বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৭

কৃষ্ণের মতো বাঁশি বাজালে বেশি দুধ দেয় গরু! দাবি অসমের বিজেপি বিধায়কের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাঁশির সুর শুনলে নাকি বেশি দুধ দেয় গরু! সম্প্রতি এমনই মন্তব্য করেছেন অসমের বিজেপি বিধায়ক দিলীপকুমার পাল। তবে যে সে বাঁশি হলে চলবে না। সাক্ষাত ভগবান শ্রী কৃষ্ণের স্টাইলে বাঁশি বাজালেই মিলবে ফল। শিলচরের একটি অনুষ্ঠানে গিয়ে দিলীপবাবু বলেন, “শ্রী কৃষ্ণের মতো বিশেষ সুরে বাঁশি বাজালে, স্বাভাবিকের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি দুধ দেয় গরু। এটা প্রাচীন বিজ্ঞান। সেটাই বর্তমানে ফিরিয়ে আনতে হবে।”

কিন্তু জোর দিয়ে এমন দাবি কী ভাবে করলেন ওই বিধায়ক? দিলীপকুমার পালের সাফ জবাব, “আমি বিজ্ঞানী নই, কিন্তু প্রাচীন ভারতের ঐতিহ্য নিয়ে বেশ অনেকটাই পড়াশোনা করেছি। আর তখনই বুঝেছি যে এটা সম্ভব।” এর পাশাপাশি দিলীপবাবুর দাবি, হালফিলে বিজ্ঞানীরাও নাকি এই মতবাদ বিশ্বাস করতে শুরু করেছেন। বরাক উপত্যকার ওই অনুষ্ঠানের মঞ্চে দাঁড়িয়ে বিধায়ক এ-ও বলেছেন যে আধুনিক বৈজ্ঞানিকরা নাকি এই মতবাদ প্রমাণও করেছেন। যেখানে দেখা গিয়েছে ভগবান কৃষ্ণের কায়দায় বাঁশি বাজালে সেই সুরের প্রভাবে গরু বেশি পরিমাণ দুধ দেবে। এমনকী তাঁর দাবি, বাঁশির সুরের সঙ্গে গরুর দুধের সম্পর্ক নিয়ে গুজরাটের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা নাকি কয়েক বছর আগে গবেষণাও করেছে।

অসমের বিজেপি বিধায়কের মন্তব্য ইতিমধ্যেই ভাইরাল সোশ্যাল দুনিয়ায়। হেসে গড়াচ্ছেন অনেকেই। কেউ বা বলছেন এটাই তো ওদের দলের ঐতিহ্য। বেফাঁস মন্তব্য করতে বিজেপি নেতাদের জুড়ি মেলা ভার। একসময় ত্রিপুরের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী বিপল্ব দেব বলেছিলেন মহাভারতের যুগে ইন্টারনেট ছিল। এমনকী নিজের তত্ত্বকে প্রতিষ্ঠা করতে নিউটনকেও টেনে এনেছিলেন তিনি। বলেছিলেন, “মহাভারতের সময়ে ইন্টারনেট ছিল। ইন্টারনেট এখন চালু হলেও আসলে ব্যাপারটা সেখান থেকেই নেওয়া। আপনারাই বলুন, দূরে যুদ্ধ হচ্ছে আর সঞ্জয় অন্য জায়গায় বসে ধারাবিবরণী দিচ্ছেন। স্যাটেলাইট বা ইন্টারনেট না থাকলে কী ভাবে সেটা হয়? নিউটন যদি গাছ থেকে আপেল পড়ছে দেখে মাধ্যাকর্ষণ শক্তির থিওরি আবিষ্কার করতে পারেন, তা হলে কেন মহাভারতের সময় ইন্টারনেট থাকতে পারে না?”

কদিন আগেই অবশ্য নিউটনের মাধ্যাকর্ষণ শক্তি আবিষ্কারের ব্যাপারটাও বেমালুম অস্বীকার করেছেন কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী রমেশ পোখরিয়াল। তিনি দাবি করেন নিউটনের আগে মাধ্যাকর্ষণের ধারণা ভারতীয় শাস্ত্রেই রয়েছে। নয়াদিল্লির ইন্দিরা গান্ধী মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অনুষ্ঠানে পোখরিয়াল বলেন, “আমি সবসময় বলি, ভারতবর্ষ বহু প্রাচীন কাল থেকেই বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ক্ষেত্রে ছাপ রেখে আসছে। তরুণ প্রজন্মের অনেকে ভাবে, মানবসম্পদমন্ত্রী এ সব কী বলছেন! কিন্তু এটাই সত্যি। আপনারা আর্যভট্ট-এর নাম শুনেছেন। তাঁর চিন্তার কথা জানেন। তেমনই নিউটন মাধ্যাকর্ষণ আবিষ্কার করার অনেক আগেই ভারতীয় শাস্ত্রে তার ধারণা দেওয়া ছিল।”

Comments are closed.