শুক্রবার, ডিসেম্বর ৬
TheWall
TheWall

কংগ্রেসের শক্তি আঞ্চলিক নেতারাই, প্রমাণ করলেন ভূপেন্দ্র সিং হুডা  

শোভন চক্রবর্তী

গতবার পঞ্জাবের ভোটের সময়ে সেখানে কী ছিল কংগ্রেসের? কার জোরে ভোট লড়েছিল সাবেক দল? এই প্রশ্নের উত্তরে অনেকেই বলেন, ওখানে ক্যাপ্টেনই সব। পঞ্জাবের এখনকার মুখ্যমন্ত্রী ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিং। রাহুল গান্ধী বা সনিয়া গান্ধীর মুখ দিয়ে নয়, বরং ক্যাপ্টেনের মুখকে পুঁজি করেই ভোট লড়েছিল কংগ্রেস। জিতেওছিল।

গত ডিসেম্বরে মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, ছত্তীসগড়েও বিজেপি সরকারকে সরিয়ে ক্ষমতা দখল করেছিল কংগ্রেস। রাজস্থানে সেই লড়াইয়ে সারথি ছিলেন শচীন পাইলট। আর মধ্যপ্রদেশের জন্য দেড় বছর আগে দিল্লি থেকে ভোপালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল কমলনাথকে। ফল মিলেছিল হাতেনাতে।

বৃহস্পতিবার হরিয়ানার ভোটও প্রমাণ করে দিল, কংগ্রেসকে ঘুরে দাঁড়াতে গেলে ভরসা করতে হবে আঞ্চলিক নেতাদের উপরেই। জাঠ রাজ্যে গেরুয়া ঝড় কার্যত রুখে দিয়েছে বর্ষীয়ান ভূপেন্দ্র সিং হুডার নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস। সরকার গঠনের ক্ষেত্রে পরে কী অঙ্ক, দর কষাকষি দাঁড়াবে সেটা পরের কথা। কিন্তু প্রাথমিক ভাবে রেজাল্ট শিট দেখে অনেকেই মনে করছেন, দশ জনপথের মুখ দেখিয়ে ভোট জেতার কৌশল কার্যত ব্রাত্য হয়ে পড়েছে। হরিয়ানা তা আরও একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।

এই রাজ্যে মোট আসন ৯০। সরকার গড়তে গেলে দরকার ৪৬। ভোটের দিন অনেক সংস্থাই বুথ ফেরত সমীক্ষায় বলেছিল, হরিয়ানায় গেরুয়া শিবির হাসতে হাসতে সরকার গড়ে ফেলবে। গতবার এই সংখ্যা নিয়েই মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন মনোহরলাল খট্টর। বুথ ফেরত সমীক্ষাগুলি বলতে শুরু করেছিল, এবার আর টায়েটুয়ে নয়, হইহই করে মুখ্যমন্ত্রী হবেন খট্টর। মঙ্গলবার অ্যাক্সিস তাদের হরিয়ানা সমীক্ষা প্রকাশ করে বলেছিল, সরকার গঠন করতে বিজেপির কষ্ট আছে! শুধু তাই নয়, অ্যাক্সিসের সমীক্ষায় যে আসন সংখ্যার পূর্বানুমান করা হয়েছিল, তাতে দেখা গিয়েছিল হরিয়ানা ত্রিশঙ্কুর পথে। ফল বেরনোর পর দেখা যাচ্ছে সেই দিকেই এগোচ্ছে হরিয়ানা।

পর্যবেক্ষকদের মতে, একটা সময় সারা দেশে কংগ্রেসের শক্তি বৃদ্ধি হয়েছিল আঞ্চলিক নেতাদের কাঁধে ভর করেই। তাঁদের মতে, তখনও সর্বভারতীয় স্তরে ইন্দিরা গান্ধী বা রাজীব গান্ধীর মুখকে ব্যবহার করেই ভোট লড়ত কংগ্রেস, কিন্তু এই রকম হাইকম্যান্ড সংস্কৃতি জাঁকিয়ে বসেনি। দিল্লিই সব, আর নিচু তলায় কিছু নেই—এই ছবি ছিল না। বাংলার ক্ষেত্রেও দেখা যেত গণিখান চৌধুরী, প্রিয়রঞ্জন দাসমুন্সিদের নামে উদ্বেল হতো কংগ্রেসিরা। দু’দশক আগেও দেখা যেত অন্ধ্রপ্রদেশে রাজশেখর রেড্ডি, মহারাষ্ট্রে বিলাস রাও দেশমুখের মতো শক্ত নেতারা রাজ্যে রাজ্যে নেতৃত্ব দিচ্ছেন কংগ্রেসকে। কিন্তু সে ছবি এখন কোথায়? অনেকের মতে, আঞ্চলিক নেতাদের দুর্বল করতে কংগ্রেসের অনেক হাই কম্যান্ডের নেতারও ভূমিকা রয়েছে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, হরিয়ানাতেও হুডাকে সরিয়ে রাহুল গান্ধী অশোক তাওয়ারকে সভাপতি করে দিয়েছিলেন। দেখাতে চেয়েছিলেন, একজন দলিতকে দলের এই স্তরে তুলে এনেছেন তিনি। কিন্তু সেই বৃদ্ধ হুডাকে দিয়েই ভোট লড়তে হয়েছে কংগ্রেসকে। পর্যবেক্ষকদের আরও মত, এই রোমান্টিসিজম রাজনীতিতে চলে না। ক্ষমতার রাজনীতিতে যে ভাষা চলে সে ভাষাতেই কথা বলতে হয়। হরিয়ানার ফল সর্বভারতীয় কংগ্রেসকে সেই বার্তাই দিল বলে মনে করছেন তাঁরা। এরপরেও কি বুঝবেন রাহুল-সনিয়া?

 

Comments are closed.