কাশ্মীরে ৩৩ ঘণ্টার লড়াইয়ে নিকেশ ৮ জঙ্গি

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বুধবার রাতেই গোপন সূত্রে খবর এসেছিল সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে অনুপ্রবেশ করেছে আট পাকিস্তানি জঙ্গি। খবর পেয়েই শুরু হয় অভিযান। তিনটি পৃথক এলাকায় ৩৩ ঘণ্টা ধরে গুলি যুদ্ধের পর অবশেষে ভারতীয় সেনার হাতে নিকেশ হলো সেই আট জঙ্গি।

বৃহস্পতিবার ভারতীয় জওয়ানরা দেখতে পান তিনজন জঙ্গি লাইন অফ কন্ট্রোল অতিক্রম করে ভারতে প্রবেশ করার চেষ্টা করছে। সঙ্গে সঙ্গে সেই জঙ্গিদের মোকাবিলা করে ভারতীয় সেনা। সেনার গুলিতে তিন জঙ্গিরই মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। কুপওয়ারার কাছে বর্ডারের ধারে তাদের দেহ এখনও পড়ে আছে বলে সেনা সূত্রে খবর। সীমান্তের খুব কাছে হওয়ায় দেহগুলি উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে না।

এ দিকে বৃহস্পতিবার রাতেই সোপোরে শহরের আরামপুরা এলাকায় দুই জৈশ-ই-মহম্মদ জঙ্গি সেনার গুলিতে নিহত হয়েছে। কাশ্মীর পুলিশ সূত্রে খবর, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার রাতেই সেনা, স্পেশ্যাল অপারেশন গ্রুপ ও সি.আর.পি.এফের জওয়ানরা ওই এলাকা ঘিরে ফেলেন। জওয়ানদের দেখে গুলি চালানো শুরু করে ওই দুই জঙ্গি। পালটা জবাব দেন জওয়ানরাও। জওয়ানদের গুলিতে ওই দুই জঙ্গি নিহত হয়।

তবে ভারতীয় সেনাকে সবথেকে বেশি বেগ পেতে হয়, কাশ্মীরের রিয়াসি এলাকায় লুকিয়ে থাকা তিন জৈশ-ই-মহম্মদ জঙ্গির মোকাবিলা করতে গিয়ে। গোপন সূত্রে সেনা খবর পায়, তিন জঙ্গি বুধবার কাশ্মীরের সাম্বা সেক্টর থেকে বর্ডার পেরিয়ে ওই এলাকায় প্রবেশ করেছে। এমনকী স্থানীয় এক বাসিন্দা ফোন করে খবর দেন যে রাতে ওই তিন জঙ্গি জোর করে তাঁর বাড়িতে ঢুকে জামা-কাপড় পালটে জল ও খাবার নিয়ে বেরিয়ে গেছে।

জঙ্গিদের সঙ্গে গুলি বিনিময়ে গ্রামবাসীদের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় সেনা ও সি.আর.পি.এফের যৌথ বাহিনী প্রথমে গ্রামবাসীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে দেন। তারপর কাকরিয়াল গ্রামে মাতা বৈষ্ণো দেবী বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ওই তিন জঙ্গির সঙ্গে ৩৩ ঘণ্টা ধরে গুলি বিনিময় হয় সেনার। অবশেষে সেনার গুলিতে তিন জঙ্গি নিহত হয়। তাদের কাছে থেকে ড্রোন সহ বিভিন্ন অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে সেনা। এইসব অস্ত্রের সাহায্যে ভারতের সেনা ঘাঁটি গুলিতে আক্রমণ করার পরিকল্পনা ছিল জঙ্গিদের।

জঙ্গিদের সাহায্য করার জন্য এক পাকিস্তানি ও দুই স্থানীয় জঙ্গিকেও আটক করেছে সেনা। এই গুলি বিনিময়ে এক মেজর-সহ চার সেনা জওয়ান, পাঁচ জন সি.আর.পি.এফ জওয়ান এবং এক ডি.এস.পি-সহ তিনজন পুলিশ কর্মী আহত হয়েছেন। আহতদের কাটরা শহরের নারায়ণা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জানা গিয়েছে প্রত্যেকের অবস্থা স্থিতিশীল।

তবে এই ঘটনায় ওই এলাকার বাসিন্দারা আতঙ্কে রয়েছেন। স্কুল, কলেজ, দোকানপাট সব বন্ধ রয়েছে। আরও কেউ ওই এলাকায় লুকিয়ে আছে কিনা সে ব্যাপারে তল্লাশি চালাচ্ছে ভারতীয় সেনা।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More