পাকিস্তানকে প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারি রাজনাথের, দরকার পড়লে পারমানবিক অস্ত্র ব্যবহার নীতি বদলের ইঙ্গিত

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে সামরিক পদক্ষেপ করা হবে বলে পাক প্রশাসন যখন ক্রমাগত হুমকি দিতে শুরু করেছে, তখন পাল্টা বার্তা দিতে ছাড়লেন না প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংহ।

প্রয়াত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীর প্রথম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার রাজস্থানের পোখরানের গিয়েছিলেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী। সেখানেই তিনি বলেন, “এখনও পর্যন্ত পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের প্রশ্নে ভারতের অবস্থান হল, – নো ফার্স্ট ইউজ। অর্থাৎ ভারত আগে পরমাণু অস্ত্রের ব্যবহার করবে না। কিন্তু ভবিষ্যতে কী হবে তা তখনকার পরিস্থিতির উপর নির্ভর করবে।”

রাজনাথ সিংহের এই মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন, তবে কি সত্যিই পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের প্রশ্নে কৌশলগত অবস্থান বদলের ইঙ্গিত দিলেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী। নাকি পাকিস্তানকে সমঝে দিতে এটা শুধু কথার কথা মাত্র।

পোখরানে পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা করা ছিল অটল বিহারী বাজপেয়ী জমানার মাইলফলক ঘটনা। তার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মহলে কূটনৈতিক ও কৌশলগত বার্তাও দিতে চেয়েছিলেন বাজপেয়ী। বোঝাতে চেয়েছিল, ভারত প্রকৃতই পরমাণু শক্তিধর দেশ। ওই ঘটনার পর ভারতের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু বাজপেয়ী তো বটেই পরবর্তী কালে ইউ পিএ জমানার প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহও বারবার বলেছেন, যে ভারত কোনও ভাবেই আগে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করবে না। তা ভারত সরকারের শুধু নয়, এ ব্যাপারে দেশের রাজনৈতিক সর্বসম্মতিও রয়েছে। বস্তুত নয়াদিল্লির সেই অবস্থানকে স্বীকৃতি দিয়েছিল রাষ্ট্রপুঞ্জও। পরবর্তী কালে ভারত-মার্কিন পরমাণু চুক্তির ক্ষেত্রেও নয়াদিল্লির সেই অবস্থান বিশ্বাসযোগ্যতার ভিত হিসাবে কাজ করেছিল।

অনেকের মতে, রাজনাথ এ দিন যে কথা বলেছেন, তাতে কৌশলগত অবস্থান বদলের বার্তা থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। কারণ, এটা শুধু রাজনাথ সিংহের বক্তব্য নয়। হতে পারে মোদী সরকারের অবস্থান। কেন না এর আগে প্রয়াত প্রাক্তন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মনোহর পার্রিকরও একই মন্তব্য করেছিলেন।

তাৎপর্যপূর্ণ হল, পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের প্রসঙ্গে এ দিন শুধু সংবাদমাধ্যমের সামনেই এ কথা বলেননি রাজনাথ সিংহ, তিনি রীতিমতো টুইটও করেছেন। সেই কারণেই আরও বেশি কৌতূহল তৈরি হয়েছে কূটনৈতিক মহলে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More