বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ১৭

বিমানবন্দরের মতো রেল স্টেশনেও বোর্ডিং টাইম! পৌঁছতে হবে ট্রেন ছাড়ার ২০ মিনিট আগেই

দ্য ওয়াল ব্যুরো: হাতে সময় নিয়ে ট্রেন ধরতে যাওয়ার অভ্যাস অনেকেরই নেই। লোকাল ট্রেনের কথা তো ছেড়েই দিন, দূরপাল্লার ট্রেনের ক্ষেত্রেও রিস্ক নেওয়াটাই যেন স্বভাব অনেকের।

কিন্তু এবার আর তেমন চলবে না। দূরপাল্লার ট্রেনের ক্ষেত্রে বিমান পরিষেবার মতো এ বার চালু হতে চলেছে নির্দিষ্ট বোর্ডিং টাইম। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ট্রেন ধরার ২০ মিনিট আগে আপনাকে পৌঁছতেই হবে স্টেশনে। কারণ ট্রেন ছাড়ার ২০ মিনিট আগেই সিল করে দেওয়া হবে প্ল্যাটফর্ম চত্বর।

কিন্তু হঠাৎ কেন এই নিয়ম?

এ বার থেকে বিমানবন্দরের মতোই উন্নত প্রযুক্তির সাহায্য যাত্রীদের র‍্যান্ডম সিকিউরিটি চেকিং হবে স্টেশনের বিভিন্ন প্রবেশ পথে। আর এই চেকিংয়ের জায়গাতেই যাত্রীদের পৌঁছতে হবে ট্রেন ছাড়ার ১৫ থেকে ২০ মিনিট আগে। নির্দিষ্ট সময়ের পর আর কাউকে ঢুকতে দেওয়া হবে না বলেই জানিয়েছে রেলমন্ত্রক। ট্রেন ছাড়ার আগের এই অতিরিক্ত সময়েই হবে যাত্রীদের চেকিং। লাগেজ চেকিংয়ের জন্য থাকবে স্ক্যানিং এবং ম্যানুয়াল—দু’ধরণের চেকিং ব্যবস্থাই। এ ছাড়া ফেস রেকগনিশনের জন্য থাকবে বিশেষ ক্যামেরা। থাকবে বম্ব ডিটেকশন এবং ডিফিউজালের ( নিষ্ক্রিয় করার ) ব্যবস্থাও। আর এই গোটা পদ্ধতির নাম ইন্টিগ্রেটেড সিকিউরিটি সিস্টেম (ISS)।

এছাড়াও শেষ মুহূর্তে বহু মানুষ একসঙ্গে ট্রেন ধরতে এলে প্রায়ই থেকে যায় দুর্ঘটনার সম্ভাবনা। এর আগে ছটপুজোয় দিল্লি স্টেশনে পদপিষ্ট হয়েছেন অনেকে। কুম্ভমেলার প্রয়াগরাজ স্টেশনেও ভিড়ে পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। রেল মনে করছে, ট্রেনে চড়ার নির্দিষ্ট সময় আগে যাত্রীরা স্টেশনে পৌঁছতে পারলে, এই আশঙ্কা এড়ানো যাবে অনেকটাই।

এছাড়াও, এমনিতেই দেশ জুড়ে নিরাপত্তার বিষয়টিতে উত্তরোত্তর গুরুত্ব বাড়ানো হচ্ছে। নানা ক্ষেত্রে আনা হচ্ছে নানা নতুন নিয়ম। দূরপাল্লার ট্রেনও তার ব্যতিক্রম নয়। শেষ মুহূর্তে এসে পৌঁছে অনেকেই বিনা চেকিংয়ে ট্রেনে উঠে যেতে পারেন বদ উদ্দেশ্য নিয়ে। সে সব রুখতেই নতুন নিয়ম আনতে চায় রেল।

দেশের ২০২টি স্টেশনে চালু হবে এই নিয়ম। এমনটাই জানিয়েছেন, আরপিএফের ডিরেক্টর জেনারেল অরুণ কুমার। তিনি আরও জানিয়েছেন, কুম্ভমেলার আগে প্রয়াগরাজ স্টেশনে এই পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেলমন্ত্রক। কর্নাটকের হুবলি স্টেশনেও চালু হবে এই পরিষেবা। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করতে হলে যে প্ল্যাটফর্মগুলিতে এই নিয়ম কার্যকর করা হবে সেগুলিকে আলাদা বাউন্ডারি ওয়াল দিয়ে ঘিরে ফেলতে হবে। উন্নত প্রযুক্তির চেকিংয়ের পাশাপাশি মোতায়েন থাকবেন প্রচুর পরিমাণ আরপিএফ। গোটা পরিকল্পনার জন্য খরচ হবে প্রায় ৩৮৫.‌০৬ কোটি টাকা।

Shares

Comments are closed.