শনিবার, সেপ্টেম্বর ২১

শবরীমালা ভক্তদের মারে চোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়ল জল, তবু ক্যামেরা আঁকড়ে রইলেন শাজিলা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কাঁধে ক্যামেরা। চোখ থেকে ঝরঝর করে জল পড়ছে। তবু কাঁধ থেকে ক্যামেরা নামাননি। নিজের কাজটা করে গিয়েছেন। উন্মত্ত জনতার তাণ্ডবকে করেছেন ফ্রেমবন্দি। আর সেই ছবি ভাইরাল হয়ে গেল নেট দুনিয়ায়।

কেরলের কৈরালি টিভির চিত্র সাংবাদিক শাজিলা আবদুল রহমান। আপাতত তিরুবনন্তপুরমের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি শাজিলা। বুধবার, শবরীমালা ভক্তদের তাণ্ডবে দিনভর উত্তপ্ত থেকেছে কেরলের একাধিক জায়গা। কেরল বনধের ডাক দেওয়া হয়েছিল হিন্দুত্ববাদীদের তরফে। তিরুবনন্তপুরমে সেই বিক্ষোভ কভার করতে গিয়েই আক্রান্ত হতে হয় শাজিলাকে। প্রথমে হুমকি। না শোনায় শারীরিক নিগ্রহ। কিন্তু অবিচল শাজিলাকে সরানো যায়নি রাস্তা থেকে। কাঁধ থেকে নামানো যায়নি ক্যামেরা। তাঁর জেদের কাছে পিছু হঠেছে হিন্দুত্ববাদীরা। আর শেষ পর্যন্ত নিজের ডিউটি করেছেন চিত্র সাংবাদিক।

বুধবার ভোরে বছর চল্লিশের দুই মহিলা ঢুকেছিলেন শবরীমালা মন্দিরে। ঋতুমতী মহিলাদের মন্দিরে প্রবেশ নিষেধ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরেও বদলায়নি পরিস্থিতি। বরং আরও উত্তপ্ত হয়। বন্যার পর গোটা কেরল জুড়ে নতুন বিপর্যয় তৈরি করে শবরীমালা ইস্যু। এর আগেও বেশ কয়েকজন পঞ্চাশ বছর বয়সের কম মহিলা পাহাড় চূড়োর মন্দিরে ঢোকার চেষ্টা করেন। কিন্তু তা ব্যর্থ হয়। বুধবার ভোরে অবশেষে মন্দিরে ঢুকে ইতিহাস তৈরি করেন দুই সমাজকর্মী। এরপরই অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে কেরল। বৃহস্পতিবার মন্দির বন্ধ রেখে চলে শুদ্ধিকরণের কাজ।

হাসপাতালে শুয়ে একটি সর্বভারতীয় ইংরাজি সংবাদমাধ্যমকে শাজিলা জানিয়েছেন, “আমি কাঁদছিলাম ভয় পেয়ে নয়। অপমানে। ওরা অনেকবার ক্যামেরা কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু পারেনি।” 

Comments are closed.