শনিবার, আগস্ট ২৪

মেঘভাঙা বৃষ্টি উত্তরাখণ্ডে, বন্যার তোড়ে ভেসে গেল বাড়ি, ৩ শিশু সহ মৃত ৬

দ্য ওয়াল ব্যুরো: লাগাতার বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত উত্তরাখণ্ড। বন্যা এবং ভূমি ধসের দাপটে ভেঙে গিয়েছে রাস্তাঘাট। জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে অসংখ্য বাড়ি। সোমবার সকালে আচমকাই মেঘ ভাঙা বৃষ্টিতে উত্তরাখণ্ডে ভেসে গিয়েছে দুটো বাড়ি। মৃত্যু হয়েছে ৬ জনের। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন এক মহিলা এবং তাঁর ৯ মাসের সন্তানও। এ ছাড়াও আরও এক মহিলা, দুই শিশু (বয়স ২ এবং ৪ বছর) এবং এক যুবকের (২৪) দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার সকালে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলায়।

একটানা বৃষ্টিতে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে চামোলিতে। জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে দুটো বাড়ি। তার মধ্যে একটি বাড়িতে সেই সময় ভিতরে ঘুমোচ্ছিলেন বছর তিরিশের রূপাদেবী। সঙ্গে ছিল তাঁর ন’মাসের মেয়ে। ঘুমের মধ্যেই ভেসে গিয়েছেন এই দু’জন। কিছু বোঝার আগেই সলিল সমাধি হয়ে গিয়েছে তাঁদের। উত্তরাখণ্ডের বিপর্যয় মোকাবিলাকারী দল জানিয়েছে, এই মহিলা এবং তাঁর সন্তান ছাড়া আরও ৪ জন ভেসে গিয়েছেন বন্যার তোড়ে। অসংখ্য বাড়ি চলে গিয়েছে জলের তলায়। উদ্ধারকাজে হাত লাগিয়েছেন এসডিআরএফ (স্টেট ডিসাস্টার রেসপন্স ফোর্স)-এর কর্মীরা।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, শুক্রবার থেকেই বৃষ্টি হচ্ছে চামোলিতে। রবিবার রাত থেকেই বাড়ে বৃষ্টির প্রকোপ। একটানা ভারী বৃষ্টির ফলে বন্যার সঙ্গে সঙ্গে চামোলিতে ধসও নেমেছে। ভেঙে গিয়েছে অসংখ্য রাস্তাঘাট। চামোলির ঘাট এলাকায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাঞ্জবগড় এবং লাঙ্খি নামের দুটি গ্রাম। সেখানে ধসের ফলে বড় পাথরের তলায় চাপা পড়েছে তিনটি বাড়ি। ভিতরে অনেকেরই আটকে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তাদের উদ্ধারে ইতিমধ্যেই ময়দানে নেমেছে উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা। এমনটাই জানিয়েছেন, উত্তরাখণ্ডের ডিসাস্টার ম্যানেজমেন্ট অফিসার এন কে যোশী। ধসের ফলে বাড়িচাপা পড়ে মৃত্যু হয়েছে এক মহিলার।

রবিবার নিমি নদীতে স্নান করতে নেমেছিলেন দেরাদুনের একটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ৬ পড়ুয়া। আচমকাই জলের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় ওই ৬ জনের মধ্যে ভেসে গিয়েছে ২ জন। ইতিমধ্যেই তাদের পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে। যেখানে স্নান করতে নেমেছিলেন ওই পড়ুয়ারা তার থেকে ১৪ কিলোমিটার উদ্ধার করা হয়েছে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রথম বর্ষের ওই দুই পড়ুয়ার দেহ।

গত কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত উত্তরাখণ্ড। বন্যা এবং ধসের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বহু চাষের জমি। লাগাতার বৃষ্টিতে ধসে ফলে বাড়ি চাপা পড়ে মৃত্যু হয়েছে এক শিশু সহ দুই মহিলার। এখনও ওই অঞ্চলে বৃষ্টির প্রভাব কমেনি। ফলে পরিস্থিতি ক্রমশ উদ্বেগজনক হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

Comments are closed.