এক ছাত্রীর স্কুল, জাহ্নবীকে নিয়ে গর্বিত শিক্ষকরা

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: সরকারি স্কুল নিয়ে আমাদের দেশে মাঝে মধ্যেই উঠে আসে নানা অভিযোগ। কোথাও শৌচালয় খারাপ, তো কোথাও মিড ডে মিলের খাবারের মান নিয়ে ওঠে প্রশ্ন। অনেক জায়গায় আবার পড়ুয়া থাকে তো শিক্ষক নেই, উল্টোটাও দেখা যায় বেশ কিছু ক্ষেত্রে।

    তবে এত সব অভিযোগের মধ্যেই এ দেশেরই একটি সরকার স্কুল প্রতিদিন খোলা হয় একজন মাত্র পড়ুয়ার জন্য। শিক্ষক রয়েছেন দু’জন। আর রয়েছেন মিড ডে মিল রান্নার এক রাঁধুনি। বিহারের গয়া জেলায় রয়েছে এই সরকারি স্কুল। বিদ্যালয়ের বয়স ৫ বছর। প্রাথমিক ভাবে ভর্তি হয়েছিল ৯ জন পড়ুয়া। তবে নিয়মিত ক্লাসে আসে জাহ্নবী কুমারী। প্রথম শ্রেণির এই ছাত্রীর একাগ্রতা দেখে অবাক শিক্ষকরাও। বাকি সহপাঠীরা না এলেও কোনওদিন ক্লাসে ফাঁকি দেয় না জাহ্নবী। নিয়ম করে রোজ তার স্কুলে আসা চাই-ই চাই।

    গয়ার ওই স্কুলের এক শিক্ষিকা প্রিয়াঙ্কা কুমারীর কথায়, “পড়াশোনার প্রতি জাহ্নবীর আগ্রহ দেখে অবাক হয়েছিলাম। হাজার বাধা সত্ত্বেও স্কুলে আসা বন্ধ করেনি এই মেয়ে। তাই ওকে ঠিকমতো পড়াশোনা করানোটা আমাদের দায়িত্ব। জাহ্নবী যাতে বড় হয়ে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে সেই স্বপ্ন দেখি আমরাও। তাই রোজ ওর জন্যই স্কুলে আসে। জানি ক্লাসে আর কেউ আসবে না। তবু শুধু ওকে পড়াতেই আসি।”

    চারটি ক্লাসরুম আর একটি বাথরুম রয়েছে গয়ার এই সরকারি স্কুলে। জাহ্নবীকে পড়ানোর জন্য রয়েছেন দু’জন শিক্ষক। ছোট্ট মেয়ের মিড ডে মিলের খাবার তৈরি করার জন্য রয়েছেন একজন রাঁধুনিও। সব মিলিয়ে ভালই চলছে জাহ্নবীর পড়াশোনা। কোনওদিন কোনও কারণে খাবার তৈরি না হলে স্থানীয় হোটেল থেকে আনিয়ে নেওয়া হয়। স্কুলের সকলেই খুব ভালবাসেন জাহ্নবীকে। সকলেই বলেন, “মেয়েটা যে ভাবে নিষ্ঠা নিয়ে পড়াশোনা করে, রোজ স্কুল আসে, অজুহাত দিয়ে কামাই করে না—এসব দেখেই ভাল লাগে। এমন ছাত্রী পেয়ে আমরাও গর্বিত।”

    স্কুলের প্রধান শিক্ষক সত্যেন্দ্র প্রসাদের কথায়, “গ্রামের কেউই নিজেদের ছেলেমেয়েকে সরকারি স্কুলে পড়াতে চান না। প্রায় সকলেই বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে ভর্তি করেছেন সন্তানকে। তবে এর মধ্যেও ব্যতিক্রম আমাদের জাহ্নবী। যা কিছুই হয়ে যা না কেন, পড়াশোনার সঙ্গে এ মেয়ে মোটেই আপোষ করতে রাজি নয়। সত্যিই আমরা জাহ্নবীর মত ছাত্রীকে আমাদের স্কুলে পেয়ে গর্বিত। ও যেন জীবনে সফল হয়, প্রতিষ্ঠিত হয়, সুখী থাকে সেই কামনাই করি।”

    ভিডিও সৌজন্যে ইউটিউব (বিহার পোস্ট) 

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More