস্পতিবার, জুন ২০

প্রেমিকাকে বিয়ে করতে নারাজ, খুন করে দেহ স্যুটকেসে ভরে ড্রেনে ফেলে দিলেন প্রেমিক

দ্য ওয়াল ব্যুরো: অনেকদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল তাঁদের। সেই কলেজে পড়ার সময় থেকেই। চাকরি পাওয়ার পর তাই বিয়ে করে সংসার করতে চেয়েছিলেন প্রেমিকা। কিন্তু ততদিনে মত পাল্টে গিয়েছে প্রেমিকের। বিয়ে করার আর ইচ্ছে ছিল না তাঁর। বিয়ের ঝামেলা এড়াতে তাই প্রেমিকাকে খুনই করে দিলেন প্রেমিক। তারপর দেহ স্যুটকেসে ভরে ফেলে দিলেন রাস্তার পাশে ড্রেনে।

শিউরে ওঠার মতো এই ঘটনা ঘটেছে হায়দ্রাবাদে। স্যুটকেসের ভিতর থেকে উদ্ধার হয়েছে বছর পঁচিশের এক তরুণীর পচাগলা দেহ। পুলিশ জানিয়েছে, ওই তরুণী পেশায় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। রবিবার হায়দ্রাবাদের মেদচলে একটি ড্রেন থেকে উদ্ধার হয়েছে ইঞ্জিনিয়ারের দেহবন্দি ওই স্যুটকেস। পুলিশ জানিয়েছে, তরুণীকে খুন করেছেন তাঁরই প্রেমিক। পেশায় মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ার সুনীল ছিলেন ওই তরুণীর কলেজের বন্ধু। সেই সময়েই সম্পর্ক গড়ে ওঠে দু’জনের মধ্যে। কিন্তু তরুণীকে বিয়ে করতে রাজি ছিলেন না তাঁর প্রেমিক। আর বিয়ে করবেন না বলেই প্রেমিকাকে খুন করেছেন সুনীল।

মেদচলের একটি স্কুলের কাছে ড্রেনের মধ্যে পড়েছিল ঢাউস একখানা স্যুটকেস। দেখেই সন্দেহ হয় স্থানীয়দের। খবর দেওয়া হয় পুলিশে। এরপর পুলিশ এলে স্যুটকেসের ভিতর থেকে উদ্ধার হয় তরুণীর দেহ। পুলিশ জানিয়েছে, গত ৭ মার্চ মৃতার পরিবার পুলিশে অভিযোগ দায়ের করে। তারা জানায়, ৪ মার্চ থেকে নিখোঁজ রয়েছে তাদের বাড়ির মেয়ে। মিসিং ডায়েরি পাওয়ার পরেই তদন্তে নামে পুলিশ। পরিবারের কাছেই পুলিশ জানতে পারে সুনীল নামে একজনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল ওই তরুণীর। বিহারের বাসিন্দা সুনীল হায়দ্রাবাদে এসেছিলেন চাকরি করতে। মৃতার পরিবার জানায়, চাকরি সূত্রে মাসকট যাওয়ার কথা ছিল সুনীলের। সঙ্গে যাওয়ার কথা ছিল ওই তরুণীরও। আর সেই জন্যেই দু’জনে ভিসা ইন্টারভিউ দিতে গিয়েছিলেন। গত ৪ মার্চ হায়দ্রাবাদ এয়ারপোর্টে তরুণীকে পৌঁছে দিতে গিয়েছিল তাঁর পরিবার। সেটাই শেষ দেখা বলে পুলিশকে জানান মৃতার বাবা-মা।

পুলিশ জানিয়েছে, বান্ধবীকে নিয়ে সেদিন অর্থাৎ ৪ মার্চ একটি লজে গিয়ে ওঠেন সুনীল। পুলিশ অফিসার রামচন্দ্র রাও জানিয়েছেন, একদিন পরে অর্থাৎ ৫ মার্চ নিজের প্রেমিকাকে খুন করেন সুনীল। তারপর স্যুটকেসে দেহ ভরে ফেলে রেখে যান ড্রেনে। ইতিমধ্যেই সুনীলের বিরুদ্ধে অপহরণ এবং খুনের মামলা রুজু করেছে হায়দ্রাবাদ পুলিশ।  ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে তরুণীর দেহ। পুলিশ জানিয়েছে, রিপোর্ট হাতে পেলেই জানা যাবে কী ভাবে খুন করা হয়েছে ওই তরুণীকে।

Comments are closed.