বৃহস্পতিবার, জুলাই ১৮

আত্মা ঘুরছে আত্মঘাতী মেয়ের, অভিশাপ কাটাতে ৩ বছরের শিশুকে বলি দেওয়ার চেষ্টা বিজ্ঞান শিক্ষকের!

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আত্মঘাতী হয়েছিল মেয়ে। কিন্তু তার আত্মা নাকি ঘুরে বেড়াচ্ছে। সেই অভিশাপ কাটাতেই আত্মীয়র তিন বছরের ছেলেকে বলি দেওয়ার চেষ্টা করেছে অসমের এক পরিবার।

পুলিশ জানিয়েছে, এমন গুরুতর অভিযোগ উঠেছে অসমের ওদালগুড়ি জেলার কলাইগাঁওয়ে। যে পরিবারের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠেছে সেই পরিবারের একজন আবার পেশায় বিজ্ঞানের শিক্ষক। পুলিশ জানিয়েছে, ওই ব্যক্তির নাম যাদব শহরিয়া। অসমের রৌতার লালবাহাদুর শাস্ত্রী মেমোরিয়াল হাইস্কুলের বিজ্ঞানের শিক্ষক সে। এই নরবলির ঘটনার মূল পাণ্ডাও এই যাদবই। এমনটাই জানিয়েছে পুলিশ। 

গ্রামবাসীর জানিয়েছেন, শনিবার দুপুর থেকেই অনেকক্ষণ ধরে শহরিয়া পরিবারের বাড়ির ভিতর থেকে মন্ত্রোচ্চারণের আওয়াজ পাচ্ছিলেন তাঁরা। বুঝতেই পারেন কোনও পুজো হচ্ছে। চলছে যজ্ঞ। কিন্তু পুজোয় গ্রামের কাউকেই নিমন্ত্রণ করেনি ওই পরিবার। এতেই প্রথম সন্দেহ জাগে স্থানীয়দের মনে। তারপর বাড়ির ভিতর উঁকি মারতেই শিউরে ওঠেন গ্রামবাসীদের কয়েকজন। তাঁরা জানিয়েছেন, দাউদাউ করে জ্বলছিল যজ্ঞের আগুন। তার চারপাশের গোল করে নগ্ন অবস্থায় বসেছিলেন শহরিয়া পরিবারের সদস্যরা। চিৎকার করে মন্ত্র পড়ছিলেন ওই শিক্ষক যাদব শহরিয়া।

হঠাৎ গ্রামবাসীদের নজরে আসে যজ্ঞ কুণ্ডের পাশেই শোয়ানো রয়েছে ছোট্ট একটি ছেলেকে। বুঝতে দেরি হয়নি যে নরবলির প্রস্তুতি চলছে। তাড়াতাড়ি গ্রামবাসীরাই পুলিশকে খবর দেয়। এ হেন খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে ছুটে আসে বিশাল পুলিশবাহিনী। কিন্তু তাদের দেখেই ইট, পাথর ছুঁড়তে শুরু করে শহরিয়া পরিবারের সদস্যরা। তারা চড়াও হয় গ্রামবাসীদের উপরেও। পরিস্থিতি সামাল দিতে শূন্যে গুলি চালায় পুলিশ। সেই সময়ই আহত হন যাদব শহরিয়া এবং তার ছেলে। জানা গিয়েছে, তাদের পায়ে গুলি লেগেছে। তবে শেষ পর্যন্ত নরবলির শিকার হয়নি ওই ছোট্ট ছেলেটি। গ্রামবাসীদের তৎপরতায় এবং পুলিশের সাহায্যে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে ৩ বছরের বাচ্চাটিকে।

পুলিশ জানিয়েছে, বিজ্ঞানের শিক্ষক যাদব শহরিয়া, তাঁর স্ত্রী, ছেলে, দুই শ্যালক, দুই শ্যালিকা এবং তাদের ছেলে সহ মোট ৮ জন শনিবার বেলা ১২টা নাগাদ প্রথমে নগ্ন হয়ে পুজোয় বসেছিল। তারপর তারা নিজেদের বাড়ি এবং মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এরপর শুরু হয় তাণ্ডব নৃত্য। পুজোর শেষে  শ্যালিকার ৩ বছরের ছেলেকে বলি দেওয়ার প্ল্যান ছিল শহরিয়া পরিবারের। যাদব শহরিয়ার দাবি, তার মেয়ে চার বছর আগে আত্মঘাতী হয়েছে। কিন্তু তাদের বিশ্বাস, মেয়ের আত্মা ঘুরে বেড়াচ্ছে বাড়িতেই। আর সেই কারণেই নাকি যাদববাবুর স্ত্রী পূর্ণকান্তি দেবী গত দু’বছর ধরে নানান অস্বাভাবিক আচরণ করছে। শিশুবলি না দিলে এই শাপমুক্তি ঘটবে না। তাই শ্যালিকার ছেলেকে বলি দিয়ে গিয়েছিল ওই পরিবার।

পুলিশ জানিয়েছে, বানেইরকুচির রমেশ শহরিয়া নামে এক তান্ত্রিক শহরিয়া পরিবারকে নগ্ন হয়ে পুজো ও শিশুবলির বিধান দিয়েছিল। তারপরই এই কাণ্ড ঘটিয়েছে শহরিয়া পরিবার। ইতিমধ্যেই আটক করা হয়েছে শহরিয়া পরিবারের সব সদস্য এবং ওই তান্ত্রিককে।

Comments are closed.