শুক্রবার, জানুয়ারি ১৮

কংগ্রেসকে বাইরে রেখেই উত্তরপ্রদেশে জোট ঘোষণা অখিলেশ-মায়ার

দ্য ওয়াল ব্যুরো: জানুয়ারির ৪ তারিখে দিল্লিতে বৈঠক করে উত্তর প্রদেশের জোট প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছিলেন বুয়া-ভাতিজা। মাঝের কয়েকদিন আসন বণ্টন নিয়ে আলোচনা চলেছে অখিলেশ যাদব এবং মায়াবতীর। শনিবার দুপুরে লখনউয়ে সাংবাদিক বৈঠক করে উত্তর প্রদেশের দুই দলের প্রধান জানিয়ে দিলেন, জোট করেই বিজেপি-র বিরুদ্ধে উনিশের ভোট লড়বেন তাঁরা।

এ দিন সাংবাদিক বৈঠকে সমাজবাদী পার্টি এবং বহুজন সমাজ পার্টির প্রধান জানান, ৩৮ টি করে আসনে লড়াই করবে এসপি এবং বিএসপি। কংগ্রেসকে বাইরে রেখে জোট করলেও মায়া-অখিলেশ জানিয়ে দিলেন, অমেঠি এবং রায়বরেলীতে প্রার্থী দেবে না জোট। উত্তর প্রদেশে মোট আসন ৮০। জোট লড়বে ৭৬টিতে। অমেঠি এবং রায়বরেলী কংগ্রেসের জন্য ফাঁকা রাখলেও বাকি থাকবে আরও দুটি আসন। এ দিনের সাংবাদিক বৈঠকে উত্তর প্রদেশের দুই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দিয়েছেন, ওই দুটি আসন শরিকদের ছাড়া হবে। মনে করা হচ্ছে, অজিত সিং-এর রাষ্ট্রীয় লোকদল লড়তে পারে ওই দুটি আসনে।

এ দিন সাংবাদিক বৈঠকের শুরুতেই বহেনজি বলেন, “এই সাংবাদিক বৈঠক ঘুম ছোটাবে মোদী, অমিত অমিত শাহের।” মায়াবতী এ দিন বলেন, “বফর্সে কংগ্রেসের সরকার গিয়েছিল। রাফায়েলে যাবে মোদীর সরকার। নোটবন্দি থেকে জিএসটি, সবেতেই দুর্নীতি চলেছে।” দুর্নীতির প্রশ্নে কংগ্রেস এবং বিজেপি-র বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান মায়া। তাঁর কথায়, “৭৫-এ কংরেসি জমানায় ছিল ঘোষিত জরুরি অবস্থা। আর মোদীর সময়ে অঘোষিত জরুরি অবস্থা জারি হয়েছে।” ইভিএম নিয়েও মন্তব্য করেন দলিত নেত্রী। তাঁর কথায়, “ইভিএমে যদি গণ্ডগোল না হয়, তাহলে এ বার মোদীর গদি যাচ্ছেই।”

সমাজবাদী পার্টি প্রধান অখিলেশ যাদবও পষ্টাপষ্টি জানিয়ে দেন, “জোট হলে উত্তরপ্রদেশের মাটিতে বিজেপি-কে হারানো সম্ভব। এবং সেটা রাজ্যের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ করে দেখাবেন।” বেআইনি বালি খাদান মামলায় কয়েক দিন আগেই অখিলেশের দলের নেতাদের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। সে ব্যাপারে মায়াবতীকে এ দিন প্রশ্ন করা হয়, অখিলেশের বিরুদ্ধে তো বেআইনি বালিখাদান কেলেঙ্কারির তদন্ত চলছে। তাঁকে নিয়ে লড়লে ভোটে অসুবিধে হবে না? পোড় খাওয়া মায়াবতীর উত্তর যেন ঠোঁটের ডগায় আটকে ছিল। বললেন, “বিজেপি সরকারে আসার পর থেকেই বিরোধীদের দমন করতে কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলিকে লেলিয়ে দিচ্ছে। বিজেপি-র বিরুদ্ধে  মুখ খুললেই বাড়িতে গোয়েন্দা পাঠাচ্ছে। এটা গটা দেশের মানুষ জেনে গিয়েছেন। ভোটেই সব জবাব পেয়ে যাবে।”

দীর্ঘ দু’দশক মায়াবতীর দৃঢ় অবস্থান ছিল ভোটের আগে জোট নয়। শেষবার উত্তর প্রদেশে এসপি এবং বিএসপি-র জোট হয়েছিল ৯৩ সালে। সেই সময় জোটের দুই নেতা ছিলেন মুলায়ম সিং যাদব এবং কাঁসিরাম। তারপর আর কখনই জোট হয়নি লোকসভা আসনের নিরিখে দেশের সবথেকে বড় রাজ্যে। কিন্তু পরিস্থিতি বদলেছে। চোদ্দর ভোটে বিজেপি ৭১ টি আসন জিতেছিল উত্তরপ্রদেশ থেকে। কিন্তু কাইরানা, গোরক্ষপুর লোকসভা এবং ফুলপুর বিধানসভার উপনির্বাচনে জোট করে বিজেপি-কে পর্যুদস্ত করেছে। গত ভোটে জোট না করে যে ঠকতে হয়েছে তা ঢের বুঝেছেন মায়া। সে বার সনিয়া গান্ধীর দূত আহমেদ পটেল গিয়ে প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু শোনেননি মায়া। পর্যবেক্ষকদের মতে, অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েই এই পথে হাঁটলেন মায়াবতী।

Shares

Comments are closed.