গ্রামের বাড়ির রান্নাঘরে ঢুকে পড়েছিল কাজিরাঙা থেকে বন্যায় ভেসে আসা বাঘ, ৩০ ঘণ্টার চেষ্টায় অবশেষে উদ্ধার

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: বন্যায় বিপর্যস্ত অসমের অধিকাংশ এলাকা। কাজিরাঙার প্রায় ৯০ শতাংশ ডুবে গিয়েছে জলের তলায়। বন্যার জলের তোড়ে স্থানীয় গ্রামে ভেসে গিয়েছে অনেক প্রাণী। আর এই বন্যার জল থেকে নিজেকে বাঁচাতেই স্থানীয় গ্রামের একটি বাড়ির রান্নাঘরে ঠাঁই নিয়েছিল এক বাঘিনী।

    বাড়ির লোকজন রান্নাঘরে গিয়ে দেখেন বেশ নিশ্চিন্তেই সুখনিদ্রা দিচ্ছে এক বাঘিনী। ভিরমি খাওয়ার অবস্থা সামাল দিয়ে তড়িঘড়ি বনদফতরে খবর দেয় তারা। ঘটনাস্থলে আসেন বন কর্মীরা। তবে ওই বাড়ির রান্নাঘর থেকে বছর দুয়েকের বাঘিনীকে উদ্ধার করতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছে কাজিরাঙা ন্যাশনাল পার্ক এবং টাইগার রিজার্ভের কর্নীদের। প্রায় ৩০ ঘণ্টা পর শেষে ঘুম পাড়ানি গুলি মেরে তারপর উদ্ধার করা হয়েছে ওই বাঘটিকে। বুধবার দুপুর আড়াইটে নাগাদ বাঘিনীটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

    কাজিরাঙার ডিরেক্টর পি শিবকুমার জানিয়েছেন, বন্যার জল ক্রমশ বাড়তে থাকায় নিজেকে বাঁচাতে ন্যাশনাল পার্ক এবং টাইগার রিজার্ভ ছেড়ে বেরিয়ে আসে ওই বাঘিনী। তিবে গ্রামের বাড়ির রান্নাঘরে ঢুকে পড়ার আগে পার্কের কাছে ৩৭ নম্বর জাতীয় সড়কে বেশ কিছুক্ষণ ঘোরাফেরা করে ওই বাঘিনী। তারপর সোজা ঢুকে পরে এক গ্রামবাসীর বাড়ির রান্নাঘরে।

    শিবকুমার আরও জানিয়েছেন যে বৃষ্টির জলে ভিজে অসুস্থ হিয়ে পড়েছিল বাঘিনী। তাই ওই বাড়ির রান্নাঘরে ঢুকে ঘুমিয়ে পড়েছিল সে। এদিকে বাইরে তখন জড়ো হয়েছেন বনদফতরের কর্মীরা। বাঘিনীর কোনও সাড়াশব্দ এবং নড়াচড়া অর্থাৎ গতিবিধি দেখতে না পেয়ে রান্নাঘরের বাইরের অপেক্ষা করছিলেন বনকর্মীরা। ভেবেছিলেন যদি বাঘটি নিজে থেকে বেরিয়ে আসে। তবে সেক্ষেত্রে সামনে মানুষ দেখলে বাঘিনী আক্রমণ করার সম্ভাবনা ছিল। তাই এলাকাবাসী এবং ওই বাড়ির বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

    এদিকে দীর্ঘক্ষণ বাঘটি নড়াচড়া না করার ফলে তাকে ঘুম পাড়ানি গুলি অবশ করে উদ্ধারের সিদ্ধান্ত নেন বনকর্মীরা। তাঁরা সফলও হন নিজেদের কাজে। বনকর্মীদের দলে ছিলেন ভেটেরিনারি ডাক্তার শামসুল আলি। তিনি জানিয়েছেন, হুঁশ ফিরেছে বাঘিনীর। আপাতত সেন্টার ফর ওয়াইল্ডলাইফ রিহ্যাবিলিয়েশন সেন্টারে রয়েছে সে। এবং ভাল আছে। বরজুরির এই সেন্টারের ডিরেক্টর রথীন বর্মন জানিয়েছেন, দিন ২-৩ পর্যবেক্ষণের পর বাঘিনীকে পার্কে ছেড়ে দেওয়া হবে। আপতত সুস্থ রয়েছে ওই বাঘিনী। তার কোনও বিপদ হবে না।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More