দেশ জুড়ে অভূতপূর্ব জনতা কার্ফু, স্বতঃস্ফূর্ত সাড়াও নজিরবিহীন

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যখন দেশ জুড়ে জনতা কার্ফু পালনের ডাক দিয়েছিলেন তখন অনেকেই ঠাওর করতে পারেননি ব্যাপার ঠিক কী হতে চলেছে। কিন্তু সেই বিভ্রান্তি কাটতে বেশি সময় লাগেনি। মানুষ বুঝতে পেরেছে, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শৃঙ্খলটা ভেঙে দিতে এমনই করতে হবে। সামাজিক সংস্রব এড়িয়ে আপাতত যে যার ঘরে বসে থাকা। কারণ, জান হ্যায় তো জাহান হ্যায়!

    রবিবার সকাল সাতটা থেকে তারই প্রতিফলন দেখা গেল দেশ জুড়ে। শ্যামবাজার পাঁচ মাথার মোড় থেকে দিল্লির সাহাদরা, পাইকপাড়া থেকে পুনে, ধর্মতলা থেকে হিমাচলে ধর্মশালা- পুরোটাই খাঁ খাঁ করছে। রাস্তায় বিশেষ কারও দেখা নেই। রবিবাসরীয় সকালে দেশের অধিকাংশ মানুষ গৃহবন্দি করে ফেলেছেন নিজেকে ও তাঁর পরিবারকে। বনধ-ধর্মঘটের মতো কাউকে চোখ রাঙাতে হয়নি, ভয় দেখাতে হয়নি। স্বতঃস্ফূর্ত ভাবেই সাড়া দিয়েছেন জনতা।

    এ দেশের রাজনীতিতে বনধ, ধর্মঘট এক সময়ে আকছার হত। ইদানীং ঘন ঘন তা হয় না। হলেও মানুষকে ঘরে বেঁধে রাখা যায় না। বনধ যাঁরা ডেকেছেন তাঁরা বলপ্রয়োগ না করলে অনেকেই কাজে বেরিয়ে পড়েন।

    কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ডাকা জনতা কার্ফু একেবারেই অভিনব এবং অভূতপূর্ব। পর্যবেক্ষকদের মতে, মোদী যেটা বলছেন জনতা কার্ফু সেই বার্তাই ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দিচ্ছেন। কিন্তু সেই সব দেশের সঙ্গে ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশের একটা স্পষ্ট ফারাক রয়েছে। এ দেশের মানুষের সামাজিক সুরক্ষা কম। দিন আনা দিন খাওয়া মানুষ সংখ্যাগুরু। ফলে লকডাউন হলে অনেকেই সংকটে পড়বেন। তা ছাড়া ১৩০ কোটি জনসংখ্যার দেশে জোর করে, পুলিশ দিয়ে লকডাউন চাপিয়ে দেওয়া সহজ কাজ নয়। জনতাকে বুঝিয়ে সে ব্যাপারে আস্থা অর্জন করে তবেই সেটা করা সম্ভব। মোদীও তাই করতে চেয়েছেন। জনতা কার্ফু ডেকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়ানো রুখতে যে লড়াই করছে কেন্দ্র ও রাজ্যের সরকার, সেই লড়াইয়ে মানুষকেও অংশীদার হতে বলেছেন। তাঁদের হাতেও ছোট দায়িত্ব দিয়ে দিয়েছেন। নিজের নিজের ঘর সামলাবার। যা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, মনে রাখবেন একটা প্রবাদ রয়েছে—আমি খুশি তো জগৎ খুশি।

    এখন প্রশ্ন হল, জনতা কার্ফুর মেয়াদ আরও বাড়াতে পারেন প্রধানমন্ত্রী?

    কেন্দ্র ও রাজ্যে স্বাস্থ্য কর্তারা বলছেন, তা যদি সরকার করে তবে উচিত কাজ হবে। কারণ, সামাজিক মেলামেশার মধ্যে দিয়ে সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি তাতে অনেক কমে যাবে। কিন্তু এ কথা বলা যত শক্ত, তা করা ততটাই কঠিন। কারণ, ব্যবসা, বাণিজ্য, কাজকর্ম সব সপ্তাহ খানেকের জন্য বন্ধ হয়ে গেলে আর্থিক ভাবে দুর্বল মানুষ আরও বিপদে পড়তে পারে। তাই গণবন্টন ব্যবস্থার মাধ্যমে সবার জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য শস্যের ব্যবস্থা করতে ইতিমধ্যেই সক্রিয় কেন্দ্রীয় ও রাজ্যের সরকার। তা ছাড়া পরিযায়ী শ্রমিকদের কল্যাণের কথাও ভাবা হচ্ছে। তাঁদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখার পরই এ ধরনের পদক্ষেপ করা যাবে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More