চিন-ভারত সামরিক পর্যায়ের আলোচনা শনিবার, সীমান্তে উত্তেজনা প্রশমনে বৈঠকে দুই বাহিনী

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: পূর্ব লাদাখে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় চিন-ভারত উত্তেজনা নিরসনে আগামী শনিবার, ৬ জুন বৈঠকে বসতে চলেছেন দু’দেশের সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্তারা। জানা গিয়েছে, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখার কাছাকাছি লাদাখের চুশুল-মলদো এলাকায় কোনও একটি জায়গায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

    ভারতের পক্ষে এই বৈঠকে নেতৃত্ব দেবেন ১৪ কোর লেফটেন্যান্ট জেনারেল হরিন্দর সিং। ভারতের তরফে আশা প্রকাশ করা হয়েছে, শনিবারের বৈঠক ইতিবাচক হবে এবং সীমান্তে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে তাও প্রশমিত হবে।

    এমনিতে চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মি এবং ভারতীয় সেনাদের মধ্যে বচসা-হাতাহাতি প্রায়ই ঘটে। দুপক্ষের আলোচনার মাধ্যমে আবার তা মিটেও যায়। কিন্তু গত ৯ ও ১০ মে-মাঝের রাতে সেই বচসা বড় আকার নেয়। সরকারকে দেওয়া সেনাবাহিনীর রিপোর্ট থেকে জানা যায়, রুটিন টহলদারির সময়ে বেশ কয়েকজন ভারতীয় সেনা ও ইন্দো-টিবেটান বর্ডার ফোর্সের জওয়ানকে আটকে রেখে মারধর করে চিনের সেনারা। কেড়ে নেওয়া হয় অস্ত্রও।

    এরপরই উত্তেজনা বাড়তে থাকে লাদাখ সীমান্তে। চিনের ভূখণ্ডে বাহিনী মোতায়েন বাড়িয়ে দেয় বেজিং। পাল্টা লাদাখেও সেনা পাঠাতে শুরু করে নয়া দিল্লি। সেনা প্রধান জেনারেল এমএম নারাভানে লে-তে গিয়ে বৈঠক সেরে আসেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও বৈঠক করেন অজিত ডোভাল, বিপিন রাওয়াতদের সঙ্গে।

    বেজিং-নয়াদিল্লি এই চাপানউতোরের মাঝেই চাঞ্চল্যকর উপগ্রহ চিত্র সামনে আসে। যাতে দেখা যায় নিয়ন্ত্রণ রেখার কাছেই বিমানঘাঁটি গড়ে ফেলেছে চিনা বায়ুসেনা। তার টারম্যাকে যুদ্ধবিমান দাঁড়িয়ে থাকতেও দেখা যায়। এরই মধ্যে চিনের ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সেনাবাহিনীর উদ্দেশে নির্দেশ দেন, সবচেয়ে খারাপ প্রস্তুতির জন্য তৈরি থাকার।

    এই টানাপোড়েনের মাঝে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রস্তাব দেন, তিনি মধ্যস্থতা করে এই সমস্যা মিটিয়ে দেবেন। যদিও বিদেশমন্ত্রক তা খারিজ করে দেয়। গতকাল রাতে ট্রাম্প ফোনে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে। দুজনের মধ্যে চিন নিয়ে বেশ কিছুক্ষণ কথা হয় বলে জানা যায়।

    কদিন আগেই প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেছিলেন, “ভারতের গর্বে আঘাত হানবে এমন কোনও কিছুকে বরদাস্ত করবে না সরকার।” পর্যবেক্ষকদের মতে, ভারতের তরফে চিনকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়, আলোচনা চাইলে দিল্লি রাজি। কিন্তু অশান্তি করলে লড়াই হবে চোখে চোখ রেখে।

    এর আগে ২০১৭ সালে ডোকালাম সীমান্তে টানা তিন মাস দুই বাহিনীর মধ্যে উত্তেজনা চলেছিল। পরে আলোচনার মাধ্যমেই তা প্রশমিত হয়। এখন দেখার শনিবারের দুই দেশের সামরিক পর্যায়ের আলোচনায় আদৌ কোনও সমাধান সূত্র বেরোয় কিনা।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More