সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৬

গুজরাত-উত্তরাখণ্ডের পর এ বার উত্তরপ্রদেশ এবং মধ্যপ্রদেশ, সাফ জানালো চড়া ট্রাফিক ফাইন আদায় করবে না

দ্য ওয়াল ব্যুরো: গুজরাত এবং উত্তরাখণ্ডের পর এ বার উত্তরপ্রদেশ এবং মধ্যপ্রদেশ সরকারও সাফ জানিয়েছে এত চড়া হারে ট্রাফিক ফাইন আদায়ের পক্ষপাতী নয় তারা। বিজেপি শাসিত রাজ্য গুজরাত অবশ্য আগেই নয়া মোটর ভেহিকেল অ্যাক্ট অনুযায়ী অতিরক্ত চড়া হারে ফাইন আদায়ের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছিল। বুধবার প্রথমে দিকে সেই তালিকায় নাম জুড়েছিল আর এক বিজেপি শাসিত রাজ্য উত্তরাখণ্ডের। এ বার সেই তালিকায় সংযোজন হয়েছে আরও দুই রাজ্য, উত্তরপ্রদেশ এবং মধ্যপ্রদেশ। ফলে ক্রমশই নয়া ট্রাফিক আইন নিয়ে অস্বস্তি বাড়ছে কেন্দ্রীয় সরকারের।

কেন্দ্রের নতুন মোটর ভেহিকল আইন অনুযায়ী পথেঘাটে আইন ভাঙলে বিপুল পরিমাণ জরিমানা দিতে হবে অভিযুক্ত ড্রাইভারকে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধায় সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি এত বেশি ফাইন নেওয়ার পক্ষপাতী নন। সেই কারণে নতুন আইন তিনি বলবৎ করছেন না। কেন্দ্রীয় পরিবহণ মন্ত্রী নীতিন গড়করি বলেছেন, আমরা রাজস্ব বৃদ্ধি করার জন্য এত ফাইন নিচ্ছি না। দুর্ঘটনার সংখ্যা কমানোই আমাদের উদ্দেশ্য। বিজেপি শাসিত কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী বি এস ইয়েদুরাপ্পাও ইঙ্গিত দিয়েছেন, তিনি গুজরাত ও উত্তরাখণ্ডের পথে যাওয়ার কথা ভাবছেন। ট্রাফিক জরিমানা কতটা কম হারে নেওয়া যায়, সেই ব্যাপারটা খতিয়ে দেখতে তিনি সরকারি অফিসারদের নির্দেশ দিয়েছেন।

একইসঙ্গে শোনা যাচ্ছে, আগামী দিনে আরও কয়েকটি রাজ্য কেন্দ্রের বেঁধে দেওয়া হারে ফাইন নিতে অস্বীকার করতে পারে। ইতিমধ্যে বিহার, ওড়িশা, গোয়া, মহারাষ্ট্র এবং কেরলও জানিয়ে দিয়েছে, তারা নতুন আইন অনুযায়ী চড়া হারে জরিমানা নেবে না। অপর কয়েকটি রাজ্যের পরিবহণ সচিবরা নতুন মোটর ভেহিকল আইন নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেছেন।

বুধবার উত্তরাখণ্ডের মন্ত্রিসভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, কেন্দ্রের আইন অনুযায়ী রাজ্যে চড়া হারে ট্রাফিক ফাইন নেওয়া হবে না। নীতিন গড়করি তার পরেই জানিয়ে দিয়েছেন, রাজ্য সরকার নিজেদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ট্রাফিক ফাইন নিতে পারে। একইসঙ্গে তিনি রাজ্যগুলিকে জানিয়ে দিয়েছেন, জরিমানা করে রাজস্ব আদায় করা কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্দেশ্য নয়। মানুষ যাতে ট্রাফিক আইন মানতে বাধ্য হয়, সেজন্যই অত বেশি হারে জরিমানা ধার্য করা হয়েছে।

তাঁর কথায়, মানুষ যাতে নতুন আইনকে ভয় পায়, মেনে চলে, সেজন্য চড়া হারে জরিমানার ব্যবস্থা করা হয়েছে। যে রাজ্যগুলি অত ফাইন নিতে রাজি নয়, তাদের উদ্দেশে গড়করির বক্তব্য, দেশে প্রতি বছর দেড় লক্ষ মানুষ পথ দুর্ঘটনায় মারা যান। যাঁদের দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়, তাঁদের বেশিরভাগেরই বয়স ১৮ থেকে ৩৫-এর মধ্যে। আপনারা কি এর জন্য উদ্বিগ্ন নন?

গড়করিকে প্রশ্ন করা হয়, আপনি কি কোনও রাজ্য সরকারের সঙ্গে কথা বলেছেন? তিনি বলেন, নতুন করে কথা বলার দরকার নেই। আমরা আগেই তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। কেন্দ্র ও রাজ্য, উভয়েরই দায়িত্ব মানুষের জীবন বাঁচানো। আমরা নতুন আইন কার্যকর করার আগে সব রাজ্যের মুখ্য সচিব ও পরিবহণ সচিবের সঙ্গে কথা বলেছি।

Comments are closed.