রাতভর গুলির লড়াই অনন্তনাগে, খতম ২ জঙ্গি, উদ্ধার অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র

২০

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাতভর গুলির লড়াইয়ে অনন্তনাগে খতম হয়েছে ২ লস্কর জঙ্গি। গতকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার সন্ধে থেকেই সংঘর্ষ শুরু হয়েছিল অনন্তনাগের সিরহামা এলাকায়। সূত্রের খবর, গতকাল সকালেও এই এলাকায় সেনা-জঙ্গি সংঘর্ষ হয়েছিল। নিহত ২ জঙ্গি লস্কর-ই-তৈবার সদস্য সেটা জানা গেলেও তাদের নাম-পরিচয় এবং তারা কোথাকার বাসিন্দা তা জানা যায়নি।

নিরাপত্তাবাহিনীর কাছে গোপন সূত্রে আগে থেকেই খবর ছিল যে সিরহামা এলাকায় গা-ঢাকা দিয়েছে জঙ্গিরা। সেই সূত্র ধরেই গতকাল অভিযান শুরু করে সেনাবাহিনী। তবে নিরাপত্তারক্ষীদের উপস্থিতি টের পেয়েই এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে জঙ্গিরা। পাল্টা জবাব দেয় সেনাও। দু’পক্ষের সংঘর্ষে খতম হয়েছে ২ জঙ্গি। মৃত জঙ্গিদের কাছ থেকে অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র, কার্তুজ-সহ জেহাদি বিষয়ক কাগজপত্রও উদ্ধার হয়েছে। ওই এলাকায় আর কোনও জঙ্গি লুকিয়ে রয়েছে কিনা তা জানতে এখনও জারি রয়েছে তল্লাশি অভিযান।

অন্যদিকে আজ সকালে দক্ষিণ কাশ্মীরে কর্তব্যরত সিআরপিএফ জওয়ানদের উপর হামলা চালায় জঙ্গিরা। আচমকাই গ্রেনেড ছোড়ে তারা। এই জঙ্গিদের পরিচয় পাওয়া যায়নি। এই ঘটনায় কারও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। কড়া নিরাপত্তায় ওই এলাকা মুড়ে ফেলা হচ্ছে। চলছে তল্লাশি অভিযান। কোনও জঙ্গি লুকিয়ে থাকলে তারা যাতে পালাতে না পারে সেদিকে কড়া নজর রয়েছে।

এছাড়া গতকাল সকালে পুলওয়ামায় নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে জঙ্গিদের সংঘর্ষ হয়েছিল। দক্ষিণ কাশ্মীরের পুলওয়ামা জেলার মাঘামা অঞ্চলে হওয়া এই এনকাউন্টারে একজন জঙ্গি খতম হয়েছে। তার নাম-পরিচয় এবং সে কোন জঙ্গি সংগঠনের সদস্য তা জানা যায়নি। এই ঘটনায় নিরাপত্তাবাহিনীর কেউ আহত হননি। কারও মৃত্যুও হয়নি।

এছাড়াও বুদগামের ওয়াদিপোরা সরাই এলাকায় সিআরপিএফ জওয়ানদের উপর হামলা চালায় জঙ্গিরা। প্রথমে তারা গ্রেনেড ছোঁড়ে সিআরপিএফ জওয়ানদের উপর। তারপরে জঙ্গিরা এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে থাকে। জঙ্গিদের গুলিতে একজন সিআরপিএফ জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। জানা গিয়েছে, শহিদ জওয়ানের নাম এন বাদোলে। তিনি নাগপুরের বাসিন্দা।

গত কয়েক মাসে বারবার সেনা-জঙ্গি সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়েছে জম্মু ও কাশ্মীরের উপত্যকা। সীমান্ত বরাবর জঙ্গি অনুপ্রবেশের সংখ্যাও বেড়েছে। তবে তৎপরতার সঙ্গে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তা রুখতে সক্ষম হয়েছেন জওয়ানরা। সদ্যই উপত্যকার পুলিশ প্রধান দিলবাগ সিং বলেছেন যে, জম্মু-কাশ্মীরের শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট করা পাকিস্তানের একমাত্র লক্ষ্য। নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর এবং জম্মু-কাশ্মীরের আন্তর্জাতিক সীমান্ত বরাবর জঙ্গিদের অনুপ্রবেশ করানোর পাশাপাশি ড্রোনের সাহায্যে জঙ্গিদের জন্য অস্ত্রশস্ত্রও সরবরাহ করা হচ্ছে। জম্মু-কাশ্মীরের বিভিন্ন এলাকায় ড্রোন থেকে অস্ত্র ফেলে দেওয়া হচ্ছে। এসব ড্রোনকে খুঁজে বের করা বেশ কঠিন। তবে পাকিস্তানের এইসব কৌশল ভেস্তে দেওয়ার জন্য তৈরি রয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ।

এছাড়াও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় নিন্দা করে তিনি আরও বলেছেন যে, যেনতেনপ্রকারেণ জম্মু-কাশ্মীরে জোর করে জঙ্গি ঢোকাতে চাইছে পাকিস্তান। সে জন্য বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনকে সবরকম সাহায্য দেওয়া হচ্ছে। উপত্যকায় সন্ত্রাসবাদকে মদত দেওয়াই পাকিস্তানের আসল লক্ষ্য।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More