মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৭

ভারত-চিন সেনার মধ্যে হাতাহাতি লাদাখে, আলোচনায় বসে থামানো গেছে সংঘাত, দাবি সাউথ ব্লকের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাতের পরিস্থিতি অব্যাহত। তারই মধ্যে বুধবার বিকেলে লাদাখে ভারতীয় সেনা এবং চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মি সেনা জওয়ানদের মধ্যে হাতাহাতি বেঁধে গেল।

শেষ পর্যন্ত দু’পক্ষের সেনা কর্তাদের হস্তক্ষেপে তা থামানো গিয়েছে বলে দাবি করেছে নয়াদিল্লি।

কী হয়েছিল গতকাল?

লাদাখের প্যাঙ্গং লেক ভুবন বিখ্যাত। তার উত্তরের ১৩৪ কিলোমিটার দীর্ঘ তীরবর্তী এলাকার দুই তৃতীয়াংশই চিনের দখলে রয়েছে। ভারতের দখলে রয়েছে এক তৃতীয়াংশ। মাঝে লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল তথা ভারত-চিন প্রকৃত সীমারেখো।

জানা গিয়েছে, বুধবার বিকেলে ভারতীয় সেনা জওয়ানরা সেখানে টহলদারি চালাচ্ছিলেন। সেই সময় আপত্তি করে চিনা সেনা। প্রথমে তর্কাতর্কি, তার পর হাতাহাতি বেঁধে যায়। খবর পেয়ে সেখানে দ্রুত আরও সেনা পাঠানো হয় কাছেই ভারতীয় সেনা ছাউনি থেকে। একই ভাবে সেখানে সেনা মোতায়েন বাড়িয়ে দেয় চিনও। এ ভাবে সংঘাতের পারদ যখন চড়ছে তখন দু’দেশে সেনা কমান্ডাররা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে তা থামানোর চেষ্টা করেন।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং চিনা প্রেসিডেন্ট শি চিনফিংয়ের মধ্যে এ মাসেরই বৈঠক হওয়ার কথা। তার আগে সীমান্ত বিতর্ক নিয়ে বৈঠক হওয়ার কথা ছিল দু’দেশের বিদেশ মন্ত্রীর স্তরে। কিন্তু আচমকাই পিছিয়ে দিয়েছে বেজিং।

শুধু তা নয়, প্রতিবেশী এই দু’দেশের মধ্যে টেনশনের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে কাশ্মীরও। উপত্যকা থেকে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের পর পরই তা নিয়ে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানায় চিন। এ ব্যাপারে তারা তাদের কৌশলগত শরিক পাকিস্তানের পাশেই দাঁড়িয়েছে। এমনকী রাষ্ট্রপুঞ্জেও কাশ্মীর প্রশ্নে ভারতের বিরুদ্ধেই মত রেখেছে বেজিং। তাতে উত্তেজনা বেড়েছে বই কমেনি।

তবে নয়াদিল্লির কূটনীতিকদের মতে, সীমান্ত নিয়ে হোক বা কাশ্মীর প্রসঙ্গে- বেজিংয়ের সঙ্গে দ্রুত কোনও নিষ্পত্তির সম্ভাবনা নেই। তা গত তিরিশ বছর ধরেই চলছে। দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের এখন অনেকটা পরিসর জুড়ে রয়েছে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য। যার বহর ক্রমবর্ধমান। তা কেউই নষ্ট করতে চায় না। মোদী-চিনফিং দ্বিপাক্ষিক বৈঠকেও বাণিজ্যই গুরুত্ব পাবে।

Comments are closed.