মঙ্গলবার, মার্চ ১৯

মাঙ্কি ফিভারে আক্রান্ত হয়ে পাঁচ জনের মৃত্যু কর্নাটকে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোয়াইন ফ্লু-এর পরে এ বার হানা দিল ‘মাঙ্কি ফিভার।’ কর্নাটকে এই জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ইতিমধ্যেই মৃত্যু হয়েছে পাঁচ জনের। শিব্বামোগা জেলায় ১৫ জনের রক্তের নমুনায় এই ক্যায়াসানুর ফরেস্ট ডিজিস (কেএফডি) বা মাঙ্কি ফিভারের সংক্রমণ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন কর্নাটক সরকার। আতঙ্ক ছড়িয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।  কোথাও মৃত বাঁদর পড়ে থাকতে দেখলে সতর্ক হতে বলা হয়েছে।

রাজ্যের যে সব জায়গা থেকে বাঁদরের মৃত্যুর খবর এসেছে সে সব জায়গায় বাড়িতে বাড়িতে মেলাথিয়ন নামে এক রকম কীটনাশক বিলি করা হচ্ছে। এ ছাড়াও প্রতিষেধক ইন্জেকশন দেওয়া হচ্ছে বাসিন্দাদের। বাঁদরের মৃত্যুর খবর এলে সেই জায়গা থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে এই প্রতিষেধক পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে বলে কর্নাটকের স্বাস্থ্য দফতরের এক রিপোর্টে বলা হয়েছে। কোন কোন বাড়িতে কত জন জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন দেখা হচ্ছে সে সবও। রাজ্যের এক স্বাস্থ্য কর্তা জানিয়েছেন, প্রতি বছর তাঁরা শচারেক মাঙ্কি ফিভারের রোগী পান। এ বছর ইতিমধ্যে হাজার দুয়েক মানুষকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে।

মাঙ্কি ফিভারের উপসর্গ কী?

এই জ্বরের উপসর্গ অনেকটাই ডেঙ্গির মতো। জ্বর, বমি, ডায়েরিয়া, গা ব্যথা, মাথার সামনের দিকে ব্যথা ও অনেক সময় রক্তক্ষরণ। মাড়ি, কান বা শরীরের ভিতরে হতে পারে এই রক্তক্ষরণ। ভ্যাকসিন বা ঠিক সময়ে চিকিৎসা না হলে মৃত্যু হতে পারে।

কী ভাবে ছড়ায় মাঙ্কি ফিভার?

হনুমান ও মাক্কা রাডিয়াটা প্রজাতির বাঁদরই মূলত এই জীবাণু বহন করে। বাঁদরের শরীরে যে টিক থাকে, তার থেকেও সংক্রমণ ছড়ায়। মূলত এই টিকই ভাইরাসটি বহন করে। তবে শুধু বাঁদর নয়, সজারু, কাঠবিড়ালি, ইঁদুরের শরীরের টিকও এই ভাইরাস বহন করে বলে মনে করা হয়।

এই অসুখকে ক্যায়াসানুর ফরেস্ট ডিজিস কেন বলা হয়?

১৯৫৭ সালে ক্যায়াসানুর ফরেস্ট রেঞ্জে প্রথম এই ভাইরাসের হদিস পাওয়া যায়। সেই সময় কয়েকশো বাঁদর এই অসুখে মারা গেছিল। তার পরেও নানা সময়ে এই সংক্রমণ ছড়িয়েছে। মানুষেরও মৃত্যু হয়েছে মাঙ্কি ফিভারে।

Shares

Comments are closed.