শুক্রবার, ডিসেম্বর ১৪

কেন আচমকা সরানো হল দুই সিবিআই কর্তাকে, জানতে চায় সুপ্রিম কোর্ট

দ্য ওয়াল ব্যুরো : দুই সিবিআই কর্তা বিড়ালের মতো লড়াই করছিলেন। তাই তাঁদের সরিয়ে দিতে হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে এমনই বলেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। সরকারের ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন বিচারপতি। তাঁর প্রশ্ন, দুই সিবিআই কর্তার ঝগড়া তো বহুদিন ধরে চলছিল। তাহলে কেন্দ্র আচমকা সিদ্ধান্ত নিল কেন? এসম্পর্কে সরকারকে জবাবদিহি করতে বলা হয়েছে।

সিবিআইয়ের প্রধান অলোক বর্মা ও ডেপুটি চিফ রাকেশ আস্থানা পরস্পরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছিলেন। অলোক বর্মা মামলাও করেছিলেন আস্থানার বিরুদ্ধে। গত ২৩ অক্টোবর দু’জনকেই ছুটিতে পাঠানো হয়। তার পরে বর্মা সুপ্রিম কোর্টে যান। তাঁর বক্তব্য, আগামী জানুয়ারি মাসে আমার চাকরির মেয়াদ ফুরনোর কথা। আমাকে এইভাবে সরানো যায় না। কেবল উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কোনও প্যানেল সিবিআই ডিরেক্টরকে ক্ষমতাচ্যুত করার কথা বলতে পারে। সেই প্যানেলে লোকসভার বিরোধী দলনেতাকেও থাকতে হবে।

কোর্টে আগের শুনানিতে বিচারপতি প্রশ্ন করেছিলেন, সিবিআই প্রধানকে ঘুষ খাওয়ার সময় যদি হাতেনাতে ধরে ফেলা হয়, তখন কী করণীয়? অলোক বর্মার কৌঁসুলি ফলি নরিম্যান বলেন, সেক্ষেত্রে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটিকে জানাতে হবে। একমাত্র কোর্টই সিদ্ধান্ত নেবে, সিবিআই প্রধানের ভাগ্যে কী ঘটবে।

সরকারের পক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল কে সি বেণুগোপাল বলেন, সরকার তার এক্তিয়ারের মধ্যে থেকেই কাজ করেছে। তার সামনে আর উপায় ছিল না।

অ্যাটর্নি জেনারেলের কথায়, অলোক বর্মা এবং রাকেশ আস্থানার ঝগড়া খুব গুরুতর আকার নিয়েছিল। সাধারণ মানুষও তা নিয়ে আলোচনা করছিলেন। দুই উচ্চপদস্থ অফিসারের যে কাণ্ড করছিলেন, তার দিকে সরকার নজর রাখছিল। দেখা গেল, দু’জনে বিড়ালের মতো লড়াই করছেন। লড়াই যে কোথায় শেষ হত কেউ জানে না। বাধ্য হয়ে ভারত সরকার হস্তক্ষেপ করেছে।

সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ বলেন, যে পরিস্থিতিতে সেন্ট্রাল ভিজিলেন্স কমিশন দু’জনকে ছুটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা নিশ্চয় একদিনে সৃষ্টি হয়নি। অনেক সময় এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় যখন সামনে দু’টি পথ থাকে। একটি পথ গ্রহণযোগ্য, অন্যটি আরও গ্রহণযোগ্য। আমাদের উচিত, আরও গ্রহণযোগ্য পথটি অবলম্বন করা।

সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের যে বেঞ্চ আলোক বর্মার আবেদন শুনছে তাতে প্রধান বিচারপতি বাদে আছেন বিচারপতি সঞ্জয় কিষাণ কাউল এবং বিচারপতি কে এম যোসেফ। তাঁরা বেণুগোপালকে বলেন, দিল্লি পুলিশ এসট্যাবলিশমেন্ট অ্যাক্টে বলা আছে, সিবিআইয়ের ওপরে সরকার নজর রাখবে কীভাবে?

Shares

Comments are closed.