জীবনের প্রতি পদে আধার কার্ড কি বাধ্যতামূলক, আজ বড় রায় ঘোষণার পথে সুপ্রিম কোর্ট

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরোআধার কার্ড নিয়ে আজ বুধবার মাইলফলক রায় ঘোষণা করতে চলেছে সুপ্রিম কোর্ট। কেন্দ্রীয় সরকারের আধার প্রকল্প এবং সে সংক্রান্ত আইন কি আদৌ সাংবিধানিক ভাবে বৈধ, তা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে কি সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষায় হস্তক্ষেপ করছে সরকার, রাষ্ট্রের জনকল্যাণ কর্মসূচির জন্য আধার কি সত্যিই বাধ্যতামূলক করা যায়—–ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আজ চূড়ান্ত রায় দেওয়ার কথা সর্বোচ্চ আদালতের প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র-র নেতৃত্বে সংবিধান বেঞ্চের।

    অতীতে কেশবানন্দ ভারতী মামলার পর সুপ্রিম কোর্টে আধার মামলা হল দ্বিতীয় কোনও বিষয় যা নিয়ে এতো দীর্ঘ শুনানি হল। সংবিধানের মৌলিক কাঠামো-র প্রশ্নটি সামনে রেখে কেশবানন্দ ভারতী মামলায় ১৩ বিচারপতি ছিলেন সংবিধান বেঞ্চে। তুলনায় আধার মামলায় সংবিধান বেঞ্চে রয়েছেন পাঁচ জন বিচারপতি। সাড়ে চার মাস ধরে ৩৮ দিন শুনানির পর গত ১০ মে সর্বোচ্চ আদালতে এ ব্যাপারে রায় সংরক্ষিত রাখেন বিচারপতিরা।

    চুম্বকে দেখে নেওয়া যাক আধার কার্ড নিয়ে বিতর্ক কেন?

    আধার কার্ডের প্রচলন শুরু হয় ২০০৯ সালে। তখন অবশ্য আধার বাস্তবায়নের জন্য কোনও আইন প্রনয়ণ হয়নি। বলা হয়েছিল, আধার প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের নাগরিকরা একটি ১২ সংখ্যার ইউনিক আইডেনটিফিকেশন নম্বর বা অনন্য পরিচয় নম্বর পাবে। যেহেতু অনন্য পরিচয়পত্র তাই আধার কার্ড পেতে হলে বায়োমেট্রিক তথ্য তথা হাতের আঙুলের ছাপ, চোখের আইরিশের ছবি তুলতে দিতে হবে। পরে সরকার জানায়, এই কার্ডের মাধ্যমে সরকারের কল্যাণ কর্মসূচির সুবিধা সরাসরি পেতে পারবে সাধারণ মানুষ।

    ক্রমে আধার নম্বর প্রায় সব ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক করা হয়। এবং বলা হয়, যাদের কাছে আধার নম্বর রয়েছে, তারাই সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাবে। বাকিরা পাবে না। প্যান কার্ড, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, মোবাইল নম্বর প্রায় সবক্ষেত্রেই আধার নম্বর বাধ্যতামূলক করা হয়। বলা হয়, এই সব পরিষেবার সঙ্গে আধার নম্বর যুক্ত করতেই হবে।

    তাতে সমস্যা কোথায়?

    সুপ্রিম কোর্টে আবেদনকারীদের বক্তব্য,-

    এক, সরকার কি কোনও নাগরিককে বায়োমেট্রিক তথ্য দিতে বাধ্য করতে পারে? তা কি ওই ব্যক্তির ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষায় হস্তক্ষেপ নয়?

    দুই, যাদের কাছে আধার কার্ড নেই, সরকার কি তাদের সরকারি জনকল্যাণ কর্মসূচির সুবিধা থেকে বঞ্চিত করতে পারে?

    তিন, সরকার যে বিপুল পরিমাণ তথ্য সংগ্রহ করছে, তার কি আদৌ কোনও সুরক্ষা রয়েছে। বিশেষ করে যখন দেখা যাচ্ছে, মাত্র পাঁচশ টাকার বিনিময়ে বিশাল সংখ্যক মানুষের আধার তথ্য অনলাইনে বিক্রি হচ্ছে।

    যদিও কেন্দ্রীয় সরকার এবং গুজরাত ও মহারাষ্ট্রের বিজেপি সরকারের আধারের সপক্ষে আদালতে জোরদার সওয়াল করেছে। সেই সঙ্গে এও ব্যাখ্যা করেছে, কেন আধারের সঙ্গে মোবাইল নম্বর সংযুক্ত করা জরুরি। কিন্তু বিচারপতিরা শুনাননি চলাকালীন যে সব পর্যবেক্ষণ শুনিয়েছেন তা সরকারের জন্য আশাপ্রদ ছিল না।

    পর্যবেক্ষকদের মতে, সুপ্রিম কোর্টের আজকের রায় সরকারের বিপক্ষে গেলে রাজনৈতিক ভাবেও কিছুটা হাত পুড়তে পারে বিজেপি-র।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More